ছবি: পোস্টকার্ড নিউজ

ওয়েবডেস্ক: সৌজন্যে বাঙালির আবেগ। লোকসভা ভোটের হাওয়া নিজেদের পালে টানতে নেতাজিকে নিয়ে তৎপরতা বাড়াচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। ভোটের আগে নেতাজিকে নিয়ে একগুচ্ছ কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। এ বার বাম শিবির মাঠে নামছে। নেতাজির জন্মদিনকে ‘দেশপ্রেম দিবস’ হিসাবে ঘোষণার দাবিকে আবারও সামনে নিয়ে আসছে বামেরা। তবে কী শুধু শাসকবিরোধী হাওয়ায় চিঁড়ে ভিজবে না?

এ নিয়ে বিধানসভায় বিশদে আলোচনার দাবিতে সোমবার বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী ও আরও কয়েকজন বাম বিধায়ক প্রস্তাব জমা দিয়েছেন অধ্যক্ষের দফতরে। এই ইস্যুটি নিয়ে আগামী দিনে জেলাওয়াড়ি কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বাম দলের বড় শরিক সিপিএম।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে রাজ্যু জুড়ে একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। শনিবার কাঁথিতে আজাদ হিন্দ ফৌজের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি চন্দ্র বসু জানিয়েছেন, আগামী দিনে নদিয়া, কোচবিহার-সহ সমস্ত জেলাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হবে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মদিবসকে ‘মুক্তি দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হোক। পাশাপাশি আন্দামান-নিকোবর দ্বীপের নাম বদলে ‘শহিদ স্বরাজ দ্বীপ’ করা হোক।

বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘নেতাজিকে নিয়ে হঠাৎ করে বিজেপি তৎপর হয়েছে ভোটের কথা মাথায় রেখে। নেতাজিকে নিয়ে বাঙালির আবেগকে তারা নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায়। আমরা ২০০৯ সাল থেকে দেশপ্রেম দিবস নিয়ে দাবি জানাচ্ছি। বাম দলগুলির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেই সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে এ নিয়ে চিঠি দেয়।  ২০১১ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য এ রাজ্যে ২৩ জানুয়ারি দেশপ্রেম দিবস হিসেবে পালনের সরকারি আদেশ বের করেন। কিন্তু তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরই সেই আদেশ আর কার্যকর করা হচ্ছে না। এ নিয়ে গত বছর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি চিঠি দিলেও তার কোনও উত্তর বা প্রতিক্রিয়া পাইনি।’’

আরও পড়ুন : মোদীকে দিয়ে বাংলায় ৫০০ সভা করাতে পারে বিজেপি, বললেন কলকাতার ভাবী মেয়র 

এ বার কি নেতাজিকে মাঠে নামবে শাসকদল তৃণমূল? বিজেপি রামনবমীর পালটা হনুমান জয়ন্তি পালনের ঘোষণা করেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশ্য নেতাজিকে নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আগেও সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এ বছরই নেতাজি জন্মজয়ন্তীতে রেড রোডে নেতাজি মূর্তির পাদদেশে মালা দিয়ে মমতা বলেন, ‘‘কেন্দ্র-রাজ্য বোঝাপড়ার জন্য যোজনা কমিশন তৈরি করেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। দুর্ভাগ্য, তা তুলে দেওয়া হয়েছে! সেই প্রস্তাব মানা হলে কেন্দ্র রাজ্যকে বঞ্চনা করতে পারত না।’’ কেন্দ্রকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘বাংলা জুড়ে নেতাজি, স্বামীজির জন্মজয়ন্তী পালন হয়। কিন্তু এমন মহান দেশপ্রেমিকদের জন্মদিনকে যারা জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেনি, তাদের কাছ থেকে কিছুই আশা করা যায় না।’’

প্রশ্ন হল, লোকসভা ভোটের আগে ‘মোক্ষম চাল’ হিসাবে নেতাজির জন্মদিনকে ছুটি ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্র?  কিন্তু সেটি ‘দেশপ্রেম দিবস’ না ‘মুক্তি দিবস’-এর ছুটি হবে, সেটাই দেখার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here