নিজস্ব প্রতিনিধি,সোনারপুর:মঙ্গলবার রাত ৯-৩০ থেকে নিখোঁজ থাকার পর বাড়ি থেকে ৫০ মিটার দূরে  এক বাগানে নির্জন এলাকায় বুধবার সকালে এক বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার হল। মৃতের নাম আসমা বেওয়া (৬৫)। মৃতদেহের কানে ,চোখের নীচে আঘাতের চিহ্ন আছে ,মুখে কাপড় গোঁজা ছিল । ঘটনাটি ঘটে সোনারপুর থানার চাকবেরিয়া বাদামতলা এলাকায় । ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এদিন সকালে বাগানের মধ্যে দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা সোনারপুর থানায়  খবর দেয়।পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দূরে বৃদ্ধার চটি ও চাদর উদ্ধার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ,ধর্ষণ করে মহিলাকে খুন করা হয়েছে।অন্য জায়গায় মেরে বাগানে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে মদের বোতল দেখা গিয়েছে।

যদিও পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ধর্ষণ নয়, মুখে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছে ওই বৃদ্ধাকে। কানের পর্দার পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনার পিছনে পারিবারিক কারণও থাকতে পারে। মুখে কেন কাপড়ের আঁচলের অংশ গুঁজে দেওয়া হল ,বৃদ্ধা কি কিছু দেখে ফেলেছিল- এই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে ।

জানা গেছে,আসমা বেওয়ার দুই ছেলে এক মেয়ে। ছোট ছেলে আসাদুল মোল্লার সঙ্গে বৃদ্ধা থাকতো। বড়োছেলে আলি হোসেন মোল্লা বাড়ি আসাদুলের বাড়ির পাশে।দুই ছেলে রাজ মিস্ত্রির কাজ করে। বৃদ্ধা কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল বলে জানায় তার ছেলে আসাদুল মোল্লা। আসাদুল বলে,”আমরা যতক্ষণ বাড়িতে না ঢুকতাম মা বাড়ি ঢুকত না রাতে, রাত পর্যন্ত রাস্তায় ঘুরত, আমার জন্য খুব চিন্তা করতো। কাল আমি বাড়িতে ছিলাম না ,দাদা বাড়ীতে ছিল , মাকে দাদা রাস্তায় শেষ ৯ টা পর্যন্ত দেখেছে ,তারপর রাত ৯-৩০ পর বাড়ি ফিরে মাকে দেখা যায়নি, মায়ের জন্য ভাত বেড়ে রাখা হয়েছিল। সকালে খবর পাই মায়ের দেহ পড়ে আছে বাড়ি থেকে দূরে বাগানের মধ্যে,দেহে আঘাতের চিহ্ন আছে ,কেউ মাকে খুন করে ফেলে দিয়েছে”।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ , বাগানের কাছে প্রায় রাতে মদ্যপানের আসর বসায় দুষ্কৃতীরা ,তারাই এই কাজ করেছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন