Connect with us

উঃ ২৪ পরগনা

ধেয়ে আসছে উম্পুন, তিন জেলায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি

খবর অনলাইনডেস্ক: মাত্র মাস ছয়েক আগেই এসেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ (Cyclone Bulbul)। সেই স্মৃতি কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের ঘূর্ণিঝড়ের চোখরাঙানি। এ বার আরও ভয়াবহ। ঘূর্ণিঝড় উম্পুনের (Cyclone Amphan) মোকাবিলায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে রাজ্যের উপকূলবর্তী তিন জেলায় – পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং উত্তর ২৪ পরগণায়।

প্রশাসনের সব থেকে বেশি মাথাব্যাথার কারণ দক্ষিণ ২৪ পরগণা। সুন্দরবন (Sunderbans) এলাকার বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলি থেকে মানুষজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়াই এখন চ্যালেঞ্জ।

সোমবার এমনই বিচ্ছিন্ন, ঘোড়ামারা দ্বীপ থেকে বেশ কিছু বাসিন্দাকে সরিয়ে আনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনটি খালি ট্রলার নিয়ে পুলিশ ওই দ্বীপে যায়। নদী লাগোয়া চুনপুড়ি, খাঁপাড়া, খাসিমারা, বাগপাড়া, হাটখোলা গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার জন্য বোঝানো হয়।

তবে বেশির ভাগ মানুষই গৃহপালিত পশুপাখি ফেলে যেতে রাজি হননি। প্রশাসন সূত্রের খবর, শেষ পর্যন্ত প্রায় শ’খানেক বাসিন্দাকে ট্রলারে করে সাগরদ্বীপে আনা হয়। আপাতত ঘোড়ামারা ঘাটে পুলিশ ট্রলার মজুত রেখেছে। কেউ সাগরদ্বীপে আশ্রয় নিতে চাইলেই তুলে নিয়ে আসা হবে।

ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে সব থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে ঘোড়ামারা, মৌসুনী, লোথিয়ান, সাগর প্রভৃতি দ্বীপেই।

বিপর্যয় মোকাবিলায় এ দিন ক্যানিং মহকুমাশাসক বন্দনা পোখরিয়ালের নেতৃত্বে একটি প্রশাসনিক বৈঠক হয়। সেচ, বিদ্যুৎ, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ আধিকারিকরাও।

যে সব নদীবাঁধ দুর্বল রয়েছে, সেগুলি মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সেচ দফতর। ক্যানিং ১ ব্লকের নিকারিঘাটা পঞ্চায়েতের উদ্যোগে ১০০ দিনের কাজের শ্রমিকদের নিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলা দল তৈরি করা হয়েছে।

দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নদী তীরবর্তী এলাকা এবং সুন্দরবনের প্রত্যন্ত গ্রামগুলি থেকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। আরও ৬০ হাজার মানুষকে সরানো হবে। বহু মৎস্যজীবীকেও সুন্দরবনের নদী, সমুদ্র থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা, গোসাবাতে এনডিআরএফ টিমকে নিযুক্ত করা হয়েছে।

উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ, মিনাখাঁ, হাসনাবাদ, সন্দেশখালি এলাকাতেও সোমবার সকাল থেকে ঘূর্ণিঝড় নিয়ে প্রচার শুরু হয়েছে। উপকূলবর্তী যোগেশগঞ্জ, কালীতলা, গোবিন্দকাটি, সাহেবখালি এলাকা থেকে বহু মানুষকে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রে তুলে আনা হয়েছে বলে ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন উম্পুন লাইভ: শক্তি কমানোর প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেল ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে

চূড়ান্ত প্রস্তুতি পূর্ব মেদিনীপুরেও (East Medinipur)। প্রশাসন সূ্ত্রের খবর, রবিবার সন্ধ্যায় দিঘায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এসে পৌঁছেছে। তারা রামনগর-১ ব্লকের পদিমাতে ‘ফ্লাড রেসকিউ সেন্টারে’ রয়েছে। এ ছাড়া, রাজ্য সরকারের সিভিল ডিফেন্সের একটি দল হলদিয়াতেও এসেছে।

জেলা প্রশাসন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা দফতর সূত্রের খবর, জেলার জন্য বরাদ্দ ৪০ হাজার ত্রিপল এসেছে। এ ছাড়া বিশেষ ত্রাণ হিসাবে ৩৮৫ মেট্রিক টন চাল পাঠানো হয়েছে। রবিবার রাতেই ত্রাণ কাঁথি, হলদিয়া, এগরা ও তমলুক মহকুমার প্রতি ব্লকে পাঠানো হয়েছে।

প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থা দফতর সূত্রের খবর, দিঘা (Digha) উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্যজীবীদের অস্থায়ী আস্তানা এবং বসতবাড়ি থেকে স্থানান্তর করে সাইক্লোন রেসকিউ সেন্টার ও ফ্লাড শেল্টার সহ সংলগ্ন স্কুলগুলিতে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

সব ক্ষেত্রেই শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি মাথায় রাখা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসন সূত্রে। প্রশাসনের কাছে চ্যালেঞ্জ একজন মানুষেরও মৃত্যু এড়িয়ে এই ঝড় মোকাবিলা করা।

পড়তে থাকুন
Advertisement
মন্তব্যের জন্য ক্লিক করুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

উঃ ২৪ পরগনা

উম্পুন প্রলয়ের পরে: সামনেই ভরা কোটাল, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে সন্দেশখালির মানুষ

সুব্রত গোস্বামী

প্রায় দু’ সপ্তাহ হতে চলল, পশ্চিমবঙ্গে তাণ্ডব চালিয়ে চলে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় উম্পুন (Cyclone Amphan)। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Paraganas) সন্দেশখালির (Sandeshkhali) ন্যাজাট অঞ্চল এখনও জলমগ্ন। রাস্তার দু’ ধারে শুধু জল আর জল। পাকা বাড়িতে এখনও কোমরসমান জল। রাস্তাই এখন বাসিন্দাদের একমাত্র আশ্রয়। বাড়ির গৃহপালিত পশুদের নিয়ে সহাবস্থান। মাথার উপরে প্লাস্টিকের আচ্ছাদন।

উম্পুন-এর দিন রাত ১১টা নাগাদ নদীর বাঁধ ভেঙে পুরো অঞ্চল জলে ভেসে যায়। পরনের এক টুকরো কাপড় সম্বল করে বাসিন্দারা আশ্রয় নেন উঁচু রাস্তার উপরে। এখনও তাঁরা সেখানেই রয়ে গিয়েছেন। সুন্দরবনের বিষাক্ত সাপ তাঁদের ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। ঘরে গিয়ে যে সামান্য পোশাক আনবেন, তারও উপায় নেই।

উম্পুন-হানার তিন-চার দিন পরে মানুষের বিক্ষোভে প্রশাসনের টনক নড়ে। পঞ্চায়েত থেকে খাবার দেওয়া হচ্ছে বটে, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। ভরসা শুধু বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দেওয়া শুকনো খাবার। কিন্তু করোনার (Covid 19) ভয়ে এঁরাও আসতে ভয় পাচ্ছেন। আয়লার সময়ে এই সব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দেওয়া ত্রাণেই মানুষ বেঁচে ছিল।

শারীরিক দূরত্ব বা মুখে মাস্কের বালাই নেই। জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন স্কুলে আর রাস্তার ধারে মানুষ গাদাগাদি করে অবস্থান করছে। কোনো নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কবে জল নামবে কেউ জানে না। পানীয় জলের তীব্র অভাব। জলে মাছ, হাঁস, মুরগি মরে রয়েছে। চূড়ান্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মানুষ বাঁচার জন্য তীব্র লড়াই করছে।

ন্যাজাট-কালীনগর দিয়েই যেতে হয় বাইনালা, শুলকুনি, ঘুনি-দুর্গাপুর, খেজুরবেড়ে। এই সব অঞ্চলে ত্রাণ নিয়ে এখনও পৌঁছোনো যাচ্ছে না। নদীর পাড় জুড়ে ইটভাটা। এরা কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে নদী থেকে পলি তুলছে। নদীর বাঁধ যেখানে ১৫-২০ ফুট উঁচু থাকার কথা, সেচ দফতরের উদাসীনতায় তা কোথাও কোথাও ২-৩ ফুটে এসে দাঁড়িয়েছে। এর ফলেই নদীবাঁধের ভাঙন।

এখনও যদি প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয়, তবে আগামী দিনে আরও বড়ো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে চলেছে সন্দেশখালির এই অঞ্চল। সামনেই ভরা কোটাল (high tide)। তখন কী হবে, এই ভেবেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এখানকার মানুষজন।

পড়তে থাকুন

উঃ ২৪ পরগনা

অশোকনগর বৈশাখী উৎসব কমিটির রক্তদান শিবিরে রক্ত দিলেন ৫২ জন

খবর অনলাইন ডেস্ক: গরম কালে এমনিতেই রক্তদানের (blood donation) প্রবণতা কমে যায়। ফলে রক্তসঞ্চয়ে সংকট তৈরি হয়। এ বার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস (coronavirus) জনিত পরিস্থিতি। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে চলছে লকডাউন (lockdown)। ফলে রক্তদানে আরও ভাটা সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকটের কিছুটা সুরাহা করতে এগিয়ে এল অশোকনগর বৈশাখী উৎসব কমিটি (Ashoknagar Baishakhi Utsab Committee)।

করোনাভাইরাসে সাধারণ মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। ও দিকে ঘূর্ণিঝড় উম্পুনের হানা। এই পরিস্থিতিতে অসুস্থ মানুষদের সুস্থ করা সংকটজনক হয়ে উঠেছে।

বহু অসুস্থ মানুষকে সুস্থ করে তোলার অন্যতম প্রধান উপাদান রক্ত। সেই রক্তদান ত্বরান্বিত করতে সম্প্রতি শিবিরের আয়োজন করেছিল অশোকনগর বৈশাখী উৎসব কমিটি। তত্ত্বাবধানে ছিল বারাসত ক্যানসার রিসার্চ হসপিটাল (Barasat Cancer Research Hospital)।

রক্তদান শিবির সফল করতে এলাকার ছাত্র-যুবরা এগিয়ে আসেন। মোট ৫২ জন রক্তদান করেন। এলাকার মেয়েরাও এই শিবিরে সমান ভাবে যোগ দেন।

মেয়েরা যে ভাবে রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন সে দিন তাতে আপ্লুত বৈশাখী উৎসব কমিটি’র আহ্বায়ক দেবাশিস মজুমদার। এ ভাবে সকলে মানবসেবার কাজে ব্রতী হওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, “এই কাজে ছাত্র ও যুব সমাজ যত বেশি এগিয়ে আসবে ততই আমাদের সমাজের, দেশের মঙ্গল।”

পড়তে থাকুন

উঃ ২৪ পরগনা

একা উম্পুনে রক্ষে নেই, এ বার চোখ রাঙাচ্ছে ভরা কোটাল, দুই ২৪ পরগণায় আতঙ্ক

খবর অনলাইনডেস্ক: ভয়াল ঘূর্ণিঝড় উম্পুনের (Cyclone Amphan) তাণ্ডবে সুন্দরবন-সহ দুই ২৪ পরগণায় নদীবাঁধগুলোর যে কী অবস্থা সে তো এখন সবাই জেনে গিয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে নতুন একটি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেটি হল ভরা কোটালের আতঙ্ক।

আগামী ৫ জুন ভরা কোটাল। অতীতে কোটালের সময়ে দেখা গিয়েছে যে বাঁধ উপচে সমুদ্রের জল ঢুকেছে গ্রামে। বিঘার পর বিঘা ভাসিয়ে দিয়েছে নোনা জল। এ বার তো উম্পুনের পর বাঁধ এমনিতেই দুর্বল হয়ে গিয়েছে। তাই কী হবে, কার্যত ভেবেই পাচ্ছেন না উম্পুন-দুর্গতরা।

শুধুমাত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনাতেই ভেঙেছে সাড়ে ৬৬ কিলোমিটার নদীবাঁধ (River Embankments)। ১৪৪টি ছোটো বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ । উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার চিত্রও তথৈবচ । ফলে এই দুই জেলায় কোটালের জল গ্রামে ঢুকে আবারও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, সেই আশঙ্কায় এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ প্রশাসনের।

জেলা প্রশাসনের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধ অঞ্চল ঘুরে দেখছেন সেচ দফতরের কর্তারা। তবে বেশির ভাগ জায়গাতেই নদীবাঁধ বাঁচাতে হাতে হাত মিলিয়েছে সাধারণ মানুষ। দিন-রাত এক করে নতুন করে বাঁধ গড়ছেন তাঁরা।

দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাঁধ মেরামতির কাজে লাগানো হয়েছে একশো দিনের কাজের কর্মীদের। শুধুমাত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় এই সংখ্যাটা এক লক্ষের বেশি। বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা ভরাতে আপাতত বালির ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। অতি ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতির অযোগ্য হলে তার কাছেই সমান্তরাল বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

পড়তে থাকুন

নজরে