durga puja rain

ওয়েবডেস্ক: মা দুর্গার আগমন এ বার নৌকায়। পুরাণ মতে নৌকায় এলে নাকি বন্যা হয়, অর্থাৎ সব কিছু ভেসে যায়। প্রকৃত অর্থেই কি পুজো এ বার ভাসতে চলেছে?

দিন দশেক হয়ে গেল সে ভাবে বৃষ্টি নেই কলকাতা তথা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে। উত্তরবঙ্গে যদিও বৃষ্টি চলছে ভালোই, দক্ষিণবঙ্গ কার্যত শুকনো। এই পরিপ্রেক্ষিতে পুজোপ্রত্যাশী মানুষের একটা প্রার্থনা, পুজোটা যেন ভালোয় ভালোয় উতরে দেওয়া যায়। এ বার ভরা বর্ষাতেই পুজো পড়েছে, তাই মানুষের চিন্তার অন্ত নেই।

সেই চিন্তাই বাড়িয়ে দিতে চলেছে বঙ্গোপসাগর। বাংলার পুজোর প্রস্তুতিকে মাটি করে দিতে পারে ভিয়েতনাম। কারণ ভিয়েতনামে আছড়ে পড়া হারিকেনের প্রভাবে নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে বঙ্গোপসাগরে। এর ফলে বৃষ্টিতে মাটি হতে পারে মহালয়ার আনন্দ। দেবীপক্ষের শুরুও ভাসিয়ে দিতে পারে বৃষ্টি।

কী কারণে তৈরি হতে পারে নিম্নচাপ?

শুক্রবার ভিয়েতনামে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ডোকসুরি। এই ঘূর্ণিঝড়ের পুবালি হাওয়া এবং জলীয় বাষ্পের প্রভাবে উত্তর আন্দামান সাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হতে পারে। বর্তমানে আন্দামান সাগরের ওপর আকাশ পরিষ্কার, বাড়ছে তাপমাত্রাও। এই সব কারণে আরও ঘনীভূত হতে পারে ঘূর্ণাবর্তটি।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, ওই ঘূর্ণাবর্তটি শক্তি বৃদ্ধি করে নিম্নচাপে পরিণত হবে। তাঁর কথায়, “ওই নিম্নচাপ খুব সম্ভবত ওড়িশা উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। এর প্রভাবে মহালয়ার দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার জোর বৃষ্টি হতে পারে দক্ষিণবঙ্গে।” ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রবীন্দ্রবাবু।

আরও পড়ুন:‘পুতুলের স্বর্গ’ দেখতে চলুন দমদম নরসিংহ অ্যাভিনিউয়ের দুর্গোৎসবে 

উত্তরবঙ্গের পূর্বাভাস কী?

মহালয়ার সময়ে উত্তরবঙ্গেও জোর বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলেছেন রবীন্দ্রবাবু। এর নেপথ্যেও ডোকসুরি। তার প্রভাবেই আরাকান পর্বত হয়ে বিপুল পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকতে পারে উত্তর-পূর্ব ভারতে। সুতরাং সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতেই বৃষ্টি হবে। বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে উত্তরবঙ্গেও। তবে আগস্টে বন্যা ডেকে আনা বৃষ্টি উত্তরবঙ্গে এখন হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

শাপে বর?

নিম্নচাপের প্রভাবে মহালয়ার সময়ে যদি বৃষ্টি হয় তা হলে তা দক্ষিণবঙ্গের কাছে শাপে বর হতে পারে। জুলাইয়ে প্রবল বৃষ্টির পরে বন্যাকবলিত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ। কিন্তু আগস্ট থেকে সে ভাবে বৃষ্টির দেখা নেই। যার ফলে দক্ষিণবঙ্গের সামগ্রিক বৃষ্টি এখন ১ শতাংশ ঘাটতিতে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মহালয়ার সময়ে দিন দুয়েকের প্রবল বৃষ্টি সেই ঘাটতিটুকু মিটিয়ে ফেলতে পারে। উত্তরবঙ্গে অবশ্য বৃষ্টির সামগ্রিক চিত্র ভালোই। সেখান এখন বৃষ্টি তিন শতাংশ বাড়তি। এখন যদি বৃষ্টি নাও হয়, তা হলেও বৃষ্টির পরিমাণ আর ঘাটতিতে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

আরও পড়ুন : বোলপুরের দে-বাড়ির পুজোর এ বার ১৯৯ বছর 

আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাস

আগামী অন্তত দু’তিন দিন প্যাচপ্যাচে গরমই বহাল থাকবে কলকাতা তথা সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে। বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। এই মুহূর্তে রাজ্যের ওপর মৌসুমী বায়ু খুবই দুর্বল। ফলে তাপমাত্রা বাড়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত আর্দ্রতাও সমস্যা ডেকে আনতে পারে। সোমবার থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করবে।

আরও পড়ুন : সাবেক সাজে ঐতিহ্য ধরে রেখে শত বর্ষে রামঘাট সর্বজনীন দুর্গোৎসব 

পুজো ভাসবে?

তৃতীয়া-চতুর্থী পর্যন্ত পূর্বাভাস বোঝা গেলেও, পুজোয় কী হবে এখনও বোঝা যাচ্ছে না। নিম্নচাপটি যদি ওড়িশা হয়ে মধ্য ভারতের উদ্দেশে পাড়ি দেয়, তা হলে তৃতীয়া থেকেই পরিষ্কার হতে শুরু করবে গোটা রাজ্যের আবহাওয়া। কিন্তু নিম্নচাপটি যদি গেঁড়ে বসে ওড়িশা এবং সন্নিহিত পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে, তা হলে পুজোয় জোরদার বৃষ্টি হবে। নিম্নচাপের নট নড়নচড়নেরও যথেষ্ট ইতিহাস পশ্চিমবঙ্গে আছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন