নেতাজির বসার চেয়ার সামনে রেখেই স্মৃতি আঁকড়ে রয়েছে ঝাড়গ্রামের চক্রবর্তী পরিবার!

দুর্গা ময়দানের চক্রবর্তী পরিবারের শম্ভুনাথ এবং সতীনাথ চক্রবর্তী নিজেদের বাড়িতে একটি কাঠের কেদারায় বসিয়ে নেতাজির আপ্যায়ন করেন। ঐতিহাসিক স্মৃতি হিসেবে সেই কেদারা এখনও সংরক্ষিত রেখেছেন এই পরিবার। প্রতিবছরই ২৩ জানুয়ারি সেই কেদারায় নেতাজির ছবিতে মালা দিয়ে স্মৃতি পালন করেন।

0
Netaji Subhas Chandra Bose

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: সরকারের “নেতাজি সংখ্যা” সমৃদ্ধ পুস্তকেও নেতাজির ঝাড়গ্রাম সফরের ঘটনা বিশেষ ভাবে ঠাঁই পায়নি। তাঁর বসার কাঠের কেদারা দিয়েই আজও মহান দেশপ্রেমী নেতাজির স্মৃতি আঁকড়ে ধরে রেখেছেন ঝাড়গ্রামের চক্রবর্তী পরিবার।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঝাড়গ্রাম সফর এক ঐতিহাসিক ঘটনা। তথ্যমতে ১৯৪০ সালের ১২ মে ঝাড়গ্রাম শহরের পাঁচ কিমি পশ্চিমে দহিজুড়ি মোড়ে তিনি সভা করেন। সভায় স্থানীয় বিশিষ্ট বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী উপস্থিত ছিলেন। সেই সন্ধিক্ষণে নেতাজির একান্ত সহযোগী ছিলেন চাঁদড়া এলাকার মুচিরাম সিং, শশধর পাল, বরেন্দ্রনাথ পাল, কিশোরীমোহন মাহাত, রামচন্দ্র মাহাত, চন্দ্রাবতী মাহাত, কুলটিকরির মতিলাল ঘোষ প্রমুখ।

এঁদের মধ্যে রামচন্দ্রবাবু ঝাড়গ্রাম শহরের লালগড় মাঠে (বর্তমানে দুর্গা ময়দান) যুবক সমিতির পক্ষ থেকে নেতাজির উদ্দেশে দু’টি মানপত্র পাঠ করেন। স্বাধীনতা সংগ্রামী চন্দ্রাবতীদেবী ইংরেজ শাসনে মহকুমাশাসক অফিস প্রাঙ্গণে প্রথম বার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। (তথ্যসুত্রঃ “নেতাজি সুভাষচন্দ্রের ঝাড়গ্রাম সফর”, তারাপদ কর)। পরবর্তীতে আরও জানা যায়, এই দুর্গা ময়দানের চক্রবর্তী পরিবারের শম্ভুনাথ এবং সতীনাথ চক্রবর্তী নিজেদের বাড়িতে একটি কাঠের কেদারায় বসিয়ে নেতাজির আপ্যায়ন করেন। ঐতিহাসিক স্মৃতি হিসেবে সেই কেদারা এখনও সংরক্ষিত রেখেছেন এই পরিবার। প্রতিবছরই ২৩ জানুয়ারি সেই কেদারায় নেতাজির ছবিতে মালা দিয়ে স্মৃতি পালন করেন। এমনটাই জানালেন সতীনাথবাবুর পুত্র সোমনাথ চক্রবর্তী।

পাশাপাশি সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের “পশ্চিমবঙ্গ” নেতাজি সংখ্যা (২২-২৭) সংকলন প্রকাশিত হয় ১৯৯৭ সালে। ওই সংখ্যায় নেতাজি সংক্রান্ত বহু মূল্যববান তথ্য থাকলেও তাঁর ঝাড়গ্রাম সফর নিয়ে বিশেষ তথ্য পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here