নতুন নিম্নচাপ সপ্তাহান্তে বৃষ্টি বাড়াতে পারে দক্ষিণবঙ্গে

0
1170

কলকাতা: ঝিমিয়ে পড়া বর্ষাকে ফের সক্রিয় করে তোলার জন্য প্রয়োজন একটি নিম্নচাপের। এই সপ্তাহের শেষের দিকেই সেই নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে বঙ্গোপসাগরে। এর ফলে বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে।

দক্ষিণবঙ্গকে ভাসিয়ে দিয়ে গত সপ্তাহের বুধবার নাগাদ বিদায় নিয়েছে গভীর নিম্নচাপ। সেই নিম্নচাপটি বিদায় নিতেই এক দিকে যেমন হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন রাজ্যের বন্যাক্রান্ত মানুষজন, অন্য দিকে পারদ চড়তে শুরু করায় হাঁসফাঁস অবস্থা কলকাতাবাসীর। মাঝেমধ্যে স্থানীয় ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তাতে স্বস্তি মিলছে সামান্য।

এখন দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রোজই বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু তা বিক্ষিপ্ত আকারে। কলকাতার এক দিক যখন প্রবল বৃষ্টিতে ভাসছে, অন্য দিক তখন খটখটে শুকনো। সোমবার সকালেও এ রকম এক পশলা বৃষ্টি হয়েছে শহর জুড়ে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা ‘মনসুন ব্রেক’-এর একটা বৈশিষ্ট্য। মৌসুমী বায়ু দুর্বল হয়ে গেলে এ রকম স্থানীয় বজ্রগর্ভ মেঘে বৃষ্টিপাত খুব স্বাভাবিক ঘটনা।

তবে বঙ্গোপসাগর ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ উপকূল লাগোয়া সাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত দানা বেঁধেছে। ঘূর্ণাবর্তটির আচরণের ওপরেই নির্ভর করছে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ভবিষ্যৎ। বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়াঙ্কার মতে, “ঘূর্ণাবর্তটি বাংলাদেশ উপকূল দিয়ে ঢুকে উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে যাবে। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি বাড়বে।” অল্প সময়ে ভারী বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়বে বলে জানান রবীন্দ্রবাবু। আবহাওয়া সংক্রান্ত আরও একটি ফেসবুক পেজের দাবি, এই ঘূর্ণাবর্তটি ৪ আগস্ট নাগাদ নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। সামনের শনিবার এবং রবিবার দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা। তবে এটি নিম্নচাপ হোক, বা ঘূর্ণাবর্তই থাকুক, পশ্চিমাঞ্চল হয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা সে ভাবে নেই। সুতরাং বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা কমই।

২০১৫ সালের জুলাইয়ে প্রবল বৃষ্টিতে ভেসেছিল দক্ষিণবঙ্গ। তৈরি হয়েছিল বন্যা পরিস্থিতির। কিন্তু আগস্ট এবং সেপ্টেম্বরে সে ভাবে কোনো বৃষ্টিই হয়নি দক্ষিণবঙ্গে। যার ফলে জুলাইয়ের শেষে ৬০% বাড়তিতে থাকা বৃষ্টি সেপ্টেম্বরের শেষে কমে দাঁড়ায় আট শতাংশে। এর ফলে জলাধারগুলি জল কমে যাওয়ার পরবর্তী শীতকাল এবং গ্রীষ্মকালে চাষের সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এ বার অবশ্য সে রকম কোনো পরিস্থিতি আপাতত নেই। বৃষ্টি এখন চলবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

দক্ষিণের তুলনায় অনেক কম বৃষ্টি হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। একটানা বৃষ্টি এবং বন্যার জন্য পরিচিত উত্তরবঙ্গে এ বার সে রকম কোনো পরিস্থিতিই নেই। যার ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে কুড়ি শতাংশে। সব থেকে খারাপ অবস্থা কোচবিহারে। পশ্চিমবঙ্গের সব থেকে বেশি বৃষ্টি হওয়া এই জেলায় এখন ৪২ শতাংশ ঘাটতি। আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির অবশ্য কিছুটা উন্নতি হতে পারে। ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর।

বন্যাকবলিত রাজস্থান এবং গুজরাতের জন্য সুখবর। আগামী পাঁচ দিন সেখানে ভারী বৃষ্টির কোনো পরিস্থিতি নেই বলে জানানো হয়েছে। তবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং কাশ্মীরে।

 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here