কলকাতা: রাজনৈতিক নেতাদের সম্পত্তি বৃদ্ধি নিয়ে জনস্বার্থ মামলা চলেছে কলকাতা হাইকোর্টে। ওই মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-কে পক্ষ করেছে আদালত। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ওই মামলা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু-সহ তৃণমূল নেতারা।

এমনিতে এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে পার্থ চট্টেপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার মুখে তৃণমূল। প্রাক্তন সহকর্মী ও রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে এ দিন তৃণমূল তৃণমূল নেতৃত্ব বলেন, পার্থ চট্টোপাধ্যায় যা করেছেন তার জন্য লজ্জিত দলের বাকিরা। কিন্তু, তার মানে এটা নয়, যে দলের বাকিরাও দুর্নীতিগ্রস্ত।

ববি হাকিম কোনো দিন টাকা নেয়নি, বললেন ফিরহাদ

ফিরহাদ বলেন, “পার্থ চট্টোপাধ্যায় যা করেছেন, তাতে আমি লজ্জিত। আমি এই পার্থকে চিনতাম না। তৃণমূল কংগ্রেস এই আচরণ কখনোই সমর্থন করে না। এ কথা আমরা বার বার বলেছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তৃণমূল কংগ্রেস করা মানে সবাই চোর হয়ে গেলাম”।

তাঁর কথায়, “নির্বাচনী হলফনামায় আয় ব্যয়ের সমস্ত হিসাব দিয়েছি। আয়কর দফতর কোনো পদক্ষেপ করেনি।…এটা জনস্বার্থ মামলা নয়, রাজনৈতিক স্বার্থে করা মামলা। অমিত শাহর ছেলে জয় শাহর সম্পত্তির পরিমাণ কত? বিজেপির বি টিম হয়ে কংগ্রেস-সিপিএম আক্রমণ করছে। অর্ধেক তথ্য প্রকাশ করছেন কেন?”।

তিনি আরও বলেন, “রোজগার করা কোনো অন্যায় নয়। সম্পত্তি বৃদ্ধিও কোনো অন্যায় নয়। চেতলায় সিপিএমের লোকেদের জিজ্ঞাসা করুন, ববি হাকিম কোনো দিন ব্যক্তিগত ভাবে কোনো উৎকোচ নিয়েছে কি না।”

আমাদের দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে, বললেন ব্রাত্য

ব্রাত্য বসু বলেন, “আয় বৃদ্ধির তালিকায় নাম রয়েছে ১৩ বাম নেতার এবং ৯ কংগ্রেস নেতার। নাম রয়েছে ৪ বিজেপি নেতারও। সেগুলো নিয়ে কোনো চর্চা হচ্ছে না কেন? একটা ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তৃণমূলই কেবল দুর্নীতিগ্রস্ত। আমাদের দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন”?

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “হাইকোর্টে মামলাটি বিচারাধীন, এই নিয়ে কিছু বলতে চাই না। কিন্তু, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে একতরফা বলা হচ্ছে। সুযোগ পেলেই অপমান করা হচ্ছে”।

আরও পড়তে পারেন:

‘তৃণমূল মানেই চোর নয়’, সাংবাদিক বৈঠক করে বললেন ফিরহাদ-ব্রাত্যরা

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশ, যেখানে খুন করেও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ভয় নেই

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন