Connect with us

উঃ ২৪ পরগনা

ভাটপাড়া পুরসভায় ধাক্কা তৃণমূলের

Kolkata High Court

ওয়েবডেস্ক: ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে বৃহস্পতিবার উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ায় ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল। তবে এ দিনই বিজেপির দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট অনাস্থা প্রস্তাবের বিজ্ঞপ্তিকে খারিজ করে দেওয়ায় ফের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুরসভা হাতছাড়া হল রাজ্যের শাসক দলের।

এ দিন হাইকোর্ট গত ৩০ ডিসেম্বর জারি করা অনাস্থা প্রস্তাবের বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দেয়। বিজেপি অভিযোগ তুলেছিল, আগামী ২০ জানুয়ারি পুরপ্রধান সৌরভ সিং বৈঠক ডাকলেও তার আগে এ দিন নিয়ম ভেঙে আস্থাভোট করেছে তৃণমূল।

এ দিন আস্থাভোটে ৩৫ কাউন্সিলারের ভাটপাড়া পুরসভায় ১৯-০ ব্যবধানে জিতেছে তৃণমূল। অন্য দিকে বিজেপি কাউন্সিলাররা ভোট বয়কট করেন। জানা যায়, তাঁরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

[ আরও পড়ুন: রাজ্যের একমাত্র পুরসভাও হাতছাড়া হল বিজেপির ]

হাইকোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, এ দিনের বৈঠকে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, এ দিনের ভোটাভুটিও বাতিল করে দেয় উচ্চ আদালত। গত ৩০ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছিল, আগামী ২ জানুয়ারি আস্থা ভোট হবে পুরসভায়। সেই বিজ্ঞপ্তি খারিজের সঙ্গে সঙ্গেই বল ফের বিজেপির কোর্টে ফিরে এল।

তবে রাজ্যের মন্ত্রী এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার এই নির্দেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানাবে তৃণমূল।

উঃ ২৪ পরগনা

উম্পুন প্রলয়ের পরে: সামনেই ভরা কোটাল, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সন্দেশখালির মানুষ

সুব্রত গোস্বামী

প্রায় দু’ সপ্তাহ হতে চলল, পশ্চিমবঙ্গে তাণ্ডব চালিয়ে চলে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় উম্পুন (Cyclone Amphan)। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Paraganas) সন্দেশখালির (Sandeshkhali) ন্যাজাট অঞ্চল এখনও জলমগ্ন। রাস্তার দু’ ধারে শুধু জল আর জল। পাকা বাড়িতে এখনও কোমরসমান জল। রাস্তাই এখন বাসিন্দাদের একমাত্র আশ্রয়। বাড়ির গৃহপালিত পশুদের নিয়ে সহাবস্থান। মাথার উপরে প্লাস্টিকের আচ্ছাদন।

উম্পুন-এর দিন রাত ১১টা নাগাদ নদীর বাঁধ ভেঙে পুরো অঞ্চল জলে ভেসে যায়। পরনের এক টুকরো কাপড় সম্বল করে বাসিন্দারা আশ্রয় নেন উঁচু রাস্তার উপরে। এখনও তাঁরা সেখানেই রয়ে গিয়েছেন। সুন্দরবনের বিষাক্ত সাপ তাঁদের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। ঘরে গিয়ে যে সামান্য পোশাক আনবেন, তারও উপায় নেই।

উম্পুন-হানার তিন-চার দিন পরে মানুষের বিক্ষোভে প্রশাসনের টনক নড়ে। পঞ্চায়েত থেকে খাবার দেওয়া হচ্ছে বটে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। ভরসা শুধু বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দেওয়া শুকনো খাবার। কিন্তু করোনার (Covid 19) ভয়ে এঁরাও আসতে ভয় পাচ্ছেন। আয়লার সময়ে এই সব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দেওয়া ত্রাণেই মানুষ বেঁচে ছিল।

শারীরিক দূরত্ব বা মুখে মাস্কের বালাই নেই। জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন স্কুলে আর রাস্তার ধারে মানুষ গাদাগাদি করে অবস্থান করছে। কোনো নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কবে জল নামবে কেউ জানে না। পানীয় জলের তীব্র অভাব। জলে মাছ, হাঁস, মুরগি মরে রয়েছে। চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানুষ বাঁচার জন্য তীব্র লড়াই করছে।

ন্যাজাট-কালীনগর দিয়েই যেতে হয় বাইনালা, শুলকুনি, ঘুনি-দুর্গাপুর, খেজুরবেড়ে। এই সব অঞ্চলে ত্রাণ নিয়ে এখনও পৌঁছোনো যাচ্ছে না। নদীর পাড় জুড়ে ইটভাটা। এরা কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে নদী থেকে পলি তুলছে। নদীর বাঁধ যেখানে ১৫-২০ ফুট উঁচু থাকার কথা, সেচ দফতরের উদাসীনতায় তা কোথাও কোথাও ২-৩ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। এর ফলেই নদীবাঁধের ভাঙন।

এখনও যদি প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয়, তবে আগামী দিনে আরও বড়ো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে চলেছে সন্দেশখালির এই অঞ্চল। সামনেই ভরা কোটাল (high tide)। তখন কী হবে, এই ভেবেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এখানকার মানুষজন।

পড়তে থাকুন

উঃ ২৪ পরগনা

অশোকনগর বৈশাখী উৎসব কমিটির রক্তদান শিবিরে রক্ত দিলেন ৫২ জন

খবর অনলাইন ডেস্ক: গরম কালে এমনিতেই রক্তদানের (blood donation) প্রবণতা কমে যায়। ফলে রক্তসঞ্চয়ে সংকট তৈরি হয়। এ বার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস (coronavirus) জনিত পরিস্থিতি। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে লকডাউন (lockdown)। ফলে রক্তদানে আরও ভাটা সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকটের কিছুটা সুরাহা করতে এগিয়ে এল অশোকনগর বৈশাখী উৎসব কমিটি (Ashoknagar Baishakhi Utsab Committee)।

করোনাভাইরাসে সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। ও দিকে ঘূর্ণিঝড় উম্পুনের হানা। এই পরিস্থিতিতে অসুস্থ মানুষদের সুস্থ করা সংকটজনক হয়ে উঠেছে।

বহু অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করে তোলার অন্যতম প্রধান উপাদান রক্ত। সেই রক্তদান ত্বরান্বিত করতে সম্প্রতি শিবিরের আয়োজন করেছিল অশোকনগর বৈশাখী উৎসব কমিটি। তত্ত্বাবধানে ছিল বারাসত ক্যানসার রিসার্চ হসপিটাল (Barasat Cancer Research Hospital)।

রক্তদান শিবির সফল করতে এলাকার ছাত্র-যুবরা এগিয়ে আসেন। মোট ৫২ জন রক্তদান করেন। এলাকার মেয়েরাও এই শিবিরে সমান ভাবে যোগ দেন।

মেয়েরা যে ভাবে রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন সে দিন তাতে আপ্লুত বৈশাখী উৎসব কমিটি’র আহ্বায়ক দেবাশিস মজুমদার। এ ভাবে সকলে মানবসেবার কাজে ব্রতী হওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, “এই কাজে ছাত্র ও যুব সমাজ যত বেশি এগিয়ে আসবে ততই আমাদের সমাজের, দেশের মঙ্গল।”

পড়তে থাকুন

উঃ ২৪ পরগনা

একা উম্পুনে রক্ষে নেই, এ বার চোখ রাঙাচ্ছে ভরা কোটাল, দুই ২৪ পরগণায় আতঙ্ক

খবর অনলাইনডেস্ক: ভয়াল ঘূর্ণিঝড় উম্পুনের (Cyclone Amphan) তাণ্ডবে সুন্দরবন-সহ দুই ২৪ পরগণায় নদীবাঁধগুলোর যে কী অবস্থা সে তো এখন সবাই জেনে গিয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে নতুন একটি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেটি হল ভরা কোটালের আতঙ্ক।

আগামী ৫ জুন ভরা কোটাল। অতীতে কোটালের সময়ে দেখা গিয়েছে যে বাঁধ উপচে সমুদ্রের জল ঢুকেছে গ্রামে। বিঘার পর বিঘা ভাসিয়ে দিয়েছে নোনা জল। এ বার তো উম্পুনের পর বাঁধ এমনিতেই দুর্বল হয়ে গিয়েছে। তাই কী হবে, কার্যত ভেবেই পাচ্ছেন না উম্পুন-দুর্গতরা।

শুধুমাত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনাতেই ভেঙেছে সাড়ে ৬৬ কিলোমিটার নদীবাঁধ (River Embankments)। ১৪৪টি ছোটো বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ । উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার চিত্রও তথৈবচ । ফলে এই দুই জেলায় কোটালের জল গ্রামে ঢুকে আবারও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, সেই আশঙ্কায় এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ প্রশাসনের।

জেলা প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধ অঞ্চল ঘুরে দেখছেন সেচ দফতরের কর্তারা। তবে বেশির ভাগ জায়গাতেই নদীবাঁধ বাঁচাতে হাতে হাত মিলিয়েছে সাধারণ মানুষ। দিন-রাত এক করে নতুন করে বাঁধ গড়ছেন তাঁরা।

দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাঁধ মেরামতির কাজে লাগানো হয়েছে একশো দিনের কাজের কর্মীদের। শুধুমাত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় এই সংখ্যাটা এক লক্ষের বেশি। বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা ভরাতে আপাতত বালির ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। অতি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতির অযোগ্য হলে তার কাছেই সমান্তরাল বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

পড়তে থাকুন

নজরে