কলকাতা: আড়াই বছরেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান। বৃহস্পতিবার বিকেলে নতুন রূপে খুলে গেল টালা ব্রিজ। রিমোট টিপে নবনির্মিত সেতুর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। রক্ষণাবেক্ষণ কাজ তদারকির জন্য আপাতত চলবে না বড়ো গাড়ি।

আড়াই বছরেই নতুন ব্রিজ

ব্রিজের উদ্বোধন করে মমতা বলেন, “পুজোর আগে উত্তর কলকাতার জন্য এটা একটা বড়ো উপহার। মাঝেরহাট ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর দেখেছিলাম কী রকম সমস্যা হয়। কতটা ঘুরে ঘুরে যেতে হতো। চার থেকে পাঁচ বছর মানুষ কষ্ট করেছে। টালা ব্রিজ যখন ভাঙে হয় তখন ৪ মাস সময় নিয়েছিল রেল। তার পরেও তাড়াতাড়ি কাজটা হয়ে গিয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে কাজ করেছে পূর্ত দফতর। কোভিডের জন্য কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ব্রিজ নির্মাণকারী সংস্থা, কর্মী-ইঞ্জিনয়ার দিনরাত এক করে কাজ করেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ। অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদেরকেও ধন্যবাদ জানাই”।

স্থানীয়দের সমস্যা

উদ্বোধনের আগেই সেতুর বেশ কিছু সমস্যা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ দিন বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিট নাগাদ রিমোটে উদ্বোধন করে স্থানীয় মানুষের দাবি-দাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি শুনেছি, ফুটপাত, সিঁড়ি এবং সার্ভিস রোড নিয়ে স্থানীয় মানুষের কিছু সমস্যা রয়েছে। এখন যতটা সম্ভব করে দেওয়া হচ্ছে। পূর্ত দফতরকে বলব ব্যাপারটা দেখে নিতে। দু’-তিন মাসের মধ্যে যাতে কাজগুলো হয়ে যায়, সেটা দেখতে হবে”।

আগের থেকে চওড়া

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আগের ব্রিজের থেকে নতুন ব্রিজ আরও চওড়া। আগেরটা ছিল দুই লেনের। এটা চার লেনের। ভারবহনের ক্ষমতাও অনেক বেশি। নতুন ব্রিজের দৈর্ঘ ৭৫০ মিটার। চিৎপুরের দিকের র‍্যাম্পের দৈর্ঘ ৩০০ মিটার। ব্রিজ তৈরি করতে রাজ্য সরকারের খরচ হয়েছে ৫০৪ কোটি টাকা। এর জন্য রেলকেও টাকা দিতে হয়েছে। পুরনো ব্রিজ ভাঙার জন্য রেল নিয়েছে প্রায় ৯০ কোটি টাকা। মাঝেরহাট ব্রিজ ভাঙতে খরচ হয়েছিল ৩৪ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। পুজোর আগে এর ফলে যান চালাচলে সুবিধে হবে। এখনই ভারী গাড়ি চলাচল করবে না। কয়েকদিন সময় নেওয়া হবে”।

পুনর্বাসন সমস্যা

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি দিয়েও পুনর্বাসন দেয়নি সরকার। দীর্ঘদিন ধরে টালা ব্রিজের নীচে বসবসা করত বেশ কয়েকটি পরিবার। সেতু তৈরির জন্য তাঁদের উঠে যেতে হয়েছিল। এখন তাঁরা ফুটপাতে বসবাস করছেন। পুনর্বাসন না দিলে সেতু উদ্বোধন করতে দেবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তাঁরা। এ দিন মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, “এখানে শ’দেড়েক গরিব মানুষ রয়েছে। ওদের জন্য আমরা রেলের একটি খালি জমি কিনতে চাই। আপনারা যদি ওই জমি দেন তাহ লে ওখানে ওইসব লোকের জন্য় বাড়ি তৈরি করে দেব। তা না হলে খালের ধারে ওদের আমাকে রাখতে হবে”।

প্রসঙ্গত, উত্তর কলকাতা ও উত্তরের শহরতলিতে যাওয়ার পথে টালা সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুজোর আগে টালা সেতু খুলে যাওয়ার ফলে যানজটের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন