কলকাতা:  বরফের চাদরে শুয়ে ওরা পৌঁছে গেছেন ঘুমের দেশে। ঘুম আর ভাঙবে না জেনেও নিথর শরীরটাকেই শেষ বারের মতো ছুঁয়ে দেখতে চায় কাছের মানুষগুলো। তাই সব খুইয়ে, সর্বস্ব দিয়ে এভারেস্টের ব্যালকনি থেকে গৌতমের দেহ উদ্ধারের জন্য এজেন্সি নিয়োগ করল তাঁর পরিবার। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আশানরূপ সহযোগিতা না পাওয়ায় গত সপ্তাহেই নিয়োগ করা হয়েছে নেপালের ‘ফ্রেন্ডস্‌ অব হিমালয়ান’ এজেন্সিকে। উদ্ধারকাজে নেতৃত্ব দেবেন পূর্বা শেরপা।

দেহ উদ্ধার করার খরচাটা আকাশ ছোঁয়া। ২৬ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা জোগাড় করাটা একটা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। স্ত্রীর গয়না, জমি যা কিছু ছিল, বিক্রি করে টাকার ব্যবস্থা করেছে পর্বতারোহী গৌতম ঘোষের পরিবার। দাদা দেবাশিস ঘোষের কাছে জানা গেল, দীর্ঘ ৯ মাস নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন সরকারের সঙ্গে। ওয়েস্টবেঙ্গল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশানের অ্যাডভাইসর দেবদাস নন্দী নাকি বলেছিলেন, ২৪ তারিখ শহরে ফিরে কিছু একটা সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু তত দিনে যে বড্ড দেরি হয়ে যাবে। ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে চলতি বছরের অভিযানের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ২ নম্বর ক্যাম্প পর্যন্ত রুট ওপেনও হয়ে গেছে। ৩ আর ৪ নম্বর রুট ওপেন হবে দিন কয়েকের মধ্যেই। আর গৌতমের দেহের সন্ধান পেলে উদ্ধার করে তা ফিরিয়ে আনার ঠিক সময় এটাই। তাই আর সময় নষ্ট করতে চান না পরিবারের লোকজন, জানালেন দেবাশিসবাবু।

আরও পড়ুন; তাঁরা না ফিরলেও দেহটুকু অন্তত ফিরুক, চান গৌতম-পরেশের কাছের মানুষরা

এত কিছুর পরেও দেবাশিসবাবুরা এখনও আশা করছেন শেষ মুহূর্তে হয়তো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে সরকার। পরিবারের তরফ থেকে নিয়োগ করা এজেন্সিকে দিয়েই যদি উদ্ধারকাজ চালাতে রাজি হয় রাজ্য সরকার, তবে সময় কিছুটা বাঁচবে। খবর অনলাইনের পক্ষ থেকে সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে এ ব্যাপারে যোগাযোগ করার চেষ্টা হয়। যদিও দেবদাস নন্দীকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here