বাইরে নেই, করিমপুরে না কি ‘ভিতরে’ রয়েছে সিপিএম!

0

করিমপুর থেকে নিজস্ব প্রতিবেদন

২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে সিপিএমের কাছ থেকে নদিয়ার করিমপুর ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল। তিন বছর পর সেই আসনই পুনরুদ্ধার করতে কোমর বেঁধে নেমেছে বামফ্রন্ট। সঙ্গে দোসর কংগ্রেস। কিন্তু তৃণমূল-বিজেপির থেকে প্রচারের ভারে অনেকটাই পিছিয়ে বামপ্রার্থী। এ প্রসঙ্গে এক বাম সমর্থকের দার্শনিক জবাব, “বাইরে না থাকলেও ভিতরে আছে সিপিএম”।

১৯৭৭ সালের পর থেকে টানা ৩৯ বছর করিমপুরের কর্তৃত্ব ছিল বামেদের হাতেই। এমনকী ২০১১-য় তৃণমূল-ঝড়েও রাজ্যের সীমান্তবর্তী এই কেন্দ্রে অটুট রয়ে যায় সিপিএমের দুর্গ। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও সিপিএম প্রার্থী সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ তৃণমূলের মহুয়া মৈত্রের থেকে পিছিয়ে ছিলেন মাত্র হাজার পনের ভোটে। তবে ক্ষয় স্পষ্ট হয় গত লোকসভা ভোটে। গোটা রাজ্যের মতোই চমকপ্রদ ফল করে বিজেপি। তা সত্ত্বেও এ বারের উপনির্বাচনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবল চেষ্টা চালাচ্ছে বামফ্রন্ট-কংগ্রেস জোট।

উপনির্বাচনে করিমপুরে জোট প্রার্থী করা হয়েছে আইনজীবী গোলাম রাব্বিকে। তাঁর সমর্থনে প্রচার অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই জোটপ্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করেছেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। উভয়েই বিজেপি-তৃণমূলের গোপন আঁতাঁতের কথা তুলে ধরেছেন। মূলত সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত এলাকায় জোটের প্রচারে জনসমাগম মোটের উপর মন্দ নয়। তবুও এলাকার একটা অংশের মতে, যাই করুক, সিপিএমের আর ফেরার কোনো সম্ভাবনা নেই। কেন?

করিমপুর পুরনো বাসস্ট্যান্ডের এক শাড়ি ব্যবসায়ীর কথায়, “সিপিএম এখানে অস্তিত্বহীন। আসল লড়াইটা তৃণমূল-বিজেপির। দু’টো দল জোট বেঁধে লড়লেও তাদের যেতে হতে পারে তিন নম্বরে। তৃণমূল অথবা বিজেপির মিটিংয়ে আধঘণ্টা দাঁড়ান, একবার হলেও ‘হার্মাদ’ শব্দটা শুনতে পাবেন। এত দিন পরেও সেই পুরনো তত্ত্ব এখনও কাজে দিচ্ছে বলেই মনে হয়।”।

তবে জামতলা এলাকার এক স্টেশনারি দোকানের মালিকের স্বত‌ঃপ্রণোদিত উক্তি, “দাদা, এখানে সিপিএম বাইরে নেই, কিন্তু ভিতরে ভিতরে যে ভাবে প্রচার চালানো দরকার, সেটা চলছে। এখন ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষার সময়। দু’টো দল মাইক বাজাচ্ছে সারা দিন। পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। শুধু বড়ো রাস্তায় নয়, অলিতে-গলিতেও ট্যাবলো গাড়ি মাইক মাথায় ঘুরছে। এখানে-ওখানে সভা উপলক্ষেও মাইক বাজছে। সিপিএম না হয় বাজাল না, তাতে কী হয়েছে”?

একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ আরও পিছোচ্ছে, সে দিকে হেলদোল নেই কোনো সরকারেরই। এই অংশের মানুষের ভোট পাবে না তৃণমূল-বিজেপি”।

golam-rabbi
দরজায় দরজায় বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী

করিমপুর শহর এলাকা ছাড়িয়ে প্রায় ১০ কিমি দুরের হোগলবেড়িয়া, রাজাপুর বাজারের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় অবশ্য সিপিএমের প্রভাব রীতি মতো চোখে পড়ার মতো। সেখানে অবশ্য সিপিএম ভিতরে কতটা রয়েছে, তা খালি চোখে ধরা না পড়লেও বাইরে বেশ ঝাঁঝালো। দেওয়াল লিখন থেকে, রাস্তার ধারে পতাকা, ছোটো ছোটো প্রচারসভা- সবেতেই সিপিএমের জোরালো উপস্থিতি।

সিপিএম এখানে প্রার্থী করেছে তেহট্ট মহকুমা আদালতের তরুণ আইনজীবী গোলাম রাব্বিকে। ভিতর-বাইরে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষ জোটের পক্ষে মানুষ সমর্থন জানাচ্ছেন। অতীতে কিছু ভুল থাকলেও তা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। ভিন দলে যাওয়া অথবা অভিমানে বসে যাওয়া অসংখ্য বাম কর্মী-সমর্থক ফের দলের প্রচারে অংশ নিচ্ছেন”।

পিছন থেকে এক প্রবীণ বাম-সমর্থক বলে উঠলেন, “এটা আগে ছিল নদিয়ার ভিয়েতনাম, এ বারের ভোটের ফলাফলেই টের পাবেন”!

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.