green zone kolkata police

কলকাতা: লালবাজারের অনুমতির আগেই অল্প দূরত্বের জন্য ‘গ্রিন জোন’ সার্জেন্টরা নিজেরাই তৈরি করে দিতে পারেন। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। সোমবার রাতে তার প্রাথমিক একটি পরীক্ষাও হয়ে গিয়েছে।

ঠিক এই ভাবেই দু’জন দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য দু’জন ব্যাঙ্ক আধিকারিককে ‘গ্রিন জোন’ তৈরি করে দিয়েছিলেন বাইপাসে মেট্রোপলিটান মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক সার্জেন্ট শান্তনু পাল।

কী ঘটনা ঘটেছিল, সেটা নিজেদের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এই দুই ব্যাঙ্ক আধিকারিক শৌভিক দাশগুপ্ত এবং অরিন্দম মিত্র। মূলত দু’টি উদ্দেশ্যে ফেসবুকে নিজেদের ঘটনার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। প্রথম উদ্দেশ্য, পুলিশে আস্থা স্থাপন করা আর দ্বিতীয় উদ্দেশ্য, দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষকে দেখলে সাহায্যে এগিয়ে আসা।

সোমবার একটি ওলায় চেপে ভবানীপুর থেকে গঙ্গানগরের দিকে যাচ্ছিলেন শৌভিক এবং অরিন্দমবাবু। শৌভিক লিখেছেন, “বাইপাসে মেট্রোপলিটন সিগন্যালের কাছে আমরা দেখলাম, অন্য একটা ওলা দ্রুতগতিতে একটা ট্রাকে সজোরে ধাক্কা মারল। আমারা আমাদের গাড়ি থামিয়ে তাদের কাছে গেলাম। চালক এবং যাত্রী, দু’জনেই গুরুতর আহত হয়েছিলেন।”

“আমরা ট্রাফিক সার্জেন্ট শান্তনু পালের কাছে সমস্ত ঘটনা বলি। উনি সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন। কোনো সময় নষ্ট না করেই উনি কলকাতা পুলিশের ট্রমা কেয়ার বিভাগকে ঘটনাস্থলে ডাকার কথা বলেন। কিন্তু আমরা যে হেতু গাড়িতেই যাচ্ছিলাম, আমরা বলি যে এই দু’জনকে আমরাই কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারব। শান্তনুবাবু রাজি হলেন, এবং সঙ্গে সঙ্গেই মেট্রোপলিটন থেকে অ্যাপোলো হাসপাতাল পর্যন্ত ‘গ্রিন করিডোর’ তৈরি করে দিলেন। হাসপাতালে এক্কেবারে এমার্জেন্সি ওয়ার্ডে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি। সেই সঙ্গে বললেন স্থানীয় থানার পুলিশ আধিকারিকরা হাসপাতালে চলে যাবেন। আমাদের হাসপাতালে পৌঁছোতে মাত্র দু’মিনিট লাগল। আমরা সেখানে গিয়ে দেখি ফুলবাগান থানার আধিকারিকরা এবং স্থানীয় ট্র্যাফিক গার্ডের পুলিশকর্মীরা আগে থেকেই চলে এসেছেন। আমরা সরাসরি আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করে দিই।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা যতক্ষণ হাসপাতালে ছিলাম ততক্ষণে আহতদের পরিবার-পরিজনেরা হাসপাতালে এসে গিয়েছেন। পুলিশের তরফ থেকে যে সহযোগিতা আমরা পেয়েছি তাতে আমরা অভিভূত।”

এই ঘটনা থেকেই জানা গিয়েছে, স্থানীয় ভাবে ‘গ্রিন জোন’ তৈরি করার দায়িত্ব এখন ট্র্যাফিক সার্জেন্টদের হাতেই এসে গিয়েছে। কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের একজন আধিকারিক বলেন, “অ্যাম্বুলেন্স এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষদের সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। হেডকোয়ার্টারের নির্দেশ ছাড়াই স্থানীয় ভাবে ‘গ্রিন জোন’ ওখানকার কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরাই করতে পারেন।”

শৌভিকবাবুর এই ফেসবুক পোস্টের জন্য তাঁকে অসংখ্য ধন্যবাদ দিয়েছেন ডিসি (ট্রাফিক) সুমিত কুমার। তিনি বলেন, “এই সহযোগিতাই তো আমরা চাই।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here