‘জাতীয় মুখ’ করিমুল বললেন, দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ১৬ বছরের নিরলস লড়াইকে কুর্নিশ জানাল রাষ্ট্র।পদ্মশ্রীর জন্য নির্বাচিত হয়ে ‘উত্তরবঙ্গের গর্ব’ করিমুল এ বার ‘জাতীয় মুখ’।

বৃহস্পতিবার ২৮তম প্রজাতন্ত্রের দিবসে তাকে সংবর্ধনা জানান মালবাজারের মহকুমাশাসক জ্যোতির্ময় তাতি। জাতীয় সন্মানের জন্য নির্বাচিত হয়ে আপ্লুত করিমুল হক। তিনি জানিয়েছেন, দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল তাঁর।

জলপাইগুড়ির প্রত্যন্ত গ্রাম ধলাবাড়ির বাসিন্দা করিমুল পেশায়  ছোটো একটা চা বাগানের কর্মী। বাড়িতে স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই পুত্রবধূ, দুই নাতিকে নিয়ে অভাবের সংসার। কিন্তু সেই অভাব তাঁর মানসিকতাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এই পঞ্চাশ বছর বয়সেও তাঁর ‘অ্যাম্বুল্যান্স বাইক’ রোগী নিয়ে ছুটে চলে অবিরত।

লড়াইয়ের শুরুটা হয়েছিল অন্য রকম ভাবে। সালটা ছিল ১৯৯৫। বাড়িতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন করিমুলের মা জফুরান্নেসা বেগম। ওই প্রত্যন্ত এলাকায় ছিল না কোনো অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। টাকার অভাবে বাইরে থেকে অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করেও আনতে পারেননি তিনি। চোখের সামনে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছিল মায়ের। সে দিন চোখের জল ফেলতে ফেলতে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন গ্রামের আর কাউকে এই ভাবে মরতে দেবেন না।

সেই শুরু। তখন থেকে গ্রামে কেউ অসুস্থ হলে সাইকেলে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতেন। শুধু নিজের গ্রাম নয়, আশেপাশের গ্রাম থেকেও তাঁর ডাক আসত। পরে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে টাকা জোগাড় করে কেনেন একটি মোটর সাইকেল। কাজ বেড়ে যায় আরও। শুধু স্থানীয় হাসপাতাল নয়, রেফার হওয়া রোগীদের নিয়ে আসা শুরু করেন জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে বা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে। এর সবটাই কিন্তু ‘ফ্রি সার্ভিস’, বিনামুল্যে। প্রয়োজনে নিজের পকেটের টাকাও খরচ করে ওষুধ-পথ্য কিনে দিতেও কুণ্ঠা বোধ করেন না তিনি। এর জন্য তাঁর সামান্য আয়ের থেকে ১ হাজার টাকা আলাদা করে রাখেন।  এখনও পর্যন্ত প্রায় তিন হাজার অসুস্থ মানুষের সেবা করেছেন এই ভাবে। তাঁর পরোপকারী মানিসকতা দেখে এগিয়ে এসেছেন অনেকেই। জলপাইগুড়ি হাসপাতালের তরফে তাঁকে অসুস্থ মানুষদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

এর আগেও তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কৃত হয়েছেন। তাঁকে সন্মাননা দিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও। কিন্তু জাতীয় স্তরে সন্মাননা পাওয়ার কথা কখনও ভাবেননি করিমুল। তবে ‘পদ্মশ্রী’ পাচ্ছেন জেনেও পা মাটিতেই রয়েছে আপাদমস্তক এই সাধারণ মানুষটির। জানিয়েছেন, পুরস্কার নয়, সাধারণ মানুষের ভালোবাসাই তাঁর চলার পথের পাথেয়।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.