‘গাজর ঘাস’-এ আতঙ্ক! দ্রুত ছড়াচ্ছে ঝাড়গ্রামে

0
ঝাড়গ্রাম পুর এলাকায় ঝোপঝাড় পরিষ্কারে সময় নিরাপত্তা অবলম্বন না করেই পার্থেনিয়াম কাটছেন মহিলা শ্রমিক।
সমীর মাহাত

ঝাড়গ্রাম: পার্থেনিয়ামে ছেয়ে গিয়েছে ঝাড়গ্রাম। প্রায় ২০ বছরের মধ্যেই এলাকা এই বিষাক্ত ঘাসের দখলে চলে যাবে বলে মত গবেষকদের। স্থানীয় লোকজন একে ‘গাজর ঘাস’ নামেও ডেকে থাকেন।

কীভাবে এই এলাকায় বিস্তার ঘটল এই ঘাসের! এর বিষক্রিয়া কি খুবই মারাত্মক! অবশ্য এ ব্যাপারে নানা মত উঠে এসেছে। উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক তথা গবেষক ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ দে জানান, পার্থেনিয়াম আমেরিকার গম বীজের সঙ্গে এ দেশে এসেছে। বসতি এলাকায় এর বাড়বাড়ন্ত দ্রুত বেড়েছে। জঙ্গল মহল এলাকায় ২০ বছর আগে দু-চারটে লক্ষ্য করা যেত। এর ফুলের রেণু থেকে অ্যালার্জি ছড়ায়। অন্যান্য অনেক ফুলের রেণুতেও অ্যালার্জি থাকে। এটি স্বাদের নয় বলে গরু-ছাগল খায় না। হয়তো কোথাও কোথাও দু-চার জন এই ঘাসের ক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ।পরে তা মহামারির আকার নিয়েছে এমন কোনও তথ্য নেই । আমাদের এলাকায় সেই মতো কোনো খবর নেই। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই, সচেতনতার দরকার আছে।

পাশাপাশি, প্রকৃতি প্রেমিক তথা বিশিষ্ট সাংবাদিক মনোরঞ্জন মাহাতর মতে, জঙ্গলমহলের রাস্তার ধারে, ঘরের পাশে, বনভূমি ঘেঁসে, শস‍্য ক্ষেতের আলে নি:শব্দে শেকড় মেলছে এরা। দেখতে সুন্দর। সবুজ বাহারি পাতায় বুটি বুটি সাদা ফুলে কীটপতঙ্গ পোকামাকড়ের সঙ্গে পুষ্প প্রেমিকদের‌ও চোখ আটকে যায়। পার্থেনিয়াম এক থেকে দেড় মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। তিন থেকে চার মাসের মধ‍্যে ফুল ফল আসে। একটা গাছ বছরে চার থেকে পঁচিশ হাজার পর্যন্ত বীজ উৎপাদন করতে পারে।

ঝাড়গ্রামের হিন্দুমিশন মাঠে পার্থেনিয়াম

পার্থেনিয়ামের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই গাছ “সিসকোয়াইটআরপেন ল্যাকটোনস্” নামে একটি মারাত্মক বিষের আধার। এই গাছ শস‍্য খেতের বন্ধু এবং শত্রু পোকা মারে। কেঁচো, ক‍্যাঁকড়া, ব‍্যাঙ,শামুক, মাছেদের বংশ ধ্বংস করতে পারে শস‍্য খেত থেকে। যদি শস‍্য খেতে ছড়ায়, তা হলে সেই জমির উৎপাদন ৪০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। ভুট্টা, গম, সরিষা, বেগুন, লঙ্কা ,টমাটো খেত পার্থেনিয়ামের প্রিয় বসত ভূমি। একবার মাটি পেলে চাষির ৩০ – ৪০ % শস‍্য গিলে খাবে। কোন‌ো কীটনাশক দিয়ে এদের দমন বা হাজারো ভিটামিন, হরমোন দিয়ে ফসল উৎপাদন বাড়ানো যাবে না।

Shyamsundar

একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রাণী দেহে, যেমন, গরু, ছাগল, ভেড়া পার্থেনিয়ামের পাতা ফুল-ফল খেলে এর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। হাঁচি, সর্দি, গলা ফোলা, জ্বর হয়ে শরীর রক্তাভ হয়ে যায়। নিরাময়ে নির্দিষ্ট কোন‌ো ওষুধ নেই। মানুষের হাতে-পায়ে লাগলে প্রথমে লাল হয়ে ফুলে ওঠে। পরে সেখানে দুরারোগ‍্য চর্মরোগ সৃস্টি হয়। ঘন ঘন জ্বর, অসহ‍্য মাথাব‍্যাথা, উচ্চ রক্তচাপ হয়ে মৃত‍্যু পর্যন্ত হতে পারে। ভারতে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত‍্যুর খবর সরকারি ভাবে সমর্থিত হয়েছে। মানুষের পক্ষে সবচেয়ে বিপজ্জনক হল, এর ফুলের রেণু। বাতাসে ভেসে বেড়ায় বলে এই রেণু ফুসফুসে ঢুকলে দুরারোগ‍্য হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস এবং অ্যালার্জি হয়। দুর্ভাগ‍্য আমাদের, পার্থেনিয়ামের প্রতিক্রিয়া নষ্ট করার ওষুধ আজ অবধি নেই।

[ আরও পড়ুন: পার্থেনিয়াম-নিধনে হাতে ঝুড়ি-কোদাল নিয়ে মাঠে নামলেন মহকুমা শাসক ]

মনোরঞ্জন বাবু জানান, যতটুকু জানা গেছে, এদের জন্ম মেক্সিকো। বর্তমানে আমেরিকা, আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, পাকিস্তান, চিন,নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশে দ্রুত শিকড় ঠেলছে এরা। জঙ্গল মহল তথা ঝাড়গ্রামও তার ব্যতিক্রম নয়। এর বৈজ্ঞানিক নাম, “পার্থেনিয়াম হাইস্টিরোফোরাস” বলে জানা গিয়েছে। এই সময় কালে তার ফুলের রেণু ছড়ানোর সময়। সতর্ক থাকা দরকার।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন