reservation counter, jalpaiguri
আসন সংরক্ষণ কাউন্টার, জলপাইগুড়ি। নিজস্ব চিত্র।

রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: চারটি জায়গায় রেলের আসন সংরক্ষণ অফিসের একটি করে কাউন্টার বন্ধ করে দিল রেল দফতর। এই জায়গাগুলি হল নিউজলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ির সিটি বুকিং অফিস, জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন এবং আলুয়াবাড়ি রোড স্টেশন। এই চারটি জায়গায় রেলের একাধিক কাউন্টার আছে। তার মধ্যে একটি করে বন্ধ করে দেওয়া হল।

এ মাসের ২৬ তারিখে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের সহকারী কমার্শিয়াল ম্যানেজার  বি বি গিরি এই চারটি স্টেশনের আসন সংরক্ষণ অফিসের আধিকারিকদের চিঠি পাঠিয়ে অবিলম্বে এই কাউন্টারগুলি বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এই নির্দেশের ফলে জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনের দু’টি কাউন্টারের একটি, নিউ জলপাইগুড়ির তিনটি কাউন্টারের মধ্যে একটি, শিলিগুড়ির সিটি বুকিং অফিসের তিনটি কাউন্টারের মধ্যে একটি কাউন্টার এবং আলুয়াবাড়ি রোড স্টেশনের দু’টি কাউন্টারের মধ্যে একটি কাউন্টার বন্ধ হয়ে গেল।

আরও পড়ুন তৈরি হবে এক বছরের মধ্যে, মাঝেরহাটে নতুন সেতুর বরাত পেল পঞ্জাবের সংস্থা

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত এক বছর ধরে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, যে রোজকার কাজের পরিমাণ এই স্টেশনগুলিতে খুবই কম। রেলওয়ে বোর্ডের নির্দেশিকায় যা বলা আছে তা পূরণ হচ্ছে না। যে হেতু এই স্টেশনগুলিতে আসন সংরক্ষণের চাহিদা কম সে হেতু এই সব স্টেশনে একটি করে কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য এই স্টেশনগুলির আসন সংরক্ষণ আধিকারিককে এটাও জানানো হয়েছে যে আগামী তিন মাসে বাকি কাউন্টার দিয়ে সংরক্ষণ কেমন হচ্ছে তা-ও জানাতে হবে। যদি দেখা যায় সংরক্ষণ কমে যাচ্ছে তা হলে পাকাপাকিভাবে একটি কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়া হবে। চিঠির এই বয়ান থেকে মনে করা হচ্ছে, আপাতত তিন মাসের জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে কাউন্টার বন্ধ রাখছে রেল দফতর। আসন সংরক্ষণের খুব বেশি চাহিদা থাকলে আবার চালু করা হবে।

জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনের একটি কাউন্টার মঙ্গলবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। রেল দফতরের এই আচমকা সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ জেলার ব্যবসায়ী মহল। জলপাইগুড়ি জেলা মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক শান্ত্বনু বসু বলেন, “রেলের এই সিদ্ধান্তের ফলে জলপাইগুড়ি শহরের বাসিন্দারা এবং ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমরা কাটিহারের উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের বিভাগীয় আধিকারিকের কাছে চিঠি দিয়ে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করব। না হলে বৃ্হত্তর আন্দোলন করা হবে।” শান্ত্বনুবাবু জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন কনসালটেটিভ কমিটির সদস্য হলেও তাঁদের এ বিষয়ে রেল দফতর কিছু না জানিয়েই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানান।

বিজেপির উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক দ্বীপেন প্রামাণিক বলেন, “আমরা এই সিদ্ধান্ত মানব না। রেলমন্ত্রী এবং উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে অবিলম্বে কাউন্টারটি খোলার জন্য আবেদন জানানো হবে।”

তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ির সাংসদ বিজয় চন্দ্র বর্মন এবং জলপাইগুড়ি জেলার সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী কাউকেই এ দিন ফোনে পাওয়া যায়নি। কারণ মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বিকেলে কোচবিহারে আসায় তাঁরা ব্যস্ত রয়েছেন।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here