khudan mallick
saibal biswas
শৈবাল বিশ্বাস

নিঃশব্দে চলে গেলেন নকশালবাড়ি কৃযক আন্দোলনের ডাকসাইটে নেতা খুদন মল্লিক। কানু সান্যাল, খোকন মজুমদারদের সঙ্গে এক সময় তাঁর নাম একই মাত্রায় উচ্চারিত হত। বুধবার প্রয়াত হলেন।

পুলিশের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন নেপাল সীমান্তে লুকিয়েছিলেন খুদন। ধরা পড়ার পরেও কখনও তাঁর মুখ থেকে পুলিশ একটি কথাও বের করতে পারেনি। এক সময় নকশালবাড়ির প্রাসাদুজোতের বাসিন্দা এই কৃষক নেতাকে চারু মজুমদার চিনে পাঠিয়েছিলেন। কানু সান্যাল, দীপক বিশ্বাস, খোকন মজুমদার, খুদন মল্লিক বহু কষ্ট করে তিব্বত হয়ে চিনের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে মাও সে তুঙের দেখা হয়েছিল। নকশালপন্থী কৃষক সংগ্রাম সম্পর্কে মাও তাঁদের কাছ থেকেই অবহিত হয়েছিলেন।

এ হেন মাটির সঙ্গে মিশে থাকা নেতা কিন্তু কখনও নকশালবাড়ি আন্দোলন বা সিপিআই এমএলের রাজনীতি থেকে নিজেকে বিচ্যূত করেননি। তিনি যুক্ত ছিলেন কানু সান্যালের দলের সঙ্গে, যদিও অন্য নকশাল গোষ্ঠীগুলির কর্মী-নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন সিপিআইএমএল লিবারেশনের দার্জিলিঙ জেলা সম্পাদক অভিজিৎ মজুমদার। তিনি জানান, গত ২৫ মে নকশালবাড়ি কৃষক সংগ্রাম শুরুর ৫০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত পদযাত্রাতেও তিনি শামিল হয়েছিলেন।

খুদনবাবুর বয়স হয়েছিল ৭৫। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। তাঁর দু’টি কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। গত মঙ্গলবার অসম্ভব যন্ত্রণা শুরু হওয়ায় তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

খুদন মল্লিকের মৃত্যুর সঙ্গে একটি অধ্যায়ের অবসান হল। নকশালবাড়ি কৃযক সংগ্রামের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত আর কেউ জীবিত রইলেন না। খুদনবাবু শেষ জীবন পর্যন্ত মাও-এর স্মৃতি ভুলতে পারেননি। সবাইকে সেই কথা শুনিয়ে তৃপ্তি পেতেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here