কোভিডের টিকা পেতে সাধারণ মানুষকে ২০২২ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে, বললেন এইমসের ডিরেক্টর

0
Randeep Guleria

খবর অনলাইন ডেস্ক: কোভিড-১৯ মহামারির আবহে জোরালো চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে এর ভ্যাকসিন। এখনও পর্যন্ত ভারতে কোনো কোভিড ভ্যাকসিন আসেনি। যে কারণে, কবে তা সাধারণ মানুষের নাগালে আসবে, সে সব নিয়েই চলছে গুঞ্জন। এরই মধ্যে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর ডিরেক্টর ডা. রণদীপ গুলেরিয়া (Dr Randeep Guleria) জানালেন, ২০২২ সালের আগে সাধারণ মানুষের ভ্যাকসিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

প্রত্যেক ভারতবাসীর জন্য টিকা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র যে জাতীয় স্তরের টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে, তার অন্যতম সদস্য গুলেরিয়া। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য বাজারে করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন (Coronavirus vaccine) সহজলভ্য হতে আরও ‘এক বছরের বেশি’ সময় লাগতে পারে।

সিএনএন-নিউজ১৮-র কাছে একটি সাক্ষাৎকারে ডা. গুলেরিয়া বলেন, “আমাদের দেশে বিপুল জনসংখ্যা। ফলে সাধারণ ফ্লু ভ্যাকসিনের মতো বাজার থেকে কিনে কী ভাবে এই ভ্যাকসিন ব্যবহার করা যাবে, তার জন্য অপেক্ষা করতেই হবে। এর জন্য এক বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে”।

চ্যালেঞ্জ রয়েছে একাধিক

শুধুমাত্র ভ্যাকসিন এলেই হবে না, করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন পাওয়ার পরে ভারতকে কী কী চ্যালেঞ্জগুলি আসবে সেগুলিও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে এইমসের ডিরেক্টর বলেন, “দেশের প্রতিটি কোনায় কী ভাবে ভ্যাকসিন পৌঁছাবে, সেটাই অগ্রাধিকারের বিষয়। কোল্ড চেন ব্যবস্থা বজায় রাখা, পর্যাপ্ত সংখ্যক সিরিঞ্জ, সূচ-সহ সমস্ত সরজ্ঞামই ভ্যাকসিনের সঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছাতে হবে”।

একটি ভ্য়াকসিন বাজারে আসার পর তা পরে যেটি আসছে, সেটি প্রথমটির থেকে বেশি কার্যকর হতেই পারে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করাও একটি মুখ্য বিষয়। তিনি বলেন, “প্রথমটির থেকে দ্বিতীয় ভ্যাকসিনটি আরও বেশি কার্যকর হতেই পারে। সে ক্ষেত্রে আমরা কী অবস্থান নেব? আমরা কী কোর্স সংশোধন করব? তখন তো সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আমরা কাদের কোন ভ্যাকসিন দেওয়া দরকার। এ ধরনের নিত্যনতুন একাধিক চ্যালেঞ্জ আসতে পারে, এবং সে ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্তও নিতে হবে”।

গ্রামাঞ্চলে কতটা ঝুঁকি?

ভারতে কোভিড-১৯ মহামারির (Covid-19 pandemic) বিস্তার প্রসঙ্গে গুলেরিয়া বলেন, “বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সময়ে প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে অতিমারির। এটা ভারতের গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রেও সমান ভাবে প্রযোজ্য। প্রাথমিক ভাবে ভারতের শহরাঞ্চলে এর প্রাদুর্ভাব ধরা পড়েছিল। তবে ক্রমশ তা ছোটো ছোটো শহর এব গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে। তবে ভারতের গ্রামাঞ্চলগুলির একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট হল সেখানে জনঘনত্ব তুলনামূলক ভাবে কম। ফলে শারীরিক দূরত্ব বজায় থাকছে। যে কারণে শহরাঞ্চলে যে ভাবে আচমকা মহামারির প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে, গ্রামে সেটা হতে সময় লাগে”।

দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে গুলেরিয়া বলেন, টিকাকরণের সঙ্গে সঙ্গেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ “ভ্যানিশ হয়ে যাবে না”।

অগ্রাধিকার ৩০ কোটির!

বিশ্ব জুড়ে চলছে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন তৈরির জোরালো প্রস্তুতি। একই সঙ্গে ভারত সরকারও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৩০ কোটি মানুষ, বিশেষত করোনার ঝুঁকি রয়েছে এবং বয়স্ক, এমন গোষ্ঠীকে শনাক্ত করছে। করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হাতে এলেই এঁদের জন্য বিনামূল্যে করোনার টিকা জোগাবে বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রে।

এই অতিমারির যুদ্ধে যাঁরা একেবারে সামনে থেকে লড়াই করছেন- যেমন স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, নিকাশিকর্মী এবং কো-মর্বিডিটি রয়েছে এমন বয়স্ক মানুষেরা টিকাকরণে অগ্রাধিকার পাবেন।

আরও পড়তে পারেন: কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৮৫ লক্ষ, সক্রিয় রোগী মাত্র ৬ শতাংশ

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন