elephant in west bengal

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা: এ রাজ্যের জঙ্গলে হাতির সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। চলতি বছরে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলে বিশেষ সমীক্ষা চালায় বন দফতর। সেখানে দেখা যায়, বর্তমানে রাজ্যে হাতির সংখ্যা উল্লেখজনক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৬ সালের পর ফের সমীক্ষা চালাল বন দফতর। ‘ডাং ডিকে’ পদ্ধতি অনুসরণ করে হাতি গণনার উপর এই বিশেষ সমীক্ষা চালানো হয়েছে।

২০১৬ সালের সমীক্ষায় জানা গিয়েছিল, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে এ রাজ্যে হাতির সংখ্যা সাড়ে পাঁচশোর কাছাকাছি। সেখানে ২০১৮ সালের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, হাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭০০টি।

প্রাক্তন প্রধান মুখ্য বনপাল অতনু রাহার মত, এ রাজ্যে হাতির থাকার জন্য অনুকুল পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খাদ্য রয়েছে। পাশাপাশি হাতির উপর মানুষের আক্রমণের ঘটনাও তুলনামূলক ভাবে ন্যূনতম। মূলত সেই কারণেই হাতির দল এ রাজ্যকে বেছে নিচ্ছে। অতনুবাবু জানিয়েছেন, হাতি গণনা ও বাঘ গণনার পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। হাতি যেহেতু আকারে অনেক বড়ো প্রাণী এবং সাধারণত ধীর গতিতে চলাফেরা করে, তার জন্য ‘ডিরেক্ট কাউন্টিং’ বা সরাসরি গণনা করা সম্ভব। বিভিন্ন অঞ্চল অথবা গ্রিড এরিয়া ভাগ করে বন দফতরের কর্মীরা দিনে-রাতে জঙ্গলে হাতি গণনা করে থাকেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রথম হাতি গণনা হয়। তখন পশ্চিমবঙ্গে হাতির সংখ্যা ছিল মাত্র ২২৭টি। এর মধ্যে মাত্র ৫০টি হাতির খোঁজ পাওয়া যায় দক্ষিণবঙ্গে। বাকিটা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জঙ্গলে। তার পর থেকে দু’বছর অন্তর হাতি গণনা করা হয়। গত ২০০০ সালে সংখ্যাটা ছিল প্রায় সাড়ে তিনশো। ২০১৬ সালে তা পৌঁছে যায় সাড়ে পাঁচশোর কাছাকাছি।

হাতি জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে অবিরাম ঘোরাফেরা করে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের প্রায় ১০০ হাতি সীমান্ত পার হয়ে অসম এবং নেপালের দিকে চলে যায়। আবার দক্ষিণবঙ্গ থেকে হাতি চলে যায় বিহার-ঝাড়খণ্ডে। উল্টোদিকে দলমা পাহাড় থেকেও অনেক সময় হাতি চলে আসে এ রাজ্যে।

প্রতিবার সমীক্ষাতেই ধরা পড়েছে, দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূমের বিভিন্ন জঙ্গলের থেকে উত্তরবঙ্গের কার্শিয়াং, বক্সা, তরাই, ডুয়ার্স, কালিম্পংয়ের বিভিন্ন জঙ্গলে হাতির সংখ্যা অনেক বেশি।

হাতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বন দফতরের কর্তারা যথেষ্ট খুশি। কারণ, হাতি বাড়লে পর্যটকদের কাছে তা আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। কী ভাবে বাড়ন্ত হাতিকে কাজে লাগিয়ে তা পর্যটনপ্রেমীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, সে ব্যাপারে পর্যটন দফতরের সঙ্গে কথা বলছেন বন দফতরের কর্তারা। তবে এ ব্যাপারে কপালে চিন্তার ভাঁজও প্রশস্ত হয়েছে বন দফতরের কর্তাদের। কারণ, হাতি বাড়লে লোকালয়ে খাদ্যের সন্ধানে ঢুকে পড়া স্বাভাবিক। সে ক্ষেত্রে ফসল নষ্ট এমনকী প্রাণহানির ঘটনাও অতীতে ঘটেছে। এই সমস্যাকে এড়াতে বন দফতর বিশেষ কর্মসূচি নিয়ে ফেলেছে।

জঙ্গল এলাকার স্থানীয় মানুষকে নিয়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। যার মাধ্যমে কোনো এলাকায় হাতি দেখলেই তার সচিত্র বর্ণনা পাঠানোর সঙ্গে বনকর্মীরা উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে পারেন। হাতি সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষিত দল রয়েছে বন দফতরের। সেই দলকে কী ভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলা যায়, সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে।

তবে হাতির আক্রমণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে রাজ্যের তরফে আর্থিক সহযোগিতার উদ্যোগ ইতিমধ্যেই রূপায়িত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নষ্ট হওয়া ফসলের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে রাজ্য। আবার হাতির আক্রমণে মৃত্যু হলে মৃতের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here