কলকাতা : এ রকম গল্প প্রায়ই শোনা যায়। দুই ছেলেকে নিয়ে মা হয়তো গঙ্গাসাগরের মেলায় গেছেন। এক ছেলে গেল হারিয়ে। তাকে না পেয়ে মা আরেক ছেলেকে নিয়েই ফিরে এলেন। তার পর কেটে গেল বহু বছর। হারানো সন্তানকে আর পাওয়া গেল না, কিংবা হঠাৎ ফিরে পাওয়া গেল সেই সন্তানকে।

গল্পে না, বাস্তবেও এ রকম ঘটনা কিছু কিছু ঘটে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মেলা থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা অনেকটাই কমে গেছে। আর এখন সেই আশঙ্কা আরও কমিয়ে দিয়েছে ‘হ্যাম রেডিও কন্ট্রোল ক্যাম্প’। হারিয়ে যাওয়া তীর্থযাত্রীদের সাহায্যের জন্য এই শিবির। খোলা হয়েছিল কলকাতার বাবুঘাটে।

‘সব তীর্থ বার বার, গঙ্গাসাগর একবার’। শেষ হল গঙ্গাসাগর মেলা। মকর সংক্রান্তির দিন পুণ্য স্নানের জন্য কয়েক লক্ষ মানুষ গঙ্গাসাগরে এসেছিলেন। রবিবার বাড়ি ফেরার পালা। মেলা থেকে চলে এসেছেন কলকাতায়, এ বার কলকাতার বাবুঘাটের মেলাশিবির থেকে এ বার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছে প্রায় লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী।

২৪ ঘণ্টার এক বিশেষ ক্যাম্প চালু করেছে বেসরকারি সংস্থা ‘হ্যাম রেডিও কন্ট্রোল’। গঙ্গাসাগর মেলায় সব থেকে বেশি মানুষ আসেন উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধপ্রদেশ, দিল্লি, কেরল থেকে। যাঁরা অনেক সময়েই ফেরার বাস কোনটি বুঝতে না পেরে সমস্যায় পড়েন। আবার কেউ কেউ দলছুট হয়ে যান। এই সময় তাঁদের সাহায্য করতেই এই ক্যাম্প খোলা হয়েছে, যেখানে নিখোঁজদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে। এখানে ৫টিরও বেশি এই ধরনের ক্যাম্প করা হয়েছে। কারওর হারিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই তাদের ওয়্যারলেস-ওয়াকিটকির সাহায্যে দ্রুত খবর পৌঁছে যাচ্ছে কলকাতা পুরসভার বিশেষ ক্যাম্পে। সেখান থেকে দ্রুত সেই নাম ঘোষণা করা হচ্ছে মাইকে।

কী কাজ করছে এই হ্যাম রেডিও?

হারিয়ে যাওয়ার খবর দ্রুত কলকাতা পুলিশ ও পুরসভার ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়া, তাঁদের নির্দিষ্ট বাসটি ধরিয়ে দেওয়া বা পরিজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, বাড়ি ফেরার হুড়োহুড়িতে কেউ মাটিতে পড়ে গেলে তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে মেডিক্যাল ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়া। কোন বাস কোথায় আছে সেই তথ্যগুলিও সরবরাহ করছে এই ক্যাম্প। তা ছাড়া দর্শনার্থীদের শহরের রুট ম্যাপ বুঝিয়ে দেওয়ার কাজও করছে ১২সদস্যের এক একটি ক্যাম্প।

হ্যাম রেডিও-র প্রেসিডেন্ট তাপস চক্রবর্তী বলেন, “প্রতি বছরই আমরা এখানে ক্যাম্প করি। তবে এ বার চাপটা একটু বেশি। কারণ, এ বার আগের বছরের থেকে ভিড় তিনগুণ বেশি হয়েছে। প্রায় প্রতি ঘন্টায় ৫ থেকে ৭ জন মানুষ তাঁর বাস খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়েছেন। বাড়ি যাওয়ার দিনে এই কাজের চাপ আরও বেড়ে গিয়েছে”।  

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here