রাতভর প্রবল বৃষ্টিতে ভাসল কলকাতার একাংশ

কলকাতা: কলকাতা শহরেই ভিন্ন রূপ বর্ষার। শহরের এক প্রান্তে যখন আট ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি, তখন কার্যত শুকনো শহরের অন্য প্রান্ত। স্বাধীনতা দিবসের আগের রাতে এই বৃষ্টি-বৈষম্যের সাক্ষী থাকল কলকাতা। শহরের পূর্বাংশ, দক্ষিণপূর্বাংশে যখন প্রবল ঝড়বৃষ্টি আর মুহুর্মুহু বজ্রপাতে মানুষের রাতে ঘুমনোই দায় হয়ে উঠেছিল, তখন শহরের অন্য প্রান্তের বাসিন্দারা কার্যত বুঝতেই পারলেন না ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে অন্য দিকে।

শুরু হয়েছে বুধবার রাত সাড়ে দশটা থেকে। দক্ষিণ শহরতলির বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয় বৃষ্টি। রাত যত গড়ায় বৃষ্টির দাপট ততটাই বাড়তে থাকে। বারোটার পর কার্যত আকাশ ভেঙে পড়ে। বৃষ্টির দাপট খুব বেশি ছিল দক্ষিণের পাটুলি, সন্তোষপুর, কসবার মতো এলাকায়। অন্য দিকে মূল শহরকে কার্যত এড়িয়ে গিয়েছে এই প্রবল বৃষ্টি।

বুধবার রাত বারোটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ন’টা পর্যন্ত পাটুলিতে বৃষ্টি হয়েছে ১০০ মিলিমিটার। এমনই তথ্য পাওয়া গিয়েছে কলকাতা পুরসভা সূত্রে। রুবিতে বৃষ্টি হয়েছে ১০৩ মিলিমিটার। কিন্তু কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দফতরের রেনগেজে বৃষ্টি মাপা হয়েছে মাত্র ২২ মিলিমিটার। যদিও গোটা শহরেই বুধবার রাতে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে।

কিন্তু এত কম সময়ে এত পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার ফলে পাটুলির অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গিয়েছে। পাটুলির ঝিলগুলি দু’কুল ভাসিয়ে রাস্তায় চলে এসেছে। ফলে জলবন্দি হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সব যখন জলের তলায়, ভাসমান বাজার তখন জলের উপরে।

আরও পড়ুন রাজনীতি আসে, রাজনীতি যায়, কিন্তু আমাদের কাছে দেশ সবার আগে: লালকেল্লায় মোদী

বুধবার রাতের এই বৃষ্টির সঙ্গে নিম্নচাপের কোনো সম্পর্ক ছিল না, বরং তা বর্ষার স্বাভাবিক বৃষ্টিই বলা চলে। সক্রিয় হয়ে ওঠা মৌসুমী অক্ষরেখার প্রভাবে এই বৃষ্টি। কিন্তু মেঘ এমন ভাবে তৈরি হয়েছিল, যার ফলে কলকাতায় বৃষ্টির এই তারতম্য। আবার পাটুলিতে যখন প্রবল বৃষ্টি, তখন প্রবল বৃষ্টি পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়াতেও। সেখানে বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৮৮ মিলিমিটার।

তবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও কলকাতার আকাশের মুখ ভার। সব মিলিয়ে বৃষ্টিভেজা স্বাধীনতা দিবস পালন করছে কলকাতা।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.