ভোট পরবর্তী হিংসায় সিবিআই তদন্ত চাই, হাইকোর্টে রিপোর্ট জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের

0

খবর অনলাইন ডেস্ক: ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে দায়ের জনস্বার্থ মামলায় বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। ৫০ পাতার ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, “ভোট পরবর্তী হিংসায় সিবিআই তদন্তের প্রয়োজন”। এমনকী রাজ্যের বাইরে ট্রায়ালের পক্ষেও সওয়াল করা হয়েছে। 

ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগে জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে গত ১৮ জুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্তকারী কমিটি গড়তে বলে হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ পেয়ে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করেন কমিটির সদস্যরা। গত ৩০ জুন প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করে কমিশন। তবে তখনও অনেক এলাকা পরদর্শন সম্ভব হয়নি বলে আদালতকে জানায় কমিশন। এ বার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশ করা হল কমিশনের তরফে।

Loading videos...

কী বলল কমিশন?

গত দু’মাসে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে খুন, ধর্ষণ, ভিটেছাড়া করা হয়েছে মানুষকে। এমনই তথ্য তুলে ধরেছে কমিশন। বলা হয়েছে, “ভোট-পরবর্তী হিংসায় সিবিআই তদন্তের প্রয়োজন। গোটা মামলার বিচারপর্ব রাজ্যের বাইরে করতে হবে”।

কমিশনের প্রতিনিধিরা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিশেষ পরামর্শও দিয়েছেন। বলা হয়েছে, “আদালতের পর্যবেক্ষণে সিট গঠন করে তদন্ত হোক। দ্রুত বিচারে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করে বিচার শেষ করতে হবে। বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করতে হবে। সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে”।

উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই রিপোর্টে কমিশন দাবি করেছে, “এই ধরনের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না হলে ছড়িয়ে পড়বে অন্য রাজ্যে। ভারতের মতো মহান দেশে গণতন্ত্রের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যাবে।এই হিংসা অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার”।

চিত্ত যেথা ভয় শূন্য…

এই রিপোর্টে কার্যত রাজ্য সরকারের নিন্দায় মুখর হয়েছে কমিশন। ‘চিত্ত যেথা ভয় শূন্য উচ্চ যেথা শির…’, রবীন্দ্রনাথের কবিতার লাইন উল্লেখ করে কমিশনের অভিযোগ, “২ মে ফল ঘোষণার পর থেকে এ রাজ্যে হাজার হাজার মানুষ ঘরছাড়া। রবীন্দ্রনাথের মাটিতে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছে। শেষ দু’মাসে বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে। বিধানসভার ফল ঘোষণার পর থেকে এ রাজ্যে এমন বহু ঘটনা ঘটেছে যা, এই মাটির সম্মান নষ্ট করেছে”।

প্রসঙ্গত, এর আগেই কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছে, “ভোট পরবর্তী হিংসা’য় যাঁরা আহত হয়েছেন তাঁদের চিকিৎসার ভার রাজ্য সরকারকে নিতে হবে। সমস্ত আক্রান্তের কাছে রেশন পৌঁছে দিতে হবে। যদি কোনো আক্রান্তের কাছে রেশন কার্ড না থাকে, সে ক্ষেত্রেও রেশন দিতে হবে রাজ্য সরকারকে”।

আরও পড়তে পারেন: ‘ভোট-পরবর্তী হিংসা’ নিয়ে আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন