জলপাইগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে থাকা শিশুপাচার চক্রের জালে জড়িয়েছে ডাক্তার থেকে রাজনৈতিক নেতার নাম। সেখানে ছবিটা যেন একটু অন্যরকম উত্তরবঙ্গের চা-বাগান ঘেরা শহর জলপাইগুড়ির। ডেঙ্গুয়াঝাড় চা-বাগান সংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতককে দত্তক নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করছেন একাধিক দম্পতি। অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে তার দেখভাল করছেন হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সরা।

রবিবার বিকেলেই শহর সংলগ্ন ডেঙ্গুয়াঝাড়ে একটি ঝোপের থেকে ওই সদ্যোজাত শিশুপুত্রকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে শিশুটিকে নিয়ে আসা হয় জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে। তড়িঘড়ি নবজাতক পরিষেবা ইউনিটে (এসএনসিইউ) ভর্তিও করা হয় তাকে।

সোমবার হাসাপাতালে গিয়ে দেখা গেল একদিনেই চিকিৎসক-নার্সদের চোখের মণি হয়ে উঠেছে সে। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার সুশান্ত রায় জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তাঁরা চিকিৎসার সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়ে বাচ্চাটির যত্ন নিচ্ছেন। এখন সে অনেকটাই সুস্থ। নবজাতকের কী নাম দেওয়া যায় তা নিয়ে নিজেদের মধ্যেই আলোচনায় মশগুল নার্সদিদিরা।

শিশুটি সুস্থ আছে জেনে হাসি ফুটেছে ডেঙ্গুয়াঝাড়ের বাসিন্দাদের মুখে। ঝোপে অবহেলায় পড়ে থাকা শিশুটি তাদের এতই মন কেড়েছে, অনেকেই তাকে দত্তক নিতে চাইছেন। এদের মধ্যে একজন বীনা লিম্বু। পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। ঝোপ থেকে উদ্ধারের পর তিনিই প্রাথমিক পরিচর্যার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সোমবার  হাসপাতালে এসে শিশুটিকে সুস্থ দেখে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হাসপাতালের সবাইকে। তার বিবাহিত নি:সন্তান ভাই-এর জন্য শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি। সেই ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন জেলার শিশু কল্যাণ সমিতির কাছে। যদিও আইনি গেরোর ফাঁক গলে সেই সুযোগ হবে কিনা যথেষ্ট সংশয়ে রয়েছেন সমিতির চেয়ারপার্সন বেবি উপাধ্যায়। আপাতত হোমেই ঠাই হচ্ছে নবজাতকের। সমিতির নির্দেশে ঘটনার তদন্ত করছে কোতওয়ালি থানার পুলিশ।

আইনের এই কড়া নিয়ম ও প্রশাসনিক গাফিলতিই শিশু পাচার চক্রের অন্যতম হাতিয়ার বলে মত বিভিন্ন মহলের। একটি শিশুকে সরকারি নিয়ম মেনে দত্তক নিতে গেলে প্রচুর বিধি নিষেধের গেরো পেরোতে হয়। তা অনেক সময়সাপেক্ষও বটে। তাই এই নিয়মকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে চলছে শিশু পাচার ও দত্তক নেওয়ার খেলা। বিত্তবানরা অনায়াসে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে অবৈধভাবে দত্তক নেওয়ার পথে হাঁটছেন। আবার সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিশু দত্তক নিতে গেলে খরচ হয় প্রায় ৪৮ হাজার টাকা। তাই গরিব নি:সন্তান দম্পতিরা ইচ্ছে থাকলেও দত্তক নিতে পারেন না। এই সমস্যা মেটাতে দত্তক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরো সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here