বিধিনিষেধের গেরোয় মার খাচ্ছেন জবাফুল চাষি থেকে বিক্রেতারা, ঠাকুরনগর ফুলবাজার পরিদর্শনে সরকারি আধিকারিকরা

0

প্রতিনিধি, উত্তর ২৪ পরগনা: করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ-সহ কার্যত লকডাউন চলছে রাজ্যে। বুধবার থেকে ওই বিধিনিষেধের সময়সীমা বাড়িয়ে ১ জুলাই করা হলেও সকাল ৭টা -১১টা পর্যন্ত বাজার খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন জবাফুল চাষি-সহ বিক্রেতারা।

রাজ্যের বৃহত্তর ফুলবাজারগুলির মধ্যে ঠাকুরনগর ফুলবাজার অন্যতম। ঠাকুরনগর ফুলবাজারের জবাফুল চাষি থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা প্রভূত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন বলে জানান তাঁরা।

Loading videos...

ঠাকুরনগর ফুলবাজার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক পার্থপ্রতিম বিশ্বাস, পিনাকী বিশ্বাস এবং সহ সভাপতি মৃদুল বিশ্বাস ও প্রশান্ত দাসঠাকুরের আহ্বানে গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ইলা বাগচী, গাইঘাটার সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সঞ্জয় সেনাপতি, যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক কার্তিক রায়, গাইঘাটা থানার আধিকারিক বলাইকুমার ঘোষের তত্ত্বাবধানে ঠাকুরনগর ফুলবাজার পরিদর্শনে যান। প্রবেশের মুখে দেখা যায় স্যানিটাইজ করে বাজারে ঢোকানো হয় প্রত্যেককে।

বুধবার পরিদর্শন চলাকালীন সহ-সভাপতি এবং সরকারি আধিকারিকেরা ফুল চাষি, ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন। তাঁরা জানান, সরকারি বিধি মেনে সকাল ৭টা-১১টা পর্যন্ত বাজার খোলা থাকায় অন্যান্য ফুল বিক্রি হলেও বিপাকে পড়ছেন জবা ফুলের কুঁড়ি নিয়ে। জবা ফুলের কুঁড়ি সাধারণত বিকেল বেলায় ফোটে, আর নিয়মের গেরোয় সেই সময়েই বিক্রি করা সম্ভব নয়।

তাঁরা আরও জানান, ফুল পচনশীল হওয়ায় প্রস্ফুটিত জবাফুল হিমঘরে রাখলে বিক্রির অযোগ্য হয়ে যায়। সকালবেলা মূলত বাধ্য হয়েই জলের দরে ফুল বিক্রি করতে হয়, অনেক সময় ক্রেতারা কিনতেও চান না, তাই বাধ্য হয়েই জবাফুল ফেলে দিতে হয় বলেই জানান চাষি থেকে বিক্রেতারা। সরকার যদি তাঁদের ফুল বিক্রির সময়সীমা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা করত, তা হলে অনেকেই উপকৃত হতেন, আধিকারিকদের কাছে এমনটাই জানান তাঁরা।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ঠাকুরনগর ফুলবাজার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় আধিকারিকেরা ফুলক্রেতা এবং বিক্রেতাদের হাতে এ দিন মাস্ক-স্যানিটাইজার বিতরণ করেন। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারি বিধিনিষেধ সম্পর্কিত জনসচেতনতা মূলক মাইকিং করা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে সরকারি বিধিনিষেধ পালন করতে দেখা যায় এ দিন।

গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি ইলা বাগচী জানান, “আমরা সহানুভূতির সঙ্গে জবাফুল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সকলের অবস্থার কথা বিবেচনা করব”। একই সঙ্গে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “সরকারি বিধিনিষেধ মেনে করোনা মহামারির মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করুন। আমরা চাই বৃহত্তর ঠাকুরনগর ফুলবাজার আবার স্বমহিমায় ফিরে আসুক”।

আরও পড়তে পারেন: বাম শিবিরে ফের ভাঙন শিলিগুড়িতে, তৃণমূলে যোগ দিলেন দীর্ঘদিনের কাউন্সিলার-সহ অনেকেই

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.