jhargram1
Samir mahat
সমীর মাহাত

জঙ্গল মহলের ‘উন্নয়ন’ নিয়ে যতই রাজনৈতিক চাপান-উতোর চলুক তার বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। এক শবর বৃদ্ধা আজীবন শুধু ভোটই দিয়ে গিয়েছেন। বয়স ৭০ ছুঁতে চলল, কোনো সরকারি সাহায্য ফিরেও তাকায়নি তাঁর দিকে। বার্ধক্য ভাতা তো দূরঅস্ত সামান্য রেশনের ২ টাকা কেজি চালটুকুও পান না বলে জানান বৃদ্ধা।

এখন তাঁর জীবন চলে শহরে এসে নাতনির সঙ্গে মাগনবৃত্তি করে। নাতনিরও তো এখন স্কুলে পড়ার সময়! সে তাঁর দিদিমাকে সঙ্গ দেয়। কারণ, বৃদ্ধা চোখে আগের মতো ভালো দেখতে পান না। সারা দিন মাগনে জোটে খুব জোর ৫০ টাকা। এই ভাবেই দিন কাটছে বৃদ্ধার।

ঝাড়গ্রামের সাপধরা অঞ্চল ও রাধানগর অঞ্চল সীমানার জঙ্গলখাস গ্রামের বাসিন্দা প্রায় ৭০ বছরের এই বৃদ্ধা হলেন কালন্দি ভুক্তা। সাত বছর আগে স্বামী নাড়ু শবরের মৃত্যু হয়েছে। বৃদ্ধার এক ছেলে ও এক মেয়ে । সবাই যে যাঁর মতো পৃথক থাকেন, মেয়ের ঘরের নাতনি নন্দিনীই এখন তাঁর জীবনসঙ্গী। পাশেই রয়েছে জারালাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়, নন্দিনীর নিয়মিত স্কুলে যাওয়া হয় না, কেন না তার দিদিমাকে মাগনে সঙ্গ দিতে হয়।

jhargram 2

রেশনে চাল পান না? বৃদ্ধা সোজা সাপ্টা বলেন, ‘না’। বার্ধক্য ভাতা বা অন্যান্য সরকারি সাহায্য? উত্তরে বলেন, “আমার আধার কাড় নাঁঞ, সে কারণে নাকি বেঙ্কের পাশবই হয় নাঁঞ। পাশের জানাশোনা অনেককেই অনেক বার বলেছি, কই কিছুই হয় নাঁঞ”।

ঝাড়গ্রাম ব্লকের এক কর্মাধ্যক্ষ বলেন, আধার কার্ডের সমস্য তো থেকেই গিয়েছে। যে গ্রামের কথা বলছেন, “সেটি ৪ নম্বর সাপধরা ও ১ নম্বর রাধানগর অঞ্চলের সীমান্তবর্তী। আগস্টে নতুন করে সভাপতি গঠন হোক, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের সব স্তরেই জানাব।” শীর্ষ প্রশাসনের এক প্রাক্তন আমলা বলেন, এখন রাজনীতিতে শুধু ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছে। পঞ্চায়েত, গ্রামপ্রধান ও নিচু তলার প্রশাসন তা ভুলে গিয়ে অসহায় মানুষদের প্রতি নজর দেইনি বলে এই ধরনের সমস্যা বাড়ছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন