যে তন্তুজ এক সময় বছরের পর বছর লোকসান গুনে গিয়েছে, যে তন্তুজকে এক সময় বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছিল, যে তন্তুজের বহু কর্মীকেই অন্য দফতরে বদলি করে দেওয়া হয়েছে, সেই তন্তুজের হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষুদ্র- কুটীর শিল্প ও বস্ত্র দফতর জাতীয় পুরস্কার পেল। হস্তশিল্প মার্কেটিং-এর ক্ষেত্রে বিপুল সাফল্যের জন্য কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক এই পুরস্কার দিল রাজ্যের মন্ত্রককে। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এই প্রথম। এই উপলক্ষে দিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি পুরস্কার তুলে দেন পশ্চিমবঙ্গের বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী স্বপন দেবনাথের হাতে।

কী ভাবে এই সাফল্য এল? পুরস্কার গ্রহণ করার পর স্বপনবাবু খবর অনলাইনকে বলেন, এই সাফল্যের একটা বড়ো কারণ অনলাইনে তন্তজের শাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত। প্রথমে ফ্লিপকার্টের সঙ্গে চুক্তি হয়। ফ্লিপকার্ট বছরে ৫০ লক্ষ টাকার ব্যবসা দিয়েছে। এ বার আমাজনের সঙ্গেও চুক্তি হয়েছে। আমাজন কয়েক লক্ষ টাকার ব্যবসা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। এখন তন্তুজের মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি টাকা।

এ ছাড়াও বিপণনের আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় তন্তুজের সেলস কাউন্টার খোলা হয়েছে। এমনকি শাড়িতে নতুন নতুন নকশা তোলার জন্য স্টেট ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইন-এর পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী জানান। এর ওপর রাজ্যের ২০ লক্ষ তাঁতশিল্পীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলাও তন্তুজের সাফল্যের একটা বড়ো কারণ।  

তন্তুজের ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করতে ভোলেননি স্বপনবাবু। মুখ্যমন্ত্রী দফতরের কাজে শুধু নজরই রাখেননি, সব সময় নানা নির্দেশ দিয়েছেন, কড়া বার্তা পাঠিয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপেই তন্তুজের এত বড়ো সাফল্য এসেছে বলে স্বপনবাবু দাবি করেন।        

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here