jal-1
titas pal
তিতাস পাল

মনোনয়ন ঘিরে রণক্ষেত্র জলপাইগুড়ির মালবাজার। নির্বাচন বিরোধী শূন্য করতে মনোনয়নই পেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ বিরোধী শিবিরের। একদিকে যখন বিজেপির পার্টি অফিস পুড়ছে, তখন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের বক্তব্য “গণতন্ত্রের আনন্দযজ্ঞ হচ্ছে”।

শুক্রবার বেলা ১২টা। মনোনয়ন পেশের পঞ্চমদিনে মালবাজারের বিডিও অফিসের সামনে থিকথিকে ভিড় তৃণমূলের নেতা-কর্মী এবং প্রার্থীদের। সবাই নিজের কাজে ব্যস্ত।

বিজেপির পতাকা লাগানো দু’টি লরি  আসতেই পালটে গেল ভিড়ের চেহারা। ভিড় থেকে বিজেপির সমর্থক ভর্তি ট্রাকের ওপর শুরু হল পাথর বৃষ্টি। সেখানে আর দাঁড়ানোরই সাহস পেল না ট্রাকদু’টি। কিছুক্ষণ পর খবর এল টুনবাড়ি মোড়ে বিজেপি পার্টি অফিসের সামনে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক ভর্তি একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে বিজেপি কর্মীরা। শুরু হল গণ্ডগোল। হাতে লাঠিসোঁটা, ধারালো অস্ত্র নিয়ে সেদিকে ধাওয়া করল কয়েকশ মানুষ।ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল বিজেপির দলীয় কার্যালয়। ধরিয়ে দেওয়া হল আগুন। আহত হলেন বেশ কয়েকজন। প্রাণ বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িতে আশ্রয় নিলেন বিজেপি নেতারা। এই খবর পেয়ে ক্রান্তিমোড়ে পথ অবরোধ করে বিজেপি। এ দিকে ঘড়িমোড়ে তৃণমূলের সমর্থক ভর্তি একটি ট্রাকে আক্রমণের অভিযোগ উঠল সিপিএম কর্মীদের বিরুদ্ধে।পালটা সিপিএমের কার্যালয়ে চলল হামলা। ঘটনার জেরে সারাদিন উত্তপ্ত হয়ে রইল মালবাজার। বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জের পাশাপাশি কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ।

যদিও বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, সন্ত্রাসের কারিগর তৃণমূলকে না রুখে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ওপর নির্যাতন চালিয়েছে পুলিশ।

jal2
হাতে লাঠি রাজনৈতিক দলের। হাতে লাঠি পুলিশেরও

সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য অভিযোগ করেছেন, মনোনয়ন পেশের প্রথম দিন থেকেই সন্ত্রাস করে বিরোধী দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দিচ্ছে না তৃণমূল। শাসক দলের কর্মীদের দিয়ে বিডিও অফিস ঘেরাও করে রাখা হলেও নির্বাক দর্শকের ভূমিকা নিয়েছে পুলিশ-প্রশাসন।

বিজেপির মালবাজার মণ্ডল সভাপতি পঙ্কজ তিওয়ারি অভিযোগ করেছেন, “শাসকদল তৃণমূলের কংগ্রেসের “কর্মী” হয়ে কাজ করছে পুলিশ-প্রশাসন।” তাঁর দাবি, মনোনয়ন পেশের দিন বৃদ্ধি করুক রাজ্য নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনে তাঁরা আদালতে যাওয়ারও হুমকি দিয়েছেন।

jal3
আক্রান্ত তৃণমূল

যদিও এতসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেবের বক্তব্য, “কাল্পনিক সন্ত্রাসের বাতাবরণ তৈরি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বিরোধীরা। আমরা চাই সবাই মনোনয়ন জমা দিক।গণতন্ত্রের আনন্দযজ্ঞে সবাই সবাই অংশগ্রহণ করুক”।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, দাবি পুলিশ-প্রশাসনের। মালবাজারের মহুকুমা পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, যারা গণ্ডগোল করার চেষ্টা করছে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালবাজারের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) ভুষণ শেরপা জানিয়েছেন, “নিয়মমতই মনোনয়ন পত্র জমা নেওয়ার কাজ চলছে”।

jal4
আক্রান্ত বিজেপি

হাতে আর মাত্র দু’দিন। মনোনয়ন পেশের জন্য মরিয়া বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস। তাই শুক্রবার অশান্তির আঁচ নিয়ন্ত্রণ হলেও আগামী শনিবার তা থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রাজনৈতিক মহল।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন