আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নির্বিচারে কাটা হয়েছে দুর্লভ গাছ, সরজমিন তদন্তে জেলাশাসক উলগানাথন

    আরও পড়ুন

    উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর: সরকারি আইন ভেঙে করে নির্বিচারে দুর্লভ গাছের পর গাছ কেটে ধবংসলীলা চালানোর অভিযোগের সরজমিনে তদন্ত করতে শনিবার দুপুরে জয়নগরে এলেন জেলাশাসক পি উলগানাথন।

    উল্লেখ্য,গত বছর জয়নগর-১ ব্লকের শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন নেতাজি পার্কে উম্পুনের পড়ে যাওয়া গাছ কাটার নাম করে দাঁড়িয়ে থাকা বহু মূল্যের সরকারি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে গাছ কেটে পরিবেশ নষ্ট করার বিরুদ্ধে এই পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান সহদেব কয়াল কলকাতা হাইকোর্টের গ্রিন ট্রাইবুনালে জনস্বার্থে একটি মামলা দায়ের করেন।

    Loading videos...

    গত ২১ জুন সেই মামলার শুনানিতে বিচারক জেলাশাসকের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেন। আর তাঁরই পরিপেক্ষিতে এ দিন অতিরিক্ত জেলা শাসক, ডিএফও মিলন মণ্ডল, বারুইপুর মহকুমা ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেড রাখী পাল, জয়নগর- ১ বিডিও সত্যজিৎ বিশ্বাস, ব্লক ভূমি রাজস্ব আধিকারিক-সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে নেতাজি পার্কে এসে সরজমিনে তদন্ত করে গেলেন জেলাশাসক পি উলগানাথন।

    - Advertisement -

    জেলাশাসক এ দিন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কাটা গাছগুলো পরীক্ষা করেন। কথা বলেন স্থানীয় মানুষজন ও মামলাকারী সহদেব কয়ালের সঙ্গেও।

    এ ব্যাপারে মামলাকালী তথা শ্রীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান সহদেব কয়াল বলেন, “আমি প্রধান থাকাকালীন বনাঞ্চল কেটে ১৯৯৬ সালের ২৩ জানুয়ারি তিন বিঘা জমির উপর নেতাজির নামে একটি পার্ক তৈরি করি। পার্ককে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে সোনাঝুরি-সহ বহু মূল্যবান গাছ বসাই। গত বছর ২০ মের উম্পুনে কয়েকটি গাছ পড়ে যায়। পঞ্চায়েত বন দফতরকে না জানিয়ে বন আইন ভেঙে সেই কয়েকটি গাছ-সহ প্রায় ৪০টির মতো গাছ বিক্রি করে দেয়। এবং কয়েক দিন ধরে সেই গাছ কাটাও হয়। যার মধ্যে সোনাঝুরির মতন গাছ-ও ছিল। আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বিভিন্ন দফতরে জানিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় শেষে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থে মামলা সেই ঘটনা তদন্তে জেলা শাসক পি উলগানাথন এই পার্কে এসে সরজমিনে তদন্ত করে গেলেন”।

    এ ব্যাপারে জেলা শাসক পি উলগানাথন এ দিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই এলাকার কিছু গাছ কাটার তদন্তে এসেছিলাম। রিপোর্ট হাইকোর্টে জমা দেব। তবে এই পার্কের সৌন্দর্যায়নের জন্য ভাবনাচিন্তা করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই পার্ককে কী ভাবে সাজিয়ে তোলা যায়”।

    এ দিন এই পার্ক থেকে বেরিয়ে জেলাশাসক পি উলগানাথন সোজা চলে যান জয়নগর-১ বিডিও অফিস বহড়ুতে। সেখানে জয়নগরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাসের উপস্থিতিতে তিনি একটি প্রশাসনিক বৈঠকও করেন।

    আরও পড়তে পারেন: টিকাকেন্দ্রেই পৌঁছালেন না, অথচ সার্টিফিকেট মিলে গেল কো-উইন অ্যাপে! তার পর?

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর