মানুষের জীবনযন্ত্রণার ভাগিদার হতে চান করিমপুরের সিপিএম প্রার্থী

0

নদিয়ার করিমপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ২৫ নভেম্বর। মূলত ত্রিমুখী লড়াইয়ে তৃণমূল, বিজেপি এবং বামফ্রন্ট-কংগ্রেসের প্রচার তুঙ্গে। প্রচার-ব্যস্ততার মাঝেই খবর অনলাইনের মুখোমুখি সিপিএম প্রার্থী গোলাম রাব্বি

২০১৬-র আগে করিমপুর ছিল বামফ্রন্টের দখলেই। এই আসন পুনরুদ্ধারে কী ভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন?

করিমপুর এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই বামপন্থীদের গড় হিসাবে পরিচিত ছিল। মানুষ ইতিমধ্যেই তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মুখোশ খসে পড়েছে। অন্য দিকে বিজেপির মুখোশও উন্মুক্ত হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ চাইছে পুরনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে। প্রচারে বেরিয়ে সেটাই দেখছি। প্রচুর মানুষ আমাদের সঙ্গে আসছে। ফলে আমরা আশাবাদী, এই নির্বাচনে করিমপুর পুনরুদ্ধার করতে সফল হব আমরা।

এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী। তাদের জন্য বিশেষ কোনো দাবির কথা তুলে ধরছেন?

অবশ্যই। নিশ্চিত ভাবেই কৃষি আমাদের ভিত্তি। কিন্তু গত কয়েক বছরে দেখছি, সংবাদ মাধ্যমে কৃষকের উন্নয়নে যে ভাবে প্রচার করা হচ্ছে, তার কিছুই বাস্তবে হয়নি। কৃষকের ঘরে উন্নয়ন পৌঁছানোর ক্ষেত্রে যে ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে, তা মানুষ তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাতেই বুঝতে পারছে। সে সব কথা তারা আমাদের কাছে বলছে। এখানে পান চাষিরা রয়েছে, তারা যে তিমিরে ছিল, সেখানেই রয়ে গিয়েছে। বিগত বিধানসভা বা লোকসভা ভোটে তৃণমূল যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পালন করতে পারেনি। এবং মানুষের কাছে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছিল, তা পালন না করায় করিমপুরের কৃষকের কোনো স্বার্থরক্ষা হয়নি।

এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে আর কোন কোন ইস্যুর কথা তুলে ধরছেন?

করিমপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি রেলপথ। এখানকার কৃষক যে পান বা অন্যান্য সবজি উৎপাদন করছে, তা যদি সরাসরি কলকাতায় পৌঁছানো যায়,তা হলে সুবিধা সব দিক থেকেই বৃদ্ধি পাবে। একই ভাবে কলা চাষিরা নিজেদের পণ্যের সঠিক মূল্য পায় না। মাঝে ফড়েদের খপ্পরে পড়তে হয়। কিন্তু তা যদি সরাসরি কলকাতায় পৌঁছানো যায়, তারা উপকৃত হবে। এখানে রেলপথের দাবি দীর্ঘদিনের। বাম জমানাতেও রেলপথের দাবিতে আমরা সরব হয়েছিলাম। এখনও হচ্ছি। করিমপুর থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত রেলপথের দাবিতে যুব সংগঠনের তরফে আমরা রাস্তায় হেঁটেছিলাম। এমনই কিছু দাবি পূরণের কথা আমরা প্রচারে তুলে ধরছি। মানুষ আমাদের সঙ্গে থাকার আশ্বাস দিচ্ছে।

একশো দিনের কাজের প্রকল্পের গতিপ্রকৃতি কী রকম?

একশো দিনের কাজের গতিপ্রকৃতি দুর্বিষহ। গোটা রাজ্যে একশো দিনের কাজের অবস্থা যে রকম,করিমপুরও তার বাইরে নয়। বুথের অভ্যন্তরে একশো দিনের টাকা লুঠ করা হচ্ছে। পুরো টাকাটাই দশজন মিলে লুঠপাট করে খাচ্ছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নের জন্য, মানুষের উন্নয়নের জন্য তা খরচ করা হচ্ছে না। আমরা অন্তত গ্রামগঞ্জের দিকে তেমন কিছু দেখছি না।

এনআরসির প্রভাব ভোটবাক্সে পড়বে?

আমরা বাম-গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষ থেকে বলছি, এ রাজ্যে এনআরসি হতে দেব না। শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে আমরা এনআরসি হতে দেব না। এনআরসির বিরুদ্ধে তৃণমূলের যে লড়াই সেটা মেকি। তাদের মুখের কথার সঙ্গে কাজের কোনো মিল নেই। মানুষে-মানুষে ভাগ করার রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গে বেশি দিন চলতে পারে না।

অনেকেই বলছেন, করিমপুরে বামপন্থীরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছেন?

যাঁরা বলছেন, বামপন্থীরা নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছেন, তাঁরা সঠিক জানেন না। কারণ বামপন্থার মৃত্যু নেই। আমাদের সমাজব্যবস্থায় যতদিন অনাহার, দারিদ্র, অশিক্ষা, নিপীড়ন থাকবে, ততদিন বামপন্থাও থাকবে। সারা পৃথিবীর ক্ষেত্রেই এ কথা প্রযোজ্য। কিন্তু রাজ্য অথবা কেন্দ্রের যে দল মানুষের বিরুদ্ধে সরকার পরিচালনা করছে, মানুষের জীবনযন্ত্রণা যাদের লাঘব করার কথা, তার বদলে তারা বাড়িয়ে তুলেছে। তাদের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই। সেই লড়াইয়ে মানুষ জয়ী হবে। করিমপুরের মানুষও আজ সে কারণেই জোটবদ্ধ। নিপীড়িত মানুষ ঐক্যবদ্ধ তাদের বিরুদ্ধে জবাব দেবে।

golam-rabbi
দরজায় দরজায় বাম-কংগ্রেস জোট প্রার্থী

করিমপুরের ভোটারদের উদ্দেশে কী বলবেন?

মানুষের সঙ্গে আছি। করিমপুর বিধানসভা এলাকার মানুষ তাদের সুখে-দুখে আমাকে পাবে। মানুষের জীবনযন্ত্রণা ভাগিদার হতে চাই আমি। তাদের উদ্দেশে এ কথা বলতে চাই, তারা যদি আমাকে ডাকে, আমি তাদের সঙ্গে রয়েছি।

নিজের জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?

জয়ের ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত। মানুষ যে ভাবে স্বত‌ঃস্ফূর্ত ভাবে এগিয়ে আসছে, মানুষের জয় হবেই।

বিস্তারিত দেখুন নীচের ভিডিয়োয়-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.