তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জোরালো প্রভাব এই দুই ইস্যুর

TMC
ভোটপ্রচারে করিমপুরের তৃণমূলপ্রার্থী বিমলেন্দু সিংহ রায়

ওয়েবডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) এবং নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল আগামী ২৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের তিনটি আসনের উপনির্বাচনের নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ভোটের প্রচারে একাধিক বার সেটাই স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়েছে।

নদিয়ার করিমপুর ও উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা আসনে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য ভাবে রয়েছে মুসলিম জনসংখ্যা। দু’টি জেলাতেই সম্প্রতি এনআরসি বিরোধী আন্দোলন দেখা গিয়েছে।

বিজেপি বিশ্বাস করে, অবৈধ অভিবাসীদের ইস্যুতে দু’টি আসনে হিন্দু শরণার্থীদের ভোট ব্যাঙ্ক তাদের দিকে সমর্থন জানাবে।

বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি ও করিমপুরের বিজেপি প্রার্থী জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “আমরা এই বিলে মনোযোগ দিচ্ছি কারণ তপশিলি জাতি ও তপশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের হিন্দুরাও অবশ্যই আমাদের পক্ষে ভোট দেবে। এই অংশগুলির মানুষও চাইছে, নাগরিকত্বের স্ক্রিনিং জরুরি”। তবে এ রাজ্যে এনআরসি নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি অভয় দেন সাধারণ মানুষকে।

তৃণমূল অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এনআরসি বৈধ নাগরিকদের মধ্যে থেকেও বিদেশি তৈরি করবে। যে কারণে বাংলায় কোনো মতেই এনআরসি করতে দেবেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের মহাসচিব এবং রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “বাংলার মানুষের কাছে বিজেপির বিভাজনমূলক রাজনীতি ধরা পড়ে গিয়েছে। এনআরসি দিয়ে অসমের লক্ষ লক্ষ হিন্দুদের জন্য বিজেপি কী করেছে, তা মানুষ জানে”।

করিমপুর আসনটি এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্রের হাতে ছিল। তিনি গত লোকসভা ভোটে কৃষ্ণনগর থেকে জিতে সংসদে চলে যান। ওই ভোটেও বিজেপির থেকে এই আসনে বিধানসভা-ভিত্তিক ভাবে এগিয়ে ছিল তৃণমূল।

করিমপুরে সিপিএমের প্রচার

করিমপুর শহরে ৯২.৪৭ শতাংশ মানুষ হিন্দু এবং মাত্র ৭.৩ শতাংশ মুসলমান। অন্য দিকে কালিয়াগঞ্জে মুসলমান জনসংখ্যা ৪৯.৯২ শতাংশ এবং হিন্দু ৪৯.৩১ শতাংশ।

কালিয়াগঞ্জ বিধানসভা আসনটি রায়গঞ্জ লোকসভার অন্তর্গত। গত লোকসভা ভোটে রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির দেবশ্রী চৌধুরী জিতেছিলেন।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর সদর তৃতীয় আসন, যেখানে বিধানসভা উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

[ আরও পড়ুন: তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচন: তৃণমূল-বিজেপির ‘লিটমাস টেস্ট’, বাম-কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতার প্রশ্ন ]

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনআরসি এই আসনগুলিতে বিজেপির বিরুদ্ধে বিপরীত প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, এনআরসি নিয়ে শুধুমাত্র সংখ্যালঘুরাই শঙ্কিত নন। অসমে যা ঘটেছে, তাতে একাংশের হিন্দুরাও ভীত।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.