Connect with us

ধর্মকর্ম

শান্তিপুরে ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে শ্রীশ্রীঅদ্বৈতাচার্যের আবির্ভাব মহোৎসব

উৎসব চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অবধি। পালিত হবে চিঁড়ে-মুড়কির মহোৎসব, নগরকীর্তন ইত্যাদি।

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

১৪৩৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান বাংলাদেশের শ্রীহট্টের লাউড় গ্রামে মাঘী সপ্তমীতিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন কমলাক্ষ, পরবর্তীকালে যিনি হয়ে উঠলেন অদ্বৈতাচার্য্। শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামীবাড়িতে শুক্রবার ধুমধাম করে পালিত হল প্রভুর আবির্ভাব মহোৎসব। ‘গৌর আনা ঠাকুর’ শ্রীশ্রীঅদ্বৈতাচার্যের আবির্ভাব উপলক্ষ্যে ১২ দিন ধরে পালিত হচ্ছে।

Loading videos...

১২ বছর বয়সে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে কমলাক্ষ চলে আসেন শান্তিপুরে উচ্চতর বিদ্যার জন্য। তিনি ফুলিয়ার শান্তাচার্য পণ্ডিতের কাছে পড়াশোনা করতেন। সেই সময় ফুলিয়া আর শান্তিপুর এক সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং একটি স্থান হিসাবে পরিচিত ছিল।

কমলাক্ষ গুরুগৃহে থাকতেন এবং সেখানে বেদ, ষড়দর্শন পাঠ করে ‘বেদপঞ্চানন’ উপাধিও পেয়েছিলেন। সন্তানের ‘বেদপঞ্চানন’ উপাধি পাওয়ার কথা শুনে কমলাক্ষের পিতা কুবের মিশ্র ও মা লাভাদেবী শান্তিপুরে চলে আসেন। শান্তিপুরে আসার অল্প দিনের মধ্যেই তাঁরা মারা যান। তখন কমলাক্ষের বয়স ১৭ কি ১৮ বছর। তাঁদের পারলৌকিক কাজের পর কমলাক্ষ ভারতভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন।

ভারতভ্রমণে বেরিয়ে তীর্থসমূহে ঘুরতে ঘুরতে একদিন দক্ষিণ ভারতে শ্রীমাধবাচার্য্ আশ্রমে শ্রীমাধবেন্দ্রপুরীর সঙ্গে পরিচয় ঘটে। শ্রীমাধবেন্দ্রপুরী তাঁর শিক্ষা ও ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে দীক্ষা প্রদান করেন এবং কমলাক্ষের নাম হয় অদ্বৈতাচার্য্। ঈশ্বর অভেদ তাই ‘অদ্বৈত’ এবং অগাধ পাণ্ডিত্যের কারণে ‘আচার্য’- এই দুই মিলে শ্রীমাধবেন্দ্রপুরী তাঁর নামকরণ করেন অদ্বৈতাচার্য্।

সেই সময়ে গোঁড়া ব্রাহ্মণদের দাপট এবং রাজ-শাসনের বিধিনিষেধ ভেঙে অদ্বৈতাচার্য্ সমাজের অনাচার দূর করার কাজে নিজেকে নিযুক্ত করেন। তাই নিয়ে এসেছিলেন শ্রীশ্রীচৈতন্যদেবকে। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, অদ্বৈতপ্রভুর সাধনাসিদ্ধ আহ্বানে সাড়া দিয়ে মহাপ্রভু ধরায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। তাই অদ্বৈতাচার্য্কে ‘গৌর আনা ঠাকুর’ বলেও অভিহিত করা হয়।

অদ্বৈতপ্রভু ভারত ভ্রমণে বেরিয়ে নেপালের গণ্ডকী নদী থেকে একটি নারায়ণশিলা পান, যা তিনি নিজে পুজো করতেন। বর্তমানে সেই নারায়ণশিলার পুজো হয়  তাঁরই বংশধরদের বাড়িতে, শান্তিপুরে যে বাড়ি বড়ো গোস্বামীবাড়ি বলে পরিচিত।

কথা হচ্ছিল বড়ো গোস্বামীবাড়ির সদস্য সুদীপ্ত গোস্বামীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, শুক্রবার সকালে মঙ্গলারতির পর অদ্বৈতপ্রভুর প্রাপ্ত নারায়ণশিলার অভিষেক হয়। তার পর পাঠবাড়ি আশ্রম, নবদ্বীপের সমাজবাড়ি-সহ বিভিন্ন জায়গার বৈষ্ণবদের উপস্থিতিতে কীর্তনের আসর বসে।

উৎসব চলবে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি অবধি। পালিত হবে চিঁড়ে-মুড়কির মহোৎসব, নগরকীর্তন ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: বরানগরের জয় মিত্র কালীবাড়িতে পশুবলি বন্ধ হয়েছিল বালানন্দ ব্রহ্মচারীর বিধানে  

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কলকাতা

Bengali New Year: সুরক্ষাবিধি মেনেই নববর্ষের পুজো হবে বিভিন্ন কালীমন্দিরে

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অবস্থা আরও নাজেহাল। তা হলে এ বার পয়লা বৈশাখে কি বাঙালি আনন্দ করতে পারবে?

Published

on

কালীঘাটের মা কালী।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

উৎসবপ্রিয় বাঙালির জীবনে দু’টি পার্বণ বেশ জনপ্রিয়, একটি দুর্গাপুজো আর একটি পয়লা বৈশাখ। দুর্গাপুজোর সময় যেমন বাঙালি মেতে ওঠে ঠাকুর দেখা, নতুন জামাকাপড় পরার আনন্দে, তেমনি পয়লা বৈশাখে মেতে ওঠে হালখাতা, মিষ্টিমুখ ইত্যাদির মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের আনন্দে। তবে গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে বাঙালিকে গৃহবন্দি থাকতে হয়েছিল এই দিনটিতে, পুজোতেও যে তেমন আনন্দ করতে পেরেছিল তারা তাও নয়।

Loading videos...

এ বছরেও করোনা পরিস্থিতি একেবারেই ভালো নয়। বরং করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে অবস্থা আরও নাজেহাল। তা হলে এ বার পয়লা বৈশাখে কি বাঙালি আনন্দ করতে পারবে? উৎসবপ্রিয় মানুষে কি পৌঁছে যেতে পারবে বিভিন্ন মন্দিরে নতুন বছরের পুজো দিতে? কী বলছেন কলকাতার বিভিন্ন মন্দিরের সঙ্গে যুক্ত সদস্যরা? তাঁরা কতটা ছাড় দিচ্ছেন এ বার পয়লা বৈশাখে? সব কিছু নিয়েই এখন চলছে জোর আলোচনা। এরই মধ্যে হয়তো কলকাতার মানুষজন নতুন বছরের হালখাতা করতে দোকানে দোকানে পৌঁছে যাবেন এ বারও।

তিলোত্তমা মানেই ঐতিহ্য এবং সেই ঐতিহ্যের এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হল কালীঘাট মন্দির। কথায় আছে বঙ্গদেশ কালীক্ষেত্র, অর্থাৎ এখানে মহামায়া আদ্যাশক্তি হলেন সর্বময় কর্ত্রী। ভক্তদের  উপচে পড়া ভিড়, সবার হাতে পুজোর থালা এবং সঙ্গে এক জোড়া লক্ষ্মী-গণেশ, পয়লা বৈশাখে এ যেন এক অতিপরিচিত ছবি কালীঘাটে।

মা করুণাময়ী, টালিগঞ্জ।

গত বছর করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কেউই সে ভাবে নতুন বছরের প্রথম দিন প্রণাম করতে যেতে পারেননি কালীঘাটের কালীকে। তবে এ বছর পয়লা বৈশাখে ভক্তদের পুজো দিতে দেখা যাবে কালীঘাটে, বিভিন্ন নিয়মবিধি মেনেই। করোনার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হলেও নতুন বছরে তাঁরা সবাই মাকে দর্শন করতে যেতে পারবেন। তবে মাস্ক পরে যেতে হবে এবং মন্দির কমিটির তৈরি সমস্ত নিয়মবিধি মানতে হবে। তা ছাড়া একসঙ্গে সবাইকে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না জানানো হয়েছে মন্দির কমিটির তরফ থেকে। সকলের জন্য স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং মন্দিরে প্রবেশের আগে থার্মাল স্ক্রিনিং-এর ব্যবস্থাও থাকছে।

কালীঘাটের মন্দির থেকে একটু দূরেই রয়েছে আরও এক প্রাচীন মন্দির। টালিগঞ্জের করুণাময়ী কালীমন্দির, যে মন্দিরের ইতিহাস বহু দিনের এবং বহু ভক্তের সমাগম ঘটে এই মন্দিরে। কালীঘাটের মন্দিরের মতো করুণাময়ী কালীমন্দিরও সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারেরই প্রতিষ্ঠিত। নন্দদুলাল রায় চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মা করুণাময়ী কালীকে এবং রানি রাসমণি এই বিগ্রহ দেখেই তৈরি করান দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী। করুণাময়ী কালীমন্দিরেও সমস্ত প্রশাসনিক নিয়মবিধি মেনে পয়লা বৈশাখের পুজো দেওয়া যাবে।

সিদ্ধেশ্বরী কালী, বেহালা।

সকাল ৬টা থেকে পুজো শুরু হবে বলেই জানালেন মন্দির কমিটির সদস্য অশোক রায় চৌধুরী। তিনি জানান, সকলকে মাস্ক পরে আসতে হবে মন্দিরে এবং সঙ্গে প্রসাদের মিষ্টি আনলেও কোনো ফুল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। এ ছাড়া স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকবে হবে। মন্দিরের গর্ভগৃহের সামনে যে নাটমন্দির রয়েছে সেখানে পাঁচজন করে ভক্তের একসঙ্গে পুজো নেওয়া হবে। সব কিছুই হবে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনেই।

বেহালার আনুমানিক ২৫০ বছরের পুরোনো সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে ভোর ৫টা থেকে পুজো শুরু হয়ে যাবে বলেই জানালেন দেবজিৎ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মন্দিরের দালানে এক একবারে পনেরো জন করে ভক্ত আসবেন এবং পুজো দেবেন। সবাইকে মাস্ক মাক্স পরে আসতে হবে এবং অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে স্যনিটাইজার। শারীরিক দূরত্ববিধি মেনেই সিদ্ধেশ্বরীতে পুজো হবে বলে জানান তিনি।

মা কালী, ঢাকা কালীবাড়ি।

প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের ঢাকা কালীবাড়িতেও সকাল থেকে পুজো শুরু হবে বলে জানান মন্দিরের পুরোহিতরা। তবে এ বার সমস্ত রকমের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুজো দিতে হবে ভক্তদের। শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে সকলকে মাস্ক পরে আসতে হবে মন্দির চত্বরে – এমনটাই জানালেন তাঁরা।

দক্ষিণ কলকাতার কসবা অঞ্চলের আদ্যাকালী মন্দির ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠিত। তারাপীঠ সিদ্ধ শ্রীশ্রী জ্ঞানানন্দ ভৈরবদাস মহারাজ এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে ভোর ৫টা থেকে পুজো শুরু হবে বলে জানালেন মন্দিরের সেবায়েত গোপাল চক্রবর্তী।

আদ্যা কালীর মন্দির, কসবা।

গোপালবাবু বলেন, ১০ জন করে ভক্ত একবারে পুজো দিতে পারবেন এবং সকলকে মাস্ক পরে আসতে হবে এবং অবশ্যই মানতে হবে শারীরিক দূরত্ববিধি।

দক্ষিণ শহরতলির রাজপুর বিপত্তারিণী চণ্ডীবাড়িতেও সকাল থেকে পুজো শুরু হবে পয়লা বৈশাখে। চণ্ডীবাড়িতে কমপক্ষে ২০ জন করে ভক্ত একসঙ্গে পুজো দিতে পারবেন। তবে কোনো ফুল নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না বলেই জানাল চণ্ডীবাড়ি। শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে পুজো দিতে হবে চণ্ডীবাড়িতে।

বিপত্তারিণী চণ্ডী, রাজপুর।

একই ভাবে দক্ষিণ কলকাতার লেক কালীবাড়ি, ঢাকুরিয়া শীতলাতলা কালীবাড়িতেও একই নিয়ম রয়েছে সকল ভক্তের জন্য।

দক্ষিণ কলকাতা থেকে চলুন উত্তরে যাওয়া যাক। কলকাতার উত্তর শহরতলির বরানগর বাজারের কাছে রয়েছে আর এক প্রাচীন সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির। সেই মন্দিরেও পয়লা বৈশাখে ভক্তদের ভিড় দেখার মতো হয় বলেই জানালেন মন্দিরের সেবায়ত সুদীপ্ত চক্রবর্তী।

সিদ্ধেশ্বরী কালী, বরানগর।

সুদীপ্তবাবু বলেন, এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে নানা বিধিনিষেধ থাকছে এই মন্দিরেও। সকলকে মাস্ক পরে আসতে হবে আর সঙ্গে অবশ্যই রাখতে হবে স্যনিটাইজার। এই মন্দিরে সে দিন সকাল ৭টা থেকেই পুজো শুরু হয়ে যাবে এবং নাটমন্দিরে সর্বাধিক পাঁচ জন করে ভক্ত একবারে পুজো দিতে পারবেন বলেই জানান তিনি। সকলকে শারীরিক দূরত্ববিধি মানতে হবে।

Continue Reading

ধর্মকর্ম

অন্নপূর্ণাপুজো: বরানগর ও বিরাটির দুই দে বাড়িতে পুজোর আয়োজন

বর্তমানে কলকাতায় বহু বাড়িতে অন্নপূর্ণা পুজো হয়ে থাকে। তাদের পুজো বয়সে নবীন হলেও আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠায় কোনো খামতি নেই।

Published

on

বিরাটির দে বাড়ি ও বরানগরের দে বাড়ির অন্নপূর্ণা পূজা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

জগৎসংসারে সমস্ত কিছুরই উৎপত্তির মূলে রয়েছেন সেই আদি শক্তি মহামায়াই। তাঁর বিভিন্ন লীলায় এবং বিভিন্ন রূপের মাধ্যমে জগতকে উদ্ধার করেছেন। তাঁর সমস্ত রূপের মধ্যে দেবী অন্নপূর্ণার রূপ, যা বিশ্বসংসারকে অন্ন প্রদান করে এবং কেউ যেন অভুক্ত না থাকে সেই বার্তাই প্রদান করে। তিনি স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেবকে ভিক্ষাপ্রদান করছেন। পাশে কোথাও রয়েছে নন্দী মহারাজ, আবার কোথাও তাঁর সহচরী জয়া।

Loading videos...

বর্তমানে কলকাতায় বহু বাড়িতে অন্নপূর্ণা পুজো হয়ে থাকে। তাদের পুজো বয়সে নবীন হলেও আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠায় কোনো খামতি নেই। বেলঘরিয়ার তিয়াস ও বরানগরের আকাশজ্যোতি দু’ জনেই ব্যস্ত বাড়ির পুজোর প্রস্তুতি নিয়ে।

বরানগরের দে বাড়ির অন্নপূর্ণা।

বরানগর থানার কাছে দে বাড়ির অন্নপূর্ণাপুজো এ বার ৩২ বছরে পদার্পণ করল। প্রথমে দেবীর চিত্রপটে পুজো হলেও পরবর্তী কালে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয় দে বাড়িতে। এই বাড়ির পুজো তন্ত্রমতে হয় এবং পুজোর দিন দেবীকে রাজবেশে সাজানো হয়।

বহু ব্যস্ততার মধ্যেও আকাশজ্যোতি জানালেন, পুজোর দিন দেবীকে মুকুট, লহড়ীকান, চৌদানি, পাঁচকল্কা, নথ, টিকলি ইত্যাদি নানা গহনা পরানো হয়। পুজোর দিন দেবী চণ্ডীর পুজো হয় এবং চণ্ডীপাঠ হয়।

অন্নপূর্ণাপুজোয় দেবীকে অন্নভোগই নিবেদন করা হয়ে থাকে। ভোগে থাকে সাদা ভাত, পাঁচ রকমের সিদ্ধ, ৯ রকমের ভাজা, শুক্তানি, পনীর, পোলাও, তিন রকমের মাছ, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। এ ছাড়াও দেবীকে সেই দিন ১০৮টি দীপ নিবেদন করা হয় এবং পুজোর পরের দিন শ্রীধর জিউকে কেন্দ্র করে রামনবমীর পুজো হয় দে বাড়িতে। তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ রয়েছে পুজোয়। নিমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য স্যনিটাইজার এবং থার্মাল স্ক্রিনিংএর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সকল ভক্তকে সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে এবং মাস্ক পরে আসতে হবে পুজোয়, এমনটিই জানালেন আকাশজ্যোতি দে।

বিরাটির দে বাড়ির অন্নপূর্ণা।

অপর দিকে বিরাটির দে বাড়িতেও চলছে অন্নপূর্ণেশ্বরীর বিশেষ আয়োজন। সেই বাড়ির পুজোর মূল উদ্যোক্তা হলেন তিয়াস দে। বরানগর দে বাড়ির অপেক্ষা এই বাড়ির পুজো নবীন হলেও পুজোর উপাচারে কোনো খামতি নেই বলেই জানালেন তিয়াস। এই বাড়ির পুজোর আগের দিন সকালে চণ্ডীপাঠ হয় এবং বিকালে দেবীর অধিবাস সম্পন্ন হয়।

পুজোর দিন সকাল সকাল দেবী অন্নপূর্ণার মূল পুজো শুরু হয়ে যায়। এই বাড়িতে প্রতীকী বলিদানের প্রথাও রয়েছে। পুজোর দিন চালকুমড়ো, কলা ইত্যাদি বলি দেওয়া হয়। এই বাড়িতেও দেবীকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। ভোগে থাকে সাদাভাত, পোলাও, খিচুড়ি, আট রকমের ভাজা, তিন রকমের ডাল, কাঁচকলার কোপ্তা, শুক্তানি, আলুপোস্ত, ফুলকপির তরকারি, ধোঁকার তরকারি, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। সন্ধ্যাবেলায় দেবীকে লুচিভোগ দেওয়া হয়, সঙ্গে থাকে ছোলার ডাল, ছানার কোফতা, মালপোয়া, লাড্ডু ইত্যাদি।

দে বাড়ির বিশেষ রীতি হল ভিক্ষাদান, অর্থাৎ পুজোর শেষে বহু ভক্ত মহাদেবকে ভিক্ষাপ্রদান করেন চাল, পাঁচ রকমের ফল, পৈতে ইত্যাদি নানান উপকরণ দিয়ে। পুজোর পরের দিন দেবীকে পান্তাভাত, কচুশাক ইত্যাদি নিবেদন করা হয়। সন্ধ্যায় বিসর্জনের আগে কনকাঞ্জলিপ্রথা রয়েছে বিরাটির দে বাড়িতে। তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে নানান বিধিনিষেধ এই বাড়িতেও রয়েছে। সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে অল্পসংখ্যক নিমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়েই এ বার পালিত হবে পুজো, এমনটাই জানালেন তিয়াস।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণাপুজো: উত্তর কলকাতার পালবাড়ি ও বালিগঞ্জের ঘোষবাড়িতে চলছে জোর প্রস্তুতি

Continue Reading

ধর্মকর্ম

অন্নপূর্ণাপুজো: উত্তর কলকাতার পালবাড়ি ও বালিগঞ্জের ঘোষবাড়িতে চলছে জোর প্রস্তুতি

Published

on

উত্তর শহরতলির পালবাড়ি ও বালিগঞ্জের ঘোষবাড়ির অন্নপূর্ণাপূজা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

যে শুক্লপক্ষের অষ্টমীতিথিতে অন্নপূর্ণাপুজো হয়, পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী এ বার সেই তিথি চৈত্র মাসে না পড়ে, পড়েছে বৈশাখ মাসে। গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সেই তারিখ হল ২০ এপ্রিল। সুতরাং হাতে আরও কয়েকটা দিন সময় রয়েছে। তবে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে মন্দির ও গৃহস্থবাড়িতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর প্রস্তুতি। কলকাতা শহরতলির দুই বাড়িতেও এর অন্যথা হচ্ছে না।  

Loading videos...

বহু প্রাচীন কাহিনিতেই দেবী অন্নপূর্ণাকে পাওয়া যায়। তাঁর একটি হাতে থাকে অন্নপাত্র এবং অন্য হাতে থাকে হাতা বা চামচ, যা দিয়ে তিনি মহাদেবকে অন্ন প্রদান করেন। পুরাণে বর্ণিত কাহিনি অনুযায়ী কৈলাসে এক সময় অন্নের অভাব দেখা দিলে মহাদেব ভিক্ষা করতে বের হন। শেষ পর্যন্ত কোথাও ভিক্ষা না পেয়ে তিনি কৈলাসে ফিরে এলে দেবী পার্বতী অন্নপূর্ণার রূপ ধরে শিবকে ভিক্ষা দেন। সেই থেকেই দেবীর এই রূপ জগৎসংসারে প্রচলিত।

পালবাড়িতে মায়ের ভোগ।

কলকাতার উত্তর শহরতলির ডানলপের কাছে পালবাড়ির অন্নপূর্ণাপুজো এ বারে ৩৫তম বছরে পড়ল। পুজো শুরু হল কী ভাবে? ওই পরিবারের সূত্রে জানা যায়, পরিবারের এক সদস্য স্বপ্নাদিষ্ট হন এবং তার পর থেকেই এই বাড়িতে অন্নপূর্ণাপুজো শুরু হয়।

কথা হচ্ছিল এই বাড়ির জ্যেষ্ঠপুত্র রতন পালের সঙ্গে। তিনি জানালেন, এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকছে। অতিথি এবং দর্শকদের জন্য স্যনিটাইজারের ব্যবস্থা থাকছে। এ ছাড়া শারীরিক দূরত্ববিধি মেনেই এ বছর পুজো হবে বলে জানান তিনি।

অষ্টমীর দিন সকাল থেকেই পুজো শুরু হয়ে হবে। ওই দিন দেবীকে অন্নভোগ দেওয়া হবে। ভোগে থাকবে খিচুড়ি, পোলাও, সাদাভাত, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, চাটনি, পায়েস, মিষ্টি ইত্যাদি। প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণে ভোগরান্না হয় চলে সকাল থেকে। তবে এ বছর সব কিছুই পালিত হবে সমস্ত রকমের নিয়মবিধি মেনে।

এই বাড়ির দেবীবিগ্রহ তৈরি করেন খ্যাতনামা শিল্পী সনাতন রুদ্র পাল। এ ছাড়াও পুজোর সময় দেবীকে ১০৮টি দীপ ও ১০৮টি পদ্ম নিবেদন করা হয়।

এ বার চলে আসা যাক দক্ষিণ কলকাতার দিকে। বালিগঞ্জের ডোভার রোডে ঘোষবাড়িতেও চলছে পুজোর প্রস্তুতি। এই বাড়ির পুজো তুলনামূলক নবীন হলেও নিষ্ঠায় কোনো খামতি নেই। কথা হচ্ছিল অস্মিত ঘোষের সঙ্গে। তিনিই শুরু করেন এ বাড়ির পুজো। করোনা ভাইরাসের কারণে বসিয়ে প্রসাদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা বন্ধ রাখা হয়েছে। তার পরিবর্তে এ বার ফুড প্যকেটের ব্যবস্থা হয়েছে। এ ছাড়া পুজোর জায়গায় স্যানিটাইজারেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ঘোষবাড়ির অন্নপূর্ণা বিগ্রহ।

এই বাড়ির পুজো সম্পূর্ণ তন্ত্রমতে হয়ে থাকে। এই বাড়িতে দেবীর গায়ের রঙ লাল এবং এখানে দেবীর সঙ্গে থাকেন মহাদেব এবং দেবীর মুখ্য সহচরী জয়া। যে হেতু পরিবারের সদস্যরা শ্রীরামকৃষ্ণ সংঘের অনুগামী তাই পুজোর সংকল্প শ্রীশ্রীমা সারদার নামেই করা হয়।

এখানে দেবী এবং ভৈরবের ষোড়শোপচারে পুজো হয়। এই বাড়িতে দেবীকে আমিষভোগ নিবেদন করা হয়। ভোগে থাকে খিচুড়ি, সাদাভাত, পোলাও, নানান রকমের ভাজা, তিন রকমের মাছ, তরকারি, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। তবে দেবীর আমিষভোগ হলেও ভৈরবের নিরামিষভোগ হয়।

সন্ধ্যায় আরতি ও শীতলভোগ নিবেদন করা হয়। পরের দিন সকালে দর্পণে বিসর্জন হওয়ার পর বিকালে নিরঞ্জন হয় দেবী অন্নপূর্ণার।

আরও পড়ুন: কোনো রকম ভক্তসমাগম ছাড়াই পালিত হচ্ছে স্বামী যোগানন্দের জন্মতিথি উৎসব

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
মুর্শিদাবাদ24 mins ago

Coronavirus Second Wave: কোভিডে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন রাজ্যের আরও এক প্রার্থী

রাজ্য42 mins ago

Bengal Polls Live: শুরু পঞ্চম দফার ভোটগ্রহণ, সংক্রমণের ভয় নিয়েই ভোটের লাইনে জনতা

বাংলাদেশ6 hours ago

Mujibnagar Day: ঠিক ৫০ বছর আগের ১৭ এপ্রিল যিনি গার্ড অব অনার দিয়েছিলেন সেই মাহবুব উদ্দিন বীর বিক্রমের স্মৃতিচারণ

বাংলাদেশ8 hours ago

Bangladesh Corona Update: একদিনে শতাধিক মৃত্যুর রেকর্ড, আক্রান্তের শীর্ষে যুবকরা হলেও মৃত্যুর দিক দিয়ে বয়স্ক মানুষ

শিক্ষা ও কেরিয়ার9 hours ago

ICSE And ISC Exams: দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা পিছিয়ে দিল আইসিএসই বোর্ড

ক্রিকেট10 hours ago

IPL 2021: দীপক চাহরের বিধ্বংসী বোলিং, চেন্নাইয়ের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ল পঞ্জাব

দেশ11 hours ago

Nirav Modi’s Extradition: নীরব মোদীকে ভারতের হাতে তুলে দিতে সম্মতি ব্রিটিশ সরকারের

রাজ্য12 hours ago

Bengal Polls 2021: ভোটের দিনক্ষণ পালটাচ্ছে না, প্রচারে ‘নৈশ কার্ফু’ জারি নির্বাচন কমিশনের

শিক্ষা ও কেরিয়ার3 days ago

CBSE Exam 2021: দশম শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করল সিবিএসই, স্থগিত দ্বাদশের পরীক্ষা

দেশ3 days ago

Kumbh Mela 2021: কুম্ভের হরিদ্বারে গত দু’দিনে আক্রান্ত ১ হাজার, মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘মারকাজের সঙ্গে তুলনা অর্থহীন’

রাজ্য2 days ago

স্বাগত ১৪২৮, জীর্ণ, পুরাতন সব ভেসে যাক, শুভ হোক নববর্ষ

পয়লা বৈশাখ
কলকাতা2 days ago

মাস্ক থাকলেও কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বরে শারীরিক দুরত্ব চুলোয়, গা ঘেষাঘেঁষি করে হল ভক্ত সমাগম

দেশ3 days ago

ফের লকডাউনের আশঙ্কায় ভীত-সন্ত্রস্ত অভিবাসী শ্রমিকরা, কন্ট্রোল রুমে ফোনের পর ফোন ঝাড়খণ্ডে

রাজ্য2 days ago

Bengal Polls 2021: ভয়াবহ কোভিড সংক্রমণের মধ্যে কী ভাবে ভোট, শুক্রবার জরুরি সর্বদল বৈঠক ডাকল কমিশন

কোচবিহার2 days ago

Bengal Polls 2021: শীতলকুচির গুলিচালনার ভিডিও প্রকাশ্যে, সত্য সামনে এল, দাবি তৃণমূলের

গাড়ি ও বাইক2 days ago

Bajaj Chetak electric scooter: শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পরেই বুকিং বন্ধ! কেন?

ভোটকাহন

কেনাকাটা

কেনাকাটা4 weeks ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা3 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা3 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা3 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা3 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা3 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে