খবর অনলাইন ডেস্ক: বনগাঁর গোপালনগরের দলীয় সভা থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিজের পুরনো সম্পর্কের কথা তুলে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন তৃণমূল নেত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

সভার শুরুতেই মমতা বলেন, “৩০ বছর ধরে আমি বড়োমার চিকিৎসা করিয়েছি। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মাধ্যমে নিয়মিত বড়োমার খোঁজখবর নিয়েছি। এখানে আমি নতুন নয়। মতুয়াদের উন্নয়নের জন্য বোর্ড করেছি। মতুয়া ভাইবোনেদের উন্নয়নের জন্য বোর্ডে ইতিমধ্যেই ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি”।

তিনি বলেন, “মতুয়া সঙ্ঘের প্রধান হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁদের জীবনী এবং বাণী ইতিমধ্যেই স্কুলপাঠ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আরও কিছু সংযোজন করতে চাইলে শিক্ষা পর্ষদকে জানাবেন। পাশাপাশি তাঁদের জন্মদিনে ছুটি ঘোষণা করা হবে। আমি যা করব বলেছিলাম, সব করেছি। আমি বিজেপির মতো নয়, নিজের কাজ ফুরোলে পালিয়ে যাব”।

সিএএ, এনআরসি প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “সিএএ-র নামে ভারতের নাগরিকদের প্রতারণার চেষ্টা চলছে। মতুয়ারা সকলেই ভারতের নাগরিক। আমরা তাঁদের নাগরিকত্ব দিয়েছি। নতুন করে আবার কোনো কাগজ লাগবে কেন। আপনাদের কোনো প্রমাণপত্রের প্রয়োজন নেই। রাজ্যে এনআরসি-এনপিআর করতে দেব না”।

গেরুয়া শিবিরকে এক হাত নিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপি বাইরে থেকে আরএসএসের গুন্ডা নিয়ে আসছে। এরা বহিরাগত, বাংলার ভালো চায় না। রাজ্যে বিভাজনের রাজনীতি করছে। বাইরের লোক নিয়ে এসে মতুয়াদের হিন্দুধর্ম সম্পর্কে শেখাচ্ছে। ঠাকুর পরিবারকে ভেঙে দিয়েছে। রাজ্যকে গুজরাত বানাতে দেব না। রাজনৈতিক ভাবে, গণতান্ত্রিক ভাবে লড়াই করো”।

কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কৃষকদের জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। গায়ের জোরে তিনটি কৃষক-বিরোধী আইন করেছে। কৃষকরা যা আয় করবেন, তা জোতদার, আড়তদারদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা তাই আন্দোলন করছেন। আমরা তাঁদের পাশে আছি। আলু, পেঁয়াজ, ডাল- সবই অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নয়। এর পর আর আলুসেদ্ধ, ভাত খাওয়ার সামর্থ্য থাকবে না। শীত পেরোলেই পেঁয়াজ ১৮০ টাকা কেজি হয়ে যাবে”।

কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “উম্পুনে ছারখার হয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এসে নাটক করে গেলেন। বলে গেলেন, এক হাজার কোটি টাকা দিয়ে গেলাম। কেন্দ্র কোনো টাকা দেয়নি। আমাদের টাকাই আমাদের আগাম দিয়েছিল। এখন হিসেব চাইছে। উম্পুন-করোনায় কত টাকা দিয়েছ, যে কৈফিয়ত চাইছ? আমরাই ত্রাণের সমস্ত কাজ করেছি। কাজ করব আমরা, আর কৈফিয়ত চাইবে। ভাত দেওয়ার ক্ষমতা নেই, কিল মারার গোঁসাই”।

এ দিনের সভায় সিপিএম-প্রসঙ্গও ছুঁয়ে যান মমতা। বলেন, “সিপিএমের হার্মাদরা এখন বিজেপির ওস্তাদ। সিপিএমের অত্যাচারের কথা ভুলে যায়নি বাংলার মানুষ”।

আরও পড়তে পারেন: ‘কৃষকদের সমর্থন রয়েছে’, রাজস্থানের ফলাফল দেখে বুঝে গেলেন জেপি নড্ডা!

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন