Connect with us

উঃ ২৪ পরগনা

টিটাগড়ে বিজেপি নেতা খুনে গ্রেফতার ২

সম্প্রতি নিজের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। মূলত নিজের মেয়ের মুখ চেয়েই এমনটা ভাবছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই জীবন শেষ হয়ে গেল মনীশের।

Published

on

Manish Shukla

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রাজনীতি নয়, পুরোনো শত্রুতার জেরে টিটাগড়ের বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লকে (Manish Shukla) খুন করা হয়েছে বলে আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিল পুলিশ। দু’ জনকে গ্রেফতার করে সেই তত্ত্বেই কার্যত সিলমোহর দিল তারা।

সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মনীশ-খুনে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের নাম মহম্মদ খুররম এবং গুলাব শেখ। পেশায় ব্যবসায়ী খুররম যোগাযোগ করে পেশাদার শুটার গুলাব শেখকে ।

তদন্তে জানা গিয়েছে, মণীশ-খুররমের পুরোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ব্যারাকপুর এলাকায়  অনেক দিন ধরেই চর্চিত। খুররমের বাবা সিপিএম করতেন। তিনিও খুন হন। সেই হত্যাকাণ্ডে উঠে এসেছিল মণীশের নাম। গোয়েন্দাদের দাবি, আক্রোশ মেটাতেই খুন করা হয়েছে মণীশকে।

Loading videos...

তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দু’টি বাইককে চিহ্নিত এবং একজন আততায়ীকে শনাক্ত করা গিয়েছিল। পরে ফুটেজের সূত্র ধরেই খোঁজ পাওয়া যায় খুররমের।

রবিবার রাতে গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যান মণীশ। ময়নাতদন্তে জানা যায় তাঁর দেহে ১৪টি বুলেট-চিহ্ন রয়েছে। খুনের তদন্তভার সোমবার দুপুরেই দেওয়া হয় রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডিকে। সোমবার সিআইডি-র ডিআইজি প্রণব কুমার ঘটনাস্থলে যান। সিআইডি আধিকারিকরা ঘটনাস্থলের ভিডিয়োগ্রাফি করার পাশাপাশি ওই এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখেন।

তদন্তকারীদের সূত্রেই প্রকাশ্যে এসেছে বেশ কয়েকটি তথ্য, যা কাকতালীয় ভাবেই জুড়ে যাচ্ছে মণীশ-খুনের তদন্তের সঙ্গে। মণীশের দেহরক্ষী কেন ঘটনার দিন ছুটিতে গেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মণীশ ঘনিষ্ঠেরা জানিয়েছেন, দেহরক্ষী না থাকলে আগে মণীশ নিজের লাইসেন্সড পিস্তল সঙ্গে রাখতেন। রবিবার সেটাও ছিল না।

তদন্তকারীদের দাবি, এ সমস্ত তথ্যই ছিল আততায়ীদের কাছে। জানা গিয়েছে, এর আগে চার বার হামলা হয়েছে তাঁর উপর। প্রতি বারই কোনো না কোনো ভাবে বেঁচে যান পোড়খাওয়া মণীশ। কিন্তু এ বার আর শেষরক্ষা হল না।

বিজেপিতে যোগদানের আগে সিপিএম এবং তৃণমূল, দুই ঘাটেরই জল খেয়েছেন তিনি। ব্যারাকপুরের ‘ত্রাস’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি নিজের ভাবমূর্তি বদলানোর চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। মূলত নিজের মেয়ের মুখ চেয়েই এমনটা ভাবছিলেন তিনি। কিন্তু তার আগেই জীবন শেষ হয়ে গেল মনীশের।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

চাপের মুখে ‘গোর্খাল্যান্ড’ বদলে গেল ‘জিটিএ’-তে, বিজ্ঞপ্তি বদল কেন্দ্রের

উঃ ২৪ পরগনা

কালীপুজো এলেই মনে পড়ে যায় রানি রাসমণি প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের কথা

দীপান্বিতা কালীপূজো ছাড়াও বিভিন্ন অমাবস্যা এবং বিশেষ করে কল্পতরু উৎসবের দিন বহু ভক্তের সমাগম হয় দক্ষিণেশ্বরে।

Published

on

মা ভবতারিণী।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দক্ষিণেশ্বরে মা ভবতারিণী মন্দিরের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অবধারিত ভাবে চলে আসে রানি রাসমণির কথা।  

রাসমণির জন্ম ১২০০ বঙ্গাব্দ তথা ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে। জন্মেছিলেন হালিশহরে, বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী এক কৈবর্ত পরিবারে, পিতা হরেকৃষ্ণ দাস। হরেকৃষ্ণ দাসের তিনটি সন্তান – প্রথম রামচন্দ্র, দ্বিতীয় গোবিন্দ এবং তৃতীয় রাসমণি। কলকাতার এক প্রাচীন মাহিষ্যবংশীয় ধনাঢ্য জমিদারবাড়িতে রাসমণির বিয়ে হয়েছিল। স্বামী রাজচন্দ্র দাস। পরে তিনি ‘রায়’ উপাধি পাওয়ায় রায় রাজচন্দ্র দাস নামে পরিচিত হন। রাসমণি ছিলেন রাজচন্দ্রের দ্বিতীয় পত্নী। রাজচন্দ্রের পিতা প্রীতিরাম (ওরফে প্রীতরাম) পুত্রের প্রথম বিয়ে দেন ১৮০২ সালে (১২০৯ বঙ্গাব্দে), কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেই বছরেই রাজচন্দ্রের স্ত্রী-বিয়োগ হয়। তার পর রাজচন্দ্রের আবার বিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে মনস্থ করেন প্রীতিরাম।

Loading videos...

রাজচন্দ্র প্রায়ই পুণ্যপর্বাদি উপলক্ষ্যে নৌকাযোগে ত্রিবেণী যেতেন। রাসমণিকে ত্রিবেণীতেই প্রথম দেখেন রাজচন্দ্র এবং সেই কন্যাকেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত করেন। অবশেষে ১২১১ বঙ্গাব্দের ৮ বৈশাখ (১৮০৪ খ্রিঃ) রাজচন্দ্রের সঙ্গে রাসমণির বিয়ে হয়। রাজচন্দ্র তখন ২১ বছরের যুবক, রাসমণির ১১ বছর। রাজচন্দ্র বাস করতেন ৭১ নং ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের পৈতৃক দোতলা বাড়িতে। কয়েক বছর পর তাঁর এই বাড়ির সংলগ্ন সাড়ে ছ’ বিঘা জমিতে একটি প্রাসাদোপম দোতলা ভবন নির্মাণ করান। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ৮ বছর (১২২০-১২২৮ বঙ্গাব্দ) এবং খরচ হয়েছিল প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা। এটাই বর্তমানে রাসমণির বাড়ি বলে পরিচিত।

রাজচন্দ্র-রাসমণির চার কন্যাসন্তান – পদ্মমণি, কুমারী, করুণাময়ী ও জগদম্বা। রাজচন্দ্র দাসের জীবদ্দশাতেই তাঁর কন্যাদের বিবাহ হয়। জামাইদের মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য নাম মথুরামোহন বিশ্বাস, দক্ষিণেশ্বরে মন্দির নির্মাণ এবং ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনার ক্ষেত্রে যাঁর সবিশেষ ভূমিকা ছিল। তৃতীয়া কন্যা করুণাময়ীর সঙ্গে বসিরহাটের মথুরামোহনের বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পরে করুণাময়ীর মৃত্যু হলে মথুরামোহনের সঙ্গে কনিষ্ঠা কন্যা জগদম্বার বিয়ে দেন রাজচন্দ্র-রাসমণি।

মাত্র ৫৩ বছর বয়সে রাজচন্দ্র দাস প্রয়াত হন। দিনটা ছিল ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দের ৯ জুন। জমিদারির হাল ধরেন রানি রাসমণি। এবং তখন থেকেই তিনি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন লোকমাতা।

শৈশব থেকেই রাসমণি ঈশ্বর-অনুরাগী ছিলেন। হালিশহরের বাড়িতে গৃহদেবতা রঘুনাথজিউ প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসেও ঠাকুরঘর পরিষ্কার, ফুল তোলা-সহ পুজোর যাবতীয় কাজ নিজ হাতে করতেন রাসমণি। ১৮৪৭ সালে রানি রাসমণি ঠিক করলেন কাশীতে গিয়ে মা অন্নপূর্ণা ও বাবা বিশ্বনাথের পুজো দেবেন। সেইমতো আত্মীয়-পরিজন, রক্ষী, দাস-দাসী, রসদ ইত্যাদি নিয়ে ২৪টি নৌকা যাত্রার জন্য প্রস্তুত হল। যাত্রার আগের দিন রাতে রাসমণি স্বপ্নাদিষ্ট হন। স্বপ্নে জগজ্জননী বলেন, “কাশী যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ভাগীরথী তীরে মনোরম স্থানে আমার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পূজা ও ভোগের ব্যবস্থা করো। আমি ওই মূর্তিতেই আবির্ভৃতা হয়ে তোমার নিত্যপূজা গ্রহণ করব।”

রানি রাসমণি মন্দির-নির্মাণে উদ্যোগী হলেন। জমির সন্ধান শুরু হল। প্রথমে তাঁর জন্মস্থান কুমারহট্ট হালিশহরে মন্দিরের জন্য জমির খোঁজ করেন। কিন্তু ব্রাহ্মণ-প্রধান হালিশহরের গোঁড়া সমাজপতিরা তাঁর ইচ্ছের মান দেননি। রানির অনুরোধে তাঁরা সদর্পে বলেন, জেলের মেয়ের মন্দির তৈরির অধিকার নেই। বর্ণশ্রেষ্ঠরা বাধা দেওয়ায় হালিশহরে কেউ জমি দিতে চাননি। 

তার পর বারাণসী-সমতুল গঙ্গার পশ্চিম কূলের বালি, উত্তরপাড়া প্রভৃতি অঞ্চলে জমি সংগ্রহের চেষ্টা করেন রানি। কিন্তু ওই সব অঞ্চলের ‘দশ আনি’, ‘ছয় আনি’ জমিদাররা প্রচুর অর্থের বিনিময়েও কোনো জমি বিক্রি করতে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত গঙ্গার পূর্ব কূলে দক্ষিণেশ্বরে মন্দির নির্মাণের উপযুক্ত জমি পান এবং সেখানেই মন্দির তৈরি শুরু হয়।

দক্ষিণেশ্বর মন্দির।

কলকাতা থেকে ৫ মাইল উত্তরে গঙ্গার পূর্ব কূলে অধুনা উত্তর চব্বিশ পরগনায় দক্ষিণেশ্বর গ্রাম। মাঝে মাঝে জঙ্গল, বাগান, পুষ্করিণী, কবরস্থান এবং সরকারি বারুদখানা নিয়ে এই দক্ষিণেশ্বর। বারুদখানার সূত্রে কিছু ইংরেজ ও স্থানীয় জমিদারের যাতায়াত ছিল। কিছু হিন্দুর সঙ্গে কয়েক ঘর মুসলমান এবং ইংরেজেরও বসতি ছিল। ইংরেজদের গির্জা না থাকলেও মুসলমানদের মাজার ও দরগা ছিল। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের কাছেই মোল্লাপাড়ায় একটি মসজিদ রয়েছে, যেখানে এক সময় ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ইসলাম ধর্মসাধনের জন্য নামাজ পড়তে যেতেন।

স্থানের নাম দক্ষিণেশ্বর, সুতরাং মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, তা হলে কি এখানে শিবের কোনো মন্দির আছে? এর উত্তর অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, বহু কাল আগে দেউলিপোতার জমিদার নাকি স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে এখানে শিবলিঙ্গের সন্ধান পান। তাঁর নিত্য পূজার্চনা শুরু করেন তিনি। দক্ষিণবঙ্গে শিবটি প্রাপ্ত হওয়ার ফলে তিনিই নাকি শিবের নামকরণ করেন ‘দক্ষিণেশ্বর’। সেই নামানুসারে স্থানেরও নাম হয় দক্ষিণেশ্বর। দক্ষিণেশ্বরের শিবতলাঘাটের বুড়োশিবকেই সবাই দক্ষিণেশ্বর শিব বলে মনে করেন।

রানি রাসমণির দলিল থেকে জানা যায় যে, তিনি এখানকার মোট সাড়ে চুয়ান্ন বিঘা জায়গাটি কুঠিবাড়ি সমেত ৪২৫০০ টাকায় কিনেছিলেন। এই কুঠিবাড়িটিই এই উদ্যানের আদি বাড়ি, যা সামান্য সংস্কারের পর, এখনও অপরিবর্তিত আছে। গাজী সাহেবের পীরের স্থানটিও আদি। বাকি ঘর-বাড়ি-মন্দির-ঘাট ইত্যাদি রানির আমলে তৈরি।

রানি রাসমণি যখন জমিটি কেনেন তখন তার চৌহদ্দি ছিল – পূর্ব দিকে কাশীনাথ চৌধুরীদের জমি, পশ্চিম দিকে গঙ্গা, উত্তর দিকে সরকারি বারুদখানা আর দক্ষিণ দিকে জেমস হেস্টির একটি কারখানা। জমি কেনার পর পূর্ব দিকে লোকালয় গড়ে ওঠে, দক্ষিণ দিকে জেমস হেস্টির কারখানার জায়গায় পরে যদুলাল মল্লিকের বাগানবাড়ি স্থাপিত হয়েছিল।

দক্ষিণেশ্বরে জমি কেনার সঙ্গে সঙ্গেই ১৮৪৭-৪৮ সাল থেকেই এখানকার যাবতীয় নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং সেই কাজে প্রথম দিকে রানির প্রধান সহায়ক ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ জামাতা রামচন্দ্র দাস। পরে রানির তৃতীয় জামাতা মথুরামোহন বিশ্বাসের ওপরেই এই কাজের সব দায়িত্ব ন্যস্ত হয়। তখনকার খুব নামী বিলাতি ঠিকাদারি সংস্থা ‘ম্যাকিনটস অ্যান্ড বার্ন’ কোম্পানিকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার চুক্তিতে মন্দিরের পোস্তা ও ঘাট তৈরির বরাত দেওয়া। পোস্তা, বাঁধ প্রভৃতির কাজ শেষ হলে গঙ্গার দিকে উত্তর-দক্ষিণ বরাবর একই ধাঁচের ১২টি শিবমন্দির ও চাঁদনি এবং এই মন্দিরগুলির পূর্ব দিকে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত মাটির টালি বাঁধানো একটি বিরাট চতুষ্কোণ প্রাঙ্গণ তৈরি করা হয়, যার আয়তন ৪৪০ ফুট লম্বা এবং ২২০ ফুট চওড়া। মন্দিরের সমগ্র এলাকার তিন পাশে দালানবাড়ি তৈরি করা হয়। এই বাড়িগুলির মাঝখান দিয়ে মন্দিরে আসার জন্য তিনটি প্রবেশপথও করা হয়। একই সঙ্গে কালীমন্দির ও বিষ্ণুমন্দিরের কাজ চলতে থাকে। মন্দির এলাকার বাইরে উত্তরে একটি নহবতখানা এবং দক্ষিণে অনুরূপ একটি নহবতখানা তৈরি করা হয় এবং এলাকাটি প্রাচীর দিয়ে ঘেরা হয়।

দক্ষিণেশ্বরের নবরত্ন কালীমন্দির তথা ভবতারিণী মন্দির বাংলার শিল্পকলার এক অপূর্ব নিদর্শন। মন্দিরের উচ্চতা একশো ফুট। গর্ভগৃহে কালো পাথরের বেদির ওপর রুপোর প্রস্ফুটিত শতদল। চার কোণে রুপোর স্তম্ভ। মা ভবতারিণী বেনারসী শাড়ি পরিহিতা, ত্রিনয়নী শ্যামাকালী। গলায় চিক, মুক্তোর সাতনরী হার, সোনার মুণ্ডমালা। সারা গায়ে অসংখ্য স্বর্ণরৌপ্য অলংকার। বাঁ দিকের একটি হাতে নৃমুণ্ড ও অপরটিতে অসি। ডান দিকের দু’টি হাতে বরাভয় মুদ্রা। পদতলে শ্বেতপাথরের শিব। কষ্টিপাথরে মা ভবতারিণীর অনিন্দ্যসুন্দর মূর্তি তৈরি করেছিলেন তৎকালীন বর্ধমান জেলার দাঁইহাটের অধিবাসী নবীন ভাস্কর।

গঙ্গা থেকে দক্ষিণেশ্বরের দ্বাদশ শিবমন্দির। পিছনে ভবতারিণীর নবরত্ন মন্দির।

মায়ের মন্দিরের উত্তরে রাধাকান্তের মন্দির। উলটো দিকে দ্বাদশ শিবমন্দির। তিন মন্দির তিন ধরনের স্থাপত্য। ভবতারিণীর নবরত্ন মন্দির, দ্বাদশ শিবমন্দির আটচালা মন্দির এবং রাধাকান্তের মন্দির ইউরোপীয় ধাঁচের। দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে রাণি রাসমণি সফল করেছিলেন তাঁর সর্বধর্ম-সমন্বয়ের স্বপ্ন। শৈব, শাক্ত ও বৈষ্ণব ধর্মের এক মহামিলন তীর্থ দক্ষিণেশ্বর। ধর্মের এই তিন ধারাকে এক করা উদারতার পরিচায়ক হলেও এমন দুঃসাহসের কাজ সম্ভব হয়েছিল রাসমণির অতুলনীয় প্রতিভার জন্যই।

মন্দিরের নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৮৫৪ সালে। রানিমা মনের মতো করে মাকে সাজালেন। সকল কাজ নির্বিঘ্নে শেষ হল। এ বার দেবীপ্রতিষ্ঠার পালা। এর জন্য উপযুক্ত দিন খুঁজছিলেন রানি। এমন সময় মায়ের প্রত্যাদেশ – “যত শীঘ্র পারিস আমাকে প্রতিষ্ঠা কর।”

মন্দিরে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করা হবে, দেওয়া হবে অন্নভোগ। এখানেই বাধল গোল। রানি জাতিতে শূদ্র হওয়ায় সামাজিক প্রথা অনুযায়ী কোনো ব্রাহ্মণই, এমনকি রানির নিজের গুরুদেবও দেবীকে প্রতিষ্ঠা করতে ও ভোগ দিতে রাজি হলেন না। এ ব্যাপারে শাস্ত্রের বিধান জানার জন্য রানি বিভিন্ন চতুষ্পাঠীর পণ্ডিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। তাঁরা এক বাক্যে এই কাজকে অশাস্ত্রীয় বলেন। একমাত্র ব্যতিক্রম কলকাতার ঝামাপুকুর চতুষ্পাঠীর পণ্ডিত রামকুমার চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বিধান, দেবীকে প্রতিষ্ঠার আগে যদি কোনো ব্রাহ্মণকে ওই মন্দির দান করা হয় এবং সেই ব্রাহ্মণ যদি ওই মন্দিরে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করেন তবে তা অশাস্ত্রীয় হবে না।

এই বিধান দেওয়ায় রামকুমার গোঁড়া ব্রাহ্মণদের রোষে পড়লেন। কিন্তু রামকুমার তাঁর বিধান থেকে পিছু হটলেন না। শেষ পর্যন্ত তাঁকেই এই কাজ করার জন্য রানি রাসমণি অনুরোধ করলেন। রামকুমারও সেই কাজে ব্রতী হন। ১২৬২ বঙ্গাব্দের ১৮ জ্যৈষ্ঠ, বৃহস্পতিবার, স্নানযাত্রার দিন (১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৩১ মে) মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়।

অপরূপ সাজে সাজানো হল গোটা মন্দির চত্বর। বড়ো বড়ো ঝাড়বাতি দিয়ে মোহময়ী করে তো্লা হল বিশাল নাটমন্দির।

নহবত।

মন্দির প্রতিষ্ঠার আগের দিন মন্দিরপ্রাঙ্গণে যাত্রাগান, কালীকীর্তন, ভাগবতপাঠ, রামায়ণপাঠ ইত্যাদির ব্যবস্থা হয়েছিল। পরের দিন অর্থাৎ প্রতিষ্ঠার দিন দেবালয়ের বিশাল প্রাঙ্গণে ভোর থেকেই অসংখ্য ভক্তের সমাগম হয়েছিল। এক শ্রেণির ব্রাহ্মণের বাধা সত্ত্বেও রাসমণি দেবীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বঙ্গ তো বটেই, ভারতবর্ষের বিভিন্ন জায়গা থেকে ব্রাহ্মণরা উপস্থিত হন। এই ঐতিহাসিক মহোৎসবে রাসমণি ‘অন্নদান যজ্ঞ’-এর আয়োজন করেন। এই ‘অন্নদান যজ্ঞ’-এ ছিল ‘দধি-পুষ্করিণী’, ‘লুচি-পাহাড়’, ‘মিষ্টান্ন-স্তুপ’, ‘পায়েস-সমুদ্র’, ‘ক্ষীর-হ্রদ’, ‘দুগ্ধ-সাগর’, ‘ঘৃত-কূপ’ ইত্যাদি।

যে সমস্ত বঙ্গীয় বৈদিক শ্রেণির ব্রাহ্মণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রামসুন্দর চক্রবর্তী, উমাচরণ ভট্টাচার্য, বৈকুন্ঠনাথ ন্যায়রত্ন, চণ্ডীচরণ বিদ্যাভূষণ, কেশবচন্দ্র তর্কবাগীশ, ঠাকুরদাস বিদ্যালঙ্কার, রামকুমার তর্কালঙ্কার, পীতাম্বর চূড়ামণি, যদুনাথ সার্বভৌম, মধুসূদন তর্কালঙ্কার, সীতারা বিদ্যাভূষণ, বৈকুন্ঠ ন্যায়রত্ন, কৃত্তিবাস তর্করত্ন, রাইচরণ ভট্টাচার্য, প্রেমচাঁদ বাচস্পতি, ঈশানচন্দ্র ন্যায়বাগীশ, ভোলানাথ সার্বভৌম, ঈশ্বরচন্দ্র চূড়ামণি, ব্রজনাথ চক্রবর্তী, বানেশ্বর বিদ্যাভূষণ, চিন্তামণি বিদ্যাসাগর, নবকুমার শিরোমণি প্রমুখ।

দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে মা ভবতারিণীর পূজকপদে সৎসাহসী ও শাস্ত্রজ্ঞ রামকুমারকেই মনোনীত করলেন রানিমা। রামকুমার দক্ষিণেশ্বরেই থেকে গেলেন এবং পরবর্তী কালে কনিষ্ঠ ভ্রাতা গদাধরও (পরে শ্রীরামকৃষ্ণ) তাঁর সঙ্গে বাস করতে থাকেন।

দক্ষিণেশ্বর মন্দির প্রতিষ্ঠা বাংলার ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। রানি রাসমণি বুঝেছিলেন সমাজসংস্কার করতে হলে শুরু করতে হবে ধর্মের হাত ধরেই। ভারতের সনাতন শক্তিসাধনাকে নতুন তাৎপর্য ও মাত্রা দান করার জন্যই তাঁর আবির্ভাব। ভারতমায়ের মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপ দেওয়ার মতন কতই বিপ্লবী এসেছেন মহামায়ার পদতলে। ঋষি অরবিন্দকে যখন পুলিশ গ্রেফতার করে তখন তাঁর কাছে পাওয়া গিয়েছিল একমুঠো মাটি – সে মাটি দক্ষিণেশ্বরের।

রানি রাসমণি যেন ভারতের অগ্নিপুরুষের আবির্ভাবের জন্যই এই পীঠ নির্মাণ করেছিলেন। সবার অলক্ষ্যে মন্দির প্রতিষ্ঠার দিন ঘটেছিল সেই তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। সে এক আশ্চর্য সংযোগ। মন্দিরে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা চলছে, সাধারণ চেহারার বছর আঠারো-উনিশের যুবক এক পাশে দাঁড়িয়ে সব দেখছেন। কে জানত এই যুবকটিই একদিন হয়ে উঠবেন যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। রামকৃষ্ণ এলেন মায়ের পূজারি হয়ে মন্দিরে। ত্রিশ বছর থেকেছেন এখানে। এই শক্তিসাধক দক্ষিণেশ্বরেই সাধনা করে পেয়েছেন ঈশ্বরদর্শন, হয়েছেন কল্পতরু। তাঁরই ব্যাকুল আহ্বানে মহাশক্তি প্রকটিতা হয়েছেন মূর্তিতে। এই সাধনপীঠেই নরেন্দ্রনাথের মধ্যেই বিবেকানন্দকে জাগ্রত করেছেন তিনি। দক্ষিণেশ্বরেই ছিলেন মহাকালীর মানব-অবতার শ্রীসারদা মা। বিবেকানন্দের ‘জ্যান্ত দুর্গা’।

ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ঘর।

বিগত ১৬৫ বছর ধরে দক্ষিণেশ্বর মন্দির বাংলার ধর্ম ও সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে চলেছে। তখন ছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণ, রাসমণি, সারদামা। ছিল খোলার চালের ঘর। ছিল না শানবাঁধানো দালান, গঙ্গার ঘাট। গঙ্গার জোয়ারের সময় জল এসে আছড়ে পড়ত দ্বাদশ শিবমন্দিরের পিছনের দেওয়ালে। এখন গঙ্গার পাড় বাঁধিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। উঠোনের উত্তর-পশ্চিমে রামকৃষ্ণদেবের ঘর – এখানেই তাঁকে ঘিরে রাথতেন তখনকার দিকপালরা। এই ঘরেই বিবেকানন্দ দেখেন তাঁর ধর্মগুরুকে। এখন তা সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা হয়েছে দর্শনের জন্য। অদূরেই নহবতখানা – সকাল-সন্ধে দু’বার সানাইয়ের সুর ভাসিয়ে নিয়ে যেত মন্দির চত্বর। পরে এই নহবতই হয় সারদামায়ের বাসস্থান। জীবন্ত শক্তিপীঠ। এখন সেখানে সারদা মন্দির।

আজও রানি রাসমণির দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে নিষ্ঠার সঙ্গে পূজা করা হয়। প্রতি প্রভাতে ৪টের সময় মায়ের জাগরণ-আরতি। সেই সময়ে মায়ের বাল্যভোগ-মাখন-মিছরি। এর পর মন্দির বন্ধ থাকে, খোলে সকাল ৬টায়। তার পর মায়ের স্নান-আরতি। সকাল ৯টায় নৈবেদ্য ভোগ। বেলা ১২টায় অন্নভোগ। অন্নভোগে থাকে দু’টি তরকারি, তিন রকমের ভাজা, ডাল, চাটনি, পায়েস এবং মাছ। এর পর মন্দির বন্ধ। খোলে সাড়ে ৩টেয়। তখন ফল, ছানা সহযোগে বৈকালিক দেওয়া হয়। রাত্রি ৮টায় শীতল ভোগ।

শাস্ত্রমতে কালীপুজো করতে যে সব উপাচার লাগে সবই এখানকার পুজোয় থাকে, শুধু থাকে না কারণ। যে হেতু ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ কারণ ছাড়াই মায়ের পূজা করতেন, তাই এই প্রথা চলে আসছে।

দীপান্বিতা ছাড়াও কার্তিক অমাবস্যা, বাসন্তীপুজো, জগদ্ধাত্রীপুজো, সাবিত্রী চতুর্দশী, রটন্তী কালীপুজো, মন্দির প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ দিনে বিশেষ পুজো হয়। রানি রাসমণির জন্মদিনে দুপুরে দই-মিষ্টি দিয়ে বিশেষ ভোগ দেওয়া হয় আর রাতে বিশেষ ব্যবস্থা। মায়ের জন্য আমিষ ভোগের ব্যবস্থা। দীপান্বিতা কালীপূজো ছাড়াও বিভিন্ন অমাবস্যা এবং বিশেষ করে কল্পতরু উৎসবের দিন বহু ভক্তের সমাগম হয়।

মা ভবতারিণীর নবরত্ন মন্দির।

এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে কালীপুজোর দিন কোনো প্রসাদ বিতরণ করা হবে না। ভক্তরা ফুল ছাড়াই হাত জোড় করে অঞ্জলি দেবেন। পূজা ও দর্শন সংক্রান্ত সমস্ত কর্মসূচি পালিত হবে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা লক্ষ করা যায় দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে। মন্দিরের দেড়শো বছর পূর্তি উপলক্ষে বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ। সেই পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘টু রিভাইভ আওয়ার হেরিটেজ’। এর প্রথম ধাপ হিসাবে মন্দিরে বলি কয়েক বছর আগেই বন্ধ করা হয়েছে। মা ভবতারিণীর পুরোনো সিংহাসনটি পরিবর্তন করে নতুন সিংহাসন বসানো হয়েছে। রানির আমলে তৈরি সিংহাসনটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। মন্দিরে পানীয় জলের ব্যবস্থা, রাস্তা সম্প্রসারণ, কার পার্কিং জোন করা হয়েছে। আরও কাজের মধ্যে রয়েছে অতিথিশালা নির্মাণ, কথামৃত গ্রন্থের সংস্করণ প্রকাশ ইত্যাদি। বাংলার ইতিহাসে ঐতিহ্যপূর্ণ মন্দির হিসাবে রানি রাসমণির প্রতিষ্ঠিত মা ভবতারিণীর মন্দির আজও সমাদৃত।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

কালীপুজোয় রাজবেশে সেজে ওঠেন নৈহাটির বড়োমা

Continue Reading

উঃ ২৪ পরগনা

কালীপুজোয় রাজবেশে সেজে ওঠেন নৈহাটির বড়োমা

প্রতি বছর তিন-চার হাজার কিলো চালের ভোগ করা হয়। তবে এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে যে হেতু প্রসাদ বিতরণ বন্ধ তাই ভোগের পরিমাণ কমিয়ে সাত-আটশো কিলো চালের করা হয়েছে বলে জানালেন কমিটির সম্পাদক।

Published

on

নৈহাটির বড়োমা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

কলকাতা-সহ বঙ্গের বিভিন্ন প্রাচীন কালীমন্দিরে চলছে দীপান্বিতা কালীপুজোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি। কালীঘাট থেকে কঙ্কালীতলা, সর্বত্রই মহাউৎসবের আমেজ অনুভব করা যাচ্ছে। উত্তর চব্বিশ পরগনার নৈহাটি অঞ্চলে এক জনপ্রিয় কালীপুজো অনুষ্ঠিত হয়। লোকশ্রুতিতে তা বড়োমার পুজো বলেই পরিচিত।

এই পুজো দেখছে ছুটে আসেন হাজার হাজার মানুষ, আশীর্বাদ পেতে আসেন তাঁরা মায়ের কাছে। কিন্তু এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে সেই বিপুল ভক্তসমাগম দেখা যাবে না নৈহাটির বড়োমায়ের পুজোয়। পুজোর সমস্ত নিয়ম পালন করা হলেও এ বছর সাধারণ মানুষকে ভার্চুয়ালি দর্শন করতে হবে নৈহাটির বড়োমাকে।

Loading videos...

বড়োমায়ের পুজো কমিটির সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য জানালেন, তাঁদের পুজোর বয়স আনুমানিক একশো বছর। শুরু করেছিলেন স্বর্গীয় ভবেশ চক্রবর্তী মহাশয়। অতীতে তাঁর বাড়িতে ছোটো করে রক্ষাকালীর পুজো হত। একবার রাসযাত্রার সময় ভবেশবাবু তাঁর বন্ধুদের নিয়ে উপস্থিত হন শ্রীধাম নবদ্বীপে। নবদ্বীপে সেই বিরাট আকৃতির দেবীপ্রতিমা দেখে বাড়ি চলে আসেন। ভবেশবাবু তাঁর নৈহাটির বাড়িতেও এমন বড়ো প্রতিমায় পুজো করার স্বপ্নাদেশ পান নবদ্বীপ থেকে ফেরার দিন রাত্রেই। সেই থেকে নৈহাটিতে শুরু হল বড়োকালী পুজো, যার উচ্চতা একুশ ফুট। মায়ের সেই তেজময়ী রূপ দর্শন করতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অগণিত দর্শনার্থী।

২০১১ সাল অবধি এই পুজো চক্রবর্তীবাড়ির অধীনেই ছিল। কিন্তু তার পর থেকে এই পুজো সর্বজনীনে রূপান্তরিত হয়। এর পরেই মায়ের মন্দির তৈরি হয়, ২০১৪ সালে।

তাপসবাবু জানালেন, এ বছর তাঁদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে পুজোর সম্প্রচার হবে। এ ছাড়া লোকাল কেবল মাধ্যমেও দেখা যাবে।  

প্রতি বছর বড়োমায়ের ভোগে থাকে খিচুড়ি, পোলাও, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, চাটনি ইত্যাদি। শীতলভোগে দেওয়া হয় লুচি, সুজি, তরকারি ইত্যাদি। তবে মায়ের পুজোয় কোনো রকম আমিষভোগ বা বলিদান হয় না। প্রাচীন রীতি মেনে আজও মায়ের ভোগ চক্রবর্তীবাড়ি থেকে আসে। বর্তমানে সত্যরঞ্জন চক্রবর্তী মহাশয় পুজো করছেন বড়োমায়ের।

প্রতি বছর তিন-চার হাজার কিলো চালের ভোগ করা হয়। তবে এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে যে হেতু প্রসাদ বিতরণ বন্ধ তাই ভোগের পরিমাণ কমিয়ে সাত-আটশো কিলো চালের করা হয়েছে বলে জানালেন কমিটির সম্পাদক।

কথায় কথায় জানা গেল, দেবীকে প্রায় একশো কিলো সোনা এবং দুশো কিলো রুপোর গহনা পরানো হয়। এক কথায় রাজবেশে সেজে ওঠেন নৈহাটির বড়োমা এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে আজও তিনি পুজো পেয়ে আসছেন।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

পশ্চিম মেদিনীপুর খেপুত গ্রামে সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারে সোয়া ২০০ বছরের কালীপুজো

Continue Reading

উঃ ২৪ পরগনা

চিনে নিন পশ্চিমবঙ্গের তিন সুপ্রসিদ্ধ সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির

দীপান্বিতার প্রাক-পর্বে এই বঙ্গের তিন সুপ্রসিদ্ধ সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের সঙ্গে পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক।

Published

on

ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে মায়ের বিগ্রহ।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

কালীপুজোর প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন মন্দিরে দীপান্বিতা অমাবস্যার দিন ভক্তদের ভিড় তেমন হবে না হয়তো, কিন্তু বিধি মেনে চলবে পুজো, দর্শনও হবে নানা বিধিনিষেধ মেনে। দীপান্বিতার প্রাক-পর্বে এই বঙ্গের তিন সুপ্রসিদ্ধ সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের সঙ্গে পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া যাক।

শান্তিপুরের সিদ্ধেশ্বরী

Loading videos...

শান্তিপুর বৈষ্ণব ও শাক্তদের মেলবন্ধনের পীঠস্থান। বহু প্রাচীন বিগ্রহ ও মন্দির রয়েছে এই শান্তিপুরে। এখানকার সব থেকে উল্লেখযোগ্য দেবী হলেন তন্ত্রসিদ্ধ কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের আগমেশ্বরী, যাঁর পুজো দেখতে দূর দূর থেকে ছুটে আসে ভক্তকুল। তেমনই শান্তিপুরের প্রাচীন সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরও এক উল্লেখযোগ্য স্থান।

শান্তিপুরের সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের বয়স ৪০০ বছরের বেশি, প্রতিষ্ঠাকাল ১৬০৬ খ্রিস্টাব্দ। কৃষ্ণনগরের তৎকালীন রাজা ভবানন্দ মজুমদার (বিখ্যাত রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঠাকুরদাদা) মন্দির প্রতিষ্ঠা করে এর দায়িত্ব তুলে দেন পার্বতীচরণ মুখোপাধ্যায়, মতান্তরে ফকিরচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের হাতে। এই মুখোপাধ্যায়দের আদি পদবি ওঝা, বাংলায় রামায়ণ রচয়িতা কৃত্তিবাস ওঝার বংশধর।

সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের সামনে পরবর্তী কালে নাটমন্দির তৈরি করা হয়। তৈরি করেছিলেন শান্তিপুরের সরকার পরিবার। আগে সিদ্ধেশ্বরী কালীমূর্তি ছিল মাটির, পরবর্তী কালে (১৩৮৭ বঙ্গাব্দে) তা হয় পাথরের। কাশী থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল এই মূর্তি।  

শান্তিপুরের সিদ্ধেশ্বরী।

সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরে মূল বার্ষিক পূজা হয় দীপান্বিতায়। ওই দিন এখানে পুজো শুরু হওয়ার পর শান্তিপুরের অন্যান্য কালীপুজো শুরু হয়। দীপান্বিতার রাতে  পুজো শুরু হয় রাত ১১.৪০ মিনিটে, শেষ হয় ভোর ৪টেয়। অতীতে বলিদানপ্রথা থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ। ৫০ কেজি বা তারও বেশি চালের ভোগ নিবেদন করা হয় দেবী সিদ্ধেশ্বরীকে। মাকে পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত, পায়েস, লুচি, সুজি, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, মাছ, চাটনি ইত্যাদি নিবেদন করা হয়। দীপাবলিতে হোমও হয়ে থাকে। সেই দিন রাত্রে মাকে রাজবেশে সাজানো হয়। পরের দিন সকালে ভোগ বিতরণ করা হয় এবং এক হাজার ভক্ত মায়ের প্রসাদ পান। ঐতিহ্য ও আভিজাত্য আজও অটুট শান্তিপুরের সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির।

হালিশহরের সিদ্ধেশ্বরী

হালিশহরের সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরের বাৎসরিক পূজা হয় রাখিপূর্ণিমার দিন।

একাদশ শতাব্দীর শেষ দিকে ১০৮২ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ বেদগর্ভের বংশধরগণ বর্ধমান জেলার কাটোয়া থানার প্রাচীন জনপদ আমাটিয়া বা আমাথিতে বসবাস শুরু করেন। এই বংশের নবম পুরুষ শৌরীই প্রথম আমাথিতে আসেন।

এক সময়ে বর্ধমানের আমাটিয়ার বাস ত্যাগ করে সাবর্ণ গোত্রীয় বংশধরগণ অধুনা হুগলি জেলার ত্রিবেণীর কাছে ভাগীরথীর পশ্চিম তীরে গোহট্ট (বর্তমানে গোপালপুর) গ্রামে চলে আসেন। সাবর্ণ গোত্রীয় পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় সম্রাট হুমায়ুনের আমলে বঙ্গের এই অঞ্চলে মোঘল সেনাপতি ছিলেন। সম্রাট হুমায়ুন তাঁকে ‘সখত্ খাঁ’ বা ‘শক্তি খান’ উপাধি দেন এবং ভাগীরথীর পূর্ব তীরে ৪৫টি গ্রাম বিশিষ্ট হাভেলিশহর পরগণার জায়গির দেন। পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় ‘পাঁচুশক্তি খান’ নামে পরিচিত হন।  

সেনাবাহিনীর কাজ থেকে অবসরগ্রহণের পর পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায় হাভেলিশহর পরগণায় বসবাস শুরু করে নতুন সমাজ গড়ে তুললেন। পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুর থেকে বৈদ্যদের এনে হাভেলিশহরে বসতি তৈরি করে দিলেন। হাভেলিশহরে প্রচুর চতুষ্পাঠী ছিল। আর সেই সব টোলে ছিল বহু কমবয়সি ছাত্র, দেখে মনে হত হাভেলিশহরে যেন কুমারদের হাট বসেছে। এই ভাবেই হাভেলিশহরের নাম হল কুমারহট্ট। আর সেই থেকে এই অঞ্চল পরিচিত হয়ে উঠল কুমারহট্ট হাভেলিশহর বা কুমারহট্ট হালিশহর নামে।

সাবর্ণ চৌধুরীদের ২১তম পুরুষ জীয়া গঙ্গোপাধ্যায় ১৫৩৫ থেকে ১৫৪৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে কোনো এক বছরে গোহট্ট-গোপালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তী কালে শিক্ষালাভের জন্য তিনি হালিশহরে এসেছিলেন। এই জীয়া গঙ্গোপাধ্যায়ই পরে কামদেব ব্রহ্মচারী নামে প্রসিদ্ধ হন। পণ্ডিত জীয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের পুত্র হলেন লক্ষ্মীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, যিনি ১৬০৮ সালে মানসিংহের কাছে থেকে ৮টি পরগণার বিশাল জায়গির পান এবং পাশাপাশি পান রায়, চৌধুরী উপাধিও। রায় লক্ষ্মীকান্ত মজুমদার চৌধুরীর জ্যেষ্ঠপুত্র রামকান্ত রায় চৌধুরী কুমারহট্ট হালিশহরে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর পুত্র জগদীশ রায় চৌধুরী (১৬২০-১৬৯০ খ্রিস্টাব্দ) ধার্মিক পুরুষ ছিলেন। জগদীশের জ্যেষ্ঠপুত্র তথা ২৫তম বংশপুরুষ বিদ্যাধর রায় চৌধুরী (১৬৪০-১৭২০ খ্রিস্টাব্দ) হালিশহরে বহু কর্মনিদর্শন রেখে গিয়েছেন।

কথিত আছে, বিদ্যাধর রায় চৌধুরী সকালে গঙ্গাস্নান করতে গিয়ে একটি কষ্টিপাথর পেয়েছিলেন। স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে এক অন্ধ ভাস্করকে দিয়ে কষ্টিপাথর থেকে নির্মাণ করিয়ে ছিলেন কালী, শিব এবং শ্যামরায়। সেই মূর্তিত্রয় হালিশহরেই প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাজারপাড়ার গঙ্গাতীরে কালিকা, চৌধুরীপাড়ায় শ্যামরায় এবং শিবের গলিতে বুড়োশিব প্রতিষ্ঠিত হন। কালিকাদেবীর নামানুসারে বাজারপাড়া পরিচিত হয় কালিকাতলা হিসাবে।

ইংরেজ ও পর্তুগিজদের মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধে কালিকাতলার মন্দিরটি ধ্বংস হয়ে যায়, যদিও তার চিহ্ন রয়েছে আজও। পরে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে সাবর্ণ চৌধুরীদের আরও এক অধস্তন পুরুষ যোগেশচন্দ্র রায় চৌধুরী কালিকাদেবীর মূর্তিটিকে ‘দেবী সিদ্ধেশ্বরী’ নাম দিয়ে বলদেঘাটায় স্থানান্তরিত করেন। একটি দালানঘরে ওই মূর্তি স্থাপন করা হয় (আনুমানিক ১৮৫০-৫৫ খ্রিষ্টাব্দ)। পরবর্তী কালে ১৩২৩ বঙ্গাব্দে যোগেশচন্দ্রের সহধর্মিণী বসন্তকুমারী দেবী সিদ্ধেশ্বরী মন্দির ও তার সামনের নাটমন্দির সংস্কার করেন। বর্তমানে যে মন্দিরটি রয়েছে তা একেবারেই নতুন। এই মন্দিরের দ্বার খোলে ১৯৯৮ সালের ৮ আগস্ট। মন্দিরের সামনে দক্ষিণ দিকে নাটমন্দির।

পরবর্তীকালে বলদেঘাটার চট্টোপাধ্যায় পরিবারকে সাবর্ণরা দেবোত্তর সম্পত্তি দানপত্র করেছিলেন দেবীর সেবার জন্য এবং সব কিছু ব্যয়ভার বহনের জন্য। দেখভাল করার জন্য বর্তমানে কমিটি তৈরি হয়েছে। ১৯৬৪ সালে মায়ের মূর্তিটি চুরি হয়ে যায় এবং পায়ের পাতাটি ভেঙে যায়। এরপর ওই ভাঙা পায়ের নিত্যসেবা হয় এখনও। এর পর ১৯৯৮ সালে মায়ের বিগ্রহ পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়।

মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে উন্নতমানের অমূল্য কষ্টিপাথরে তৈরি ছ’ ফুট উচ্চতার চতুর্ভূজা সিদ্ধেশ্বরীমাতার অপূর্ব বিগ্রহ। শ্বেতপাথরের শিবের ওপর মা দণ্ডায়মান। হাতে খড়গ নিয়ে নৃমুণ্ডমালিনী মা বরাভয় আর অভয়দান করছেন।

হালিশহরের সিদ্ধেশ্বরী

রাখিপূর্ণিমার দিন এই মন্দিরে বাৎসরিক উৎসব হয়। বাৎসরিক উৎসবে সকালে থেকে মায়ের বিশেষ পূজা হয়। বেনারসী শাড়ি এবং বিভিন্ন গহনা দিয়েই মাকে সাজানো হয়, সঙ্গে থাকে ফুলের সাজ (গোলাপের মালা, পদ্মের মালা ইত্যাদি)। এইভাবে আজও প্রাচীন মন্দিরে মা সিদ্ধেশ্বরীর নিত্যসেবা হয়, এবং হালিশহরের ঐতিহ্যপূর্ণ মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম এই সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির।

ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি

বহু বছর ধরেই পুজো হয়ে আসছে এই কালীবাড়িতে, পুজো হয় নিষ্ঠার সঙ্গে। ৩১৭ বছরেরও প্রাচীন এই মন্দির। আজও সেই প্রাচীন রীতিনীতি মেনেই পুজো হয় ঠনঠনিয়াতে। সকালবেলায় মায়ের মঙ্গলারতির মাধ্যমে পুজো শুরু হয়। তার পর মায়ের পুজো হয় নৈবেদ্য সহকারে। দুপুরবেলা অন্নভোগ দেওয়া হয় মাছ সহযোগে। সন্ধ্যায় সন্ধ্যারতি।

এই ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল ফলহারিণী কালীপুজো ও কার্তিক মাসের অমাবস্যার কালীপুজো, এই দুই দিন রাত্রে মায়ের নিরামিষ ভোগ হয়। নিরামিষ ভোগের মধ্যে থাকে লুচি, কচুরি, পাঁচ রকমের ভাজা, ছানার তরকারি, পনিরের তরকারি, ধোঁকার তরকারি, মিষ্টান্ন ইত্যাদি। দীপাবলির অমাবস্যা তিথিতে রাতের বিশেষ পূজায় ফল, নতুন বাসন, কাপড়, সাজসজ্জা, সমস্ত কিছুই নিবেদন করা হয়। ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে অমাবস্যার পুজোয় দুটি নৈবেদ্য নিবেদন হয় যা সেই প্রাচীন কাল থেকেই হয়ে আসছে – একটি মায়ের নৈবেদ্য ও একটি অমাবস্যার নৈবেদ্য।

ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির দেবী মৃন্ময়ী। প্রত্যেক বছর পুজোর আগে মায়ের অঙ্গরাগ করা হয়। সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এই ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে আসতেন, পুজো করতেন। শুধুমাত্র রামকৃষ্ণদেবই নন, তাঁর পরিবারের বহু সদস্যই আসতেন মায়ের কাছে। এই ঠনঠনিয়া কালীবাড়ির মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শঙ্কর ঘোষ মহাশয় (১৭০৬ সাল), কিন্তু মৃন্ময়ীকে প্রতিষ্ঠা করেন উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী ১৭০৩ সালে। তখন এই ঠনঠনিয়া ছিল সুতানুটি মহাশ্মশান। সেই সময় উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী মায়ের যে মৃন্ময়ী প্রতিমা, যে ঘট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেই মূর্তি ও দেবীঘট আজও বর্তমান ঠনঠনিয়াতে।

দেবীর আদেশে উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী মায়ের মন্দির ও সেবাকাজ দিয়ে গিয়েছিলেন শঙ্কর ঘোষ মহাশয়কে। সেই থেকে এই পরিবার মায়ের সেবাকাজ করে আসছেন বংশপরম্পরায়। বহু ভক্তের সমাগম হয় কালীপুজোর দিন।

কলকাতার প্রাচীন কালীমন্দিরের মধ্যে এই মন্দির অন্যতম। কালীপুজোর দিন এই মন্দিরে ষোড়শোপচারে দেবীর পুজো ও আরতি করা হয়। বলিদান হয়, ভোগ নিবেদন করা হয় প্রাচীন রীতি মেনেই। কালীপুজোর পরের দিন মায়ের মন্দির থেকে দেবীর ভোগপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। মহাসমারোহে এবং নিষ্ঠার সঙ্গে দেবী পূজিতা হয়ে আসছেন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

মুর্শিদাবাদ ও বীরভুমে রাজা রামজীবন রায়ের উত্তরপুরুষদের এখন ১৯টি কালীপুজো

Continue Reading
Advertisement
শিল্প-বাণিজ্য7 mins ago

৫০০তম ‘ওয়ার্ল্ড অব টাইটান’ স্টোর খুলল কলকাতায়

ফুটবল18 mins ago

জীবনের প্রথম ডার্বিতে নামার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন সন্দেশ জিঙ্ঘান

ক্রিকেট40 mins ago

প্রথম দুটি টেস্ট থেকে বাদ রোহিত-ইশান্ত, সংশয়ে শেষ দুটি টেস্টে উপস্থিতি নিয়েও

শিক্ষা ও কেরিয়ার60 mins ago

টেট-২০১৪ পাশ যোগ্য প্রার্থীদের শিক্ষকপদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি

রাজ্য1 hour ago

“এক দল, এক ভাষা আনতে চাইছে বিজেপি”, কেন্দ্রের শাসক দলকে নিশানা সৌগত রায়ের

Feni Railway Station
দেশ2 hours ago

ফেনী-বিলোনিয়া রেলপথের কাজ শুরু হচ্ছে শিগগিরই, দাউদকান্দি-সোনামুড়া জলপথ খননে হাত লাগাবে বাংলাদেশ

দেশ2 hours ago

দুর্ভাগ্য! ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে, বৈঠকে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

রাজ্য3 hours ago

টিকাকরণে এক সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রাজ্য, প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 days ago

লিভিংরুমকে নতুন করে দেবে এই দ্রব্যগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক: ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে ও সৌন্দর্য বাড়াতে ডিজাইনার আলোর জুড়ি মেলা ভার। অ্যামাজন থেকে তেমনই কয়েকটি হাল ফ্যাশনের...

কেনাকাটা6 days ago

কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস, দাম একদম নাগালের মধ্যে

খবর অনলাইন ডেস্ক: কাজের সময় হাতের কাছে এই জিনিসগুলি থাকলে অনেক খাটুনি কমে যায়। কাজও অনেক কম সময়ের মধ্যে করে...

কেনাকাটা3 weeks ago

দীপাবলি-ভাইফোঁটাতে উপহার কী দেবেন? দেখতে পারেন এই নতুন আইটেমগুলি

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই কালীপুজো, ভাইফোঁটা। প্রিয় জন বা ভাইবোনকে উপহার দিতে হবে। কিন্তু কী দেবেন তা ভেবে পাচ্ছেন...

কেনাকাটা4 weeks ago

দীপাবলিতে ঘর সাজাতে লাইট কিনবেন? রইল ১০টি নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আসছে আলোর উৎসব। কালীপুজো। প্রত্যেকেই নিজের বাড়িকে সুন্দর করে সাজায় নানান রকমের আলো দিয়ে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে...

কেনাকাটা2 months ago

মেয়েদের কুর্তার নতুন কালেকশন, দাম ২৯৯ থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজো উপলক্ষ্যে নতুন নতুন কুর্তির কালেকশন রয়েছে অ্যামাজনে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে। তেমনই কয়েকটি রইল এখানে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র আরও ১০টি শাড়ি, পুজো কালেকশন

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই পুজো আর পুজোর জন্য নতুন নতুন শাড়ির সম্ভার নিয়ে হাজর রয়েছে এরশা। এরসার শাড়ি পাওয়া...

কেনাকাটা2 months ago

‘এরশা’-র পুজো কালেকশনের ১০টি সেরা শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো কালেকশনে হ্যান্ডলুম শাড়ির সম্ভার রয়েছে ‘এরশা’-র। রইল তাদের বেশ কয়েকটি শাড়ির কালেকশন অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 months ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

কেনাকাটা2 months ago

পছন্দসই নতুন ধরনের গয়নার কালেকশন, দাম ১৪৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজোর সময় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে কার না মন চায়। তার জন্য নতুন গয়না কেনার...

কেনাকাটা2 months ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

নজরে