teacher

ওয়েবডেস্ক: শিক্ষকদের হাজিরা নিয়ে বারবার অভিযোগ ওঠে। কখনও তাঁরা ঠিক সময়ে স্কুলে আসেন না, আবার কখনও নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান। বারবার জেলাশাসক আর স্কুল শিক্ষা দফতরের কাছে এই বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে। এর প্রেক্ষিতেই এ বার শিক্ষকদের স্কুলে এসে ও স্কুল ছাড়ার সময় এসএমএস-এর মাধ্যমে জানাতে হবে মহকুমাশাসক আর ডিআইকে। তবে শিক্ষকদের হাজিরা সংক্রান্ত বিষয়টি নজরদারি চালাবেন জেলাশাসক। বাঁকুড়া জেলায় পাইলট প্রোজেক্ট হিসাবে এটি চালু হচ্ছে। সাফল্য পেলে রাজ্যের বাকি জেলাগুলিতেও তা চালু হবে।

বাঁকুড়া জেলার স্কুল পরিদর্শক দফতরের তরফ থেকে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। গত ১০ ডিসেম্বর বাঁকুড়ার সার্কিট হাউসে জেলাশাসকের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। শিক্ষকরা যাতে ঠিক সময় স্কুলে উপস্থিত হন তার জন্য মুখ্যমন্ত্রী নিজে বাঁকুড়ার প্রশাসনিক সভায় আবেদনও জানিয়েছেন। খোদ শিক্ষামন্ত্রী বিভিন্ন সভায় শিক্ষকদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু তা সত্বেও বিভিন্ন জেলার স্কুলগুলোয় সময়মতো উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বারবার শিক্ষকদের বায়োমেট্রিক উপস্থিতির ওপর জোর দিয়েছেন। কিন্তু নানা বিরোধিতা আর শিক্ষকদের ওপর সরকারি নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তা সত্ত্বেও কলকাতা-সহ বেশ কিছু জেলার স্কুলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি চালু হয়েছে। তার মধ্যেই এ বার বাঁকুড়া আর বিষ্ণুপুর জেলায় এই প্রকল্প চালু হল। চলতি মাসের ৮ তারিখে একটি নির্দেশিকা জেলার স্কুলগুলিতে পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়েছে, এই শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-সহ অশিক্ষক কর্মীদের এই প্রথা মেনে চলতে হবে। আরও বলা হয়েছে, এসএমএস-এর তথ্য ভুল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন বাঁকুড়ায় স্কুল বন্ধের জেরে পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ কর্তৃপক্ষ

বাঁকুড়ার জেলাশাসক উমাশঙ্কর এস বলেন, “আমরা মুখযমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নিয়েছি। বাঁকুড়া জেলার সমস্ত সরকারি দফতরে বায়োমেট্রিক উপস্থিতির ব্যবস্থা রয়েছে। ধীরে ধীরে হাসপাতালগুলিতেও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রথম পর্যায়ে পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে এই ব্যবস্থা চালু করা হল। খুব শীঘ্রই একটি অ্যাপ চালু হবে। সেই অ্যাপের মাধ্যমে সরকারি পোর্টালে এসএমএসের মাধ্যমে উপস্থিতির তালিকা প্রকাশ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ এই বিষয়টি দেখতে পান।”

আরও পড়ুন – ফ্লপের ভয়, ঐশ্বর্য-অমিতাভ থাকলেও মণি রত্নমের নয়া ছবি থেকে বাদ অভিষেক!

বর্তমানে বাঁকুড়া বিষ্ণুপুর মিলিয়ে ৪৫০টি সরকারি ও সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয় রয়েছে। বাঁকুড়া জেলার ডিআই পঙ্কজ রায় বলেন, “জেলাশাসকের নির্দেশ আমরা এই নির্দেশিকা জারি করি। শিক্ষকদের উপস্থিতির হার আমাদের এসএমএস করে জানাতে হবে।”

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সহ সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “স্কুলের শিক্ষকদের জন্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের নির্ধারিত নিয়ম আছে। তাঁরা হাজিরা খাতায় সই করেন। যদি সেই নিয়মের পরিবর্তন হয় তা হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটব।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here