Connect with us

পশ্চিম বর্ধমান

রেকর্ড বর্ষণে বিপর্যস্ত পশ্চিমাঞ্চলের তিন জেলা, জমা জলে নাজেহাল দুর্গাপুর

পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান আর বীরভূমে রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে।

Published

on

Durgapur Rain
দুর্গাপুরে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রেকর্ড ভাঙা বর্ষণে বিপর্যস্ত রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের তিন জেলা। অবিরাম বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম আর পুরুলিয়ার একাধিক জায়গা। সব থেকে বেশি নাজেহাল অবস্থা হয়েছে দুর্গাপুরের (Durgapur)।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবহাওয়া ভালোই ছিল। দুপুরের পর থেকে আচমকা পরিস্থিতি বদলে যায়। তৈরি হয় একের পর এক বজ্রগর্ভ মেঘ। সেই থেকেই নামে প্রবল বৃষ্টি। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বৃষ্টি চলতে থাকে।

জানা গিয়েছে, আট ঘণ্টার মধ্যে একশো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে দুর্গাপুরে। এর জেরে শহরের সমস্ত নিকাশিনালা কানায় কানায় ভরতি হয়ে যায়। শহরের একাধিক নিচু জায়গা জলমগ্ন।

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের মেন গেট সংলগ্ন এলাকাটি সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যায়। মেনগেট বস্তির পাশ দিয়ে বয়ে চলা তামলা নালার জল উপচে গিয়ে আশেপাশের অঞ্চল ভাসিয়ে দেয়। এর ফলে বহু মানুষকে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন।

Condition of Durgapur after Rain on Mahalaya. Images from Different parts of #Durgapur city like Amarabati, Benachity, 54 Foot etc

Posted by DurgapurInfo on Friday, September 18, 2020

বৃহস্পতিবার বিশ্বকর্মা পুজোয় মেতে থাকার কথা ছিল শিল্পাঞ্চলের। কিন্তু দুপুর পর থেকে সেটা আর সম্ভব হয়নি।

তবে গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গে সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে পশ্চিম বর্ধমানের মাইথনে। সেখানে দেড়শো মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এর পর রয়েছে পুরুলিয়া। সেখানে ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বীরভূমের রামপুরহাটে ১২০ আর হেতমপুরে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

একশো মিলিমিটারের কম হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় জোর বৃষ্টি হয়েছে বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরেও। এই প্রবল বর্ষণের ফলে দক্ষিণবঙ্গে কত কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির যে ঘাটতি চলছিল, তা অনেকটাই কমেছে।

এ দিকে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়ার নিম্নচাপের ফলে রবিবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

৬ মাস বন্ধ থাকার পর খুলছে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত চিড়িয়াখানা ও জঙ্গল পর্যটন

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

দুর্গা পার্বণ

দশমীতে মাছপোড়া খেয়ে নিয়ম ভঙ্গ করে পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার সরকার পরিবার

এই পরিবারে প্রতিমার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল দেবীর ডান দিকে থাকেন লক্ষ্মী ও কার্তিক এবং বাঁ দিকে থাকেন সরস্বতী ও গণেশ।

Published

on

Durgapuja of Sarkar family of Khandra
খান্দরা সরকারবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

সামনেই শারদীয়া। কুমোরপাড়ায় দেবী প্রায় তৈরি প্রতিটি ঠাকুরদালানে এবং বারোয়ারি পূজামণ্ডপে যাওয়ার জন্য। বঙ্গ-সহ গোটা ভারতবর্ষের মানুষ আর কিছু দিনের মধ্যেই মেতে উঠবে উৎসবের আনন্দে।

বনেদিবাড়িতেও শুরু হয়ে গিয়েছে শারদীয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি। ঠাকুরদালানে সেই বড়ো বড়ো ঝাড়বাতির আলো আবার জ্বলে উঠছে। আর তার সঙ্গে প্রস্তুতি চলছে  নানা রীতিনীতি আর প্রথা ঝালিয়ে নেওয়ার। এমনই এক বনেদিবাড়ি রয়েছে পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরা গ্রামে, যে বাড়ির পুজো বহু দিনের। আজকের পর্বে খান্দরার সরকারবাড়ির পুজো নিয়ে আলোচনা। 

এই পরিবারের সদস্য অরিন্দম সরকারের কাছ থেকে জানা গেল যে পুজোর সূচনা হয়েছিল আনুমানিক ৫০০ বছর আগে। প্রচলিত লোককথায় জানা যায়, এই সরকারদের আদি বাসস্থান ছিল মুর্শিদাবাদের কান্দি অঞ্চলে এবং সেখানেই দুর্গাপুজো  প্রথম শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয় পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরায়। তবে কান্দি অঞ্চলে থাকাকালীন সরকার পরিবারের উপাধি ছিল ‘দাস’। আনুমানিক ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে পর্বত দাস মুর্শিদাবাদ ছেড়ে চলে আসেন খান্দরায় রাজস্ব ভাগ দেখাশোনা করার জন্য। সে সময় তিনি বর্ধমানের মহারাজার থেকে ‘সরকার’ উপাধি লাভ করেছিলেন।

কিছু কাল পরে সরকার পরিবারের দুই সদস্য, পাহাড় সরকার ও পর্বত সরকারের মধ্যে মনোমালিন্য হওয়ায় পরিবার দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। খান্দরায় আসার পর বংশের সুসন্তান মুচিরাম সরকার এই বাড়ির ঠাকুরদালানে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। সেই পুজোই আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন বর্তমান সদস্যরা।

মায়ের মুখ।

এই বাড়ির পুজো শুরু হয় রথযাত্রার দিন কাঠামোপুজোর মাধ্যমে। মৃন্ময়ী প্রতিমাতে দু’ মাটির প্রলেপ দেওয়ার পর খড়ি দিয়ে রঙ দেওয়া হয়। দেবীর দশ হাতের অস্ত্র রাংতা দিয়ে তৈরি করা হয়। সাবেকি একচালার প্রতিমায় নানা রকমের প্রাচীন গয়না দিয়ে সাজানো হয় উমাকে। এই পরিবারে প্রতিমার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল দেবীর ডান দিকে থাকেন লক্ষ্মী ও কার্তিক এবং বাঁ দিকে থাকেন সরস্বতী ও গণেশ।

দুর্গাপুজোর সপ্তমীর দিন নবপত্রিকা স্নান করানো হয় নিকটবর্তী দুর্গাপুকুরে। স্নানপর্ব শেষ হলে ঠাকুরদালানে এসে পরিবারের মহিলারা তাঁকে বরণ করেন এবং তার পর শুরু হয় দেবীর প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও মূলপূজা। বর্তমানে সরকার পরিবারের পাঁচ উত্তরসুরির জন্য পাঁচটি ঘট বসানো হয় এবং লোককথায় জানা যায় যে একসময়ে এই বাড়িতে অঞ্জলি দিতে এসেছিলেন তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী কালীপদ মুখোপাধ্যায়।

খান্দরার সরকারবাড়িতে দুর্গাপুজোর মহাষ্টমীর দিন বিশেষ ভোগের আয়োজন করা হয়। ভোগে থাকে লুচি, নানান রকমের ভাজা, নাড়ু, মিষ্টি ইত্যাদি। পশু বলিদানের প্রথা এই পরিবারে বহু দিন আগে প্রচলিত ছিল। তবে বর্তমানে আখ ও চিনি বলিদান হয়। জনশ্রুতি অনুযায়ী মহারাজা সুরথের পূজিত প্রথম মৃন্ময়ী দুর্গাপুজোর স্থান গড়জঙ্গল থেকে আসা শব্দধ্বনি শুনেই বলিদান শুরু হয় এই বনেদিবাড়িতে। মহাষ্টমী পুজোর শেষে দেবীর প্রসাদ সকল ভক্তের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

দুর্গাপুজোর মহানবমীর দিন এই বাড়িতে হোম হয় এবং বাড়ির প্রতিটি সদস্য হোমের তিলক নিয়ে তার পর দেবীকে দর্শন করেন। সন্ধ্যাবেলায় পরিবারের সদস্যরা সবাই মিলে ধুনুচিনাচে যোগ দেন। দশমীতে সকালে দেবীর দর্পণে বিসর্জন হয়। এর পর মাছপোড়া খেয়ে নিয়ম ভঙ্গ করেন পরিবারের সদস্যরা।

সন্ধ্যায় দেবীবরণের পর মহিলারা সবাই মিলে ঠাকুরদালানে সিঁদুর খেলেন। কনকাঞ্জলিপ্রথার পর দেবীকে বিসর্জনের পথে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে আজও পরম্পরাকে অক্ষুণ্ন রেখে পুজো করে আসছেন পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরা গ্রামের সরকার পরিবারের সদস্যরা।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশিবাড়ি বৈষ্ণবধারার হলেও পুজোয় বলিদান হয় দেবীরই আদেশে

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

একই নাম হওয়ায় জমিদারের নির্দেশে পুজো শুরু করেন উখড়ার শম্ভুনাথ মুখোপাধ্যায়

জমিদারের অনুরোধ ফেলতে না পেরে শম্ভুনাথ মুখোপাধ্যায় পূজা শুরু করেন।

Published

on

Durgapuja of Mukherjee family of Ukhra
উখড়ার মুখোপাধ্যায় পরিবারে দুর্গাপ্রতিমা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

বনেদিয়ানা এবং পারিবারিক ঐতিহ্য শারদীয়া উৎসবের অন্যতম মুখ্য বিষয় বলেই বিবেচ্য। বঙ্গের ইতিহাসেও তা-ই ঘটে এসেছে এত দিন এবং আজও ঘটছে। বনেদিবাড়ির ঠাকুরদালানের সেই ঝাড়বাতির আলো, ঢাকের বাদ্যি এবং সর্বোপরি যাঁকে ঘিরে থাকে এত উন্মাদনা সেই দশভূজার জ্যোতির্ময়ী রূপ শারদীয়ার আমেজকে আরও সমৃদ্ধ করে। তেমনই এক ঐতিহ্যমণ্ডিত বনেদিবাড়ি উখড়ার মুখোপাধ্যায় পরিবার। এই বাড়ির দুর্গাপুজো ১৭৯ বছরের পুরোনো।

মায়ের মুখ।

এই মুখোপাধ্যায় বাড়ির পুজো শুরু করেছিলেন শম্ভুনাথ মুখোপাধ্যায় বাংলার ১২৪৯ সনে। শম্ভুনাথবাবু ছিলেন সেবাপরায়ণ, পরের দুঃখে খুবই ব্যথিত হতেন এবং যথাসাধ্য সাহায্য করার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়তেন। সেই সঙ্গে তিনি ছিলেন একজন উদ্যোগী কর্মী এবং বৈষয়িক বিষয়ে অভিজ্ঞ। তাই তৎকালীন জমিদার শম্ভুনাথ লাল সিংহ হান্ডের আমলে কয়েক বছর উখড়ার জমিদারিতে কাজ করেছিলেন শম্ভুনাথ মুখোপাধ্যায়।

সদাশয় জমিদার শম্ভুনাথ লাল সিংহ হান্ডে একদিন তাঁর কর্মচারী শম্ভুনাথ মুখোপাধ্যায়কে বলেন, “আমি গত বছর দুর্গাপুজো শুরু করেছি। তোমার ও আমার দু’জনের নামের মিল আছে, তাই কাজেও মিল থাকা দরকার। তুমিও দুর্গাপুজো শুরু করো।” জমিদারবাবুর কথা সাধারণ কথা তো নয়, এ আদেশ। ফেলতে পারেন না শম্ভুনাথ মুখোপাধ্যায়। নতুন মন্দির নির্মাণ করে শুরু করেন দুর্গাপুজো। জমিদারের উৎসাহে এই পুজোর সূচনা, তাই শুরু থেকে আজও পুজোর খরচ বাবদ ষোলোআনা ও এক সলি আতপচাল প্রণামী আসে তৎকালীন জমিদারবাড়ি থেকে।

এই বাড়ির পুজো শুরু হয় রথযাত্রার দিন। সে দিনই মৃন্ময়ী মূর্তির সূচনা হয়। মুখোপাধ্যায় পরিবারের পুজো বৈষ্ণব মতে হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের তরফে পুজোয় পাঁঠাবলি দেওয়া হয়। কিন্তু সেই পাঁঠাবলি হয় অন্য পরিবারের মণ্ডপে। কেন এই প্রথা, তা নিয়ে একটা কাহিনি প্রচলিত আছে। সেই কাহিনি পরিবারের সকল সদস্য ও এলাকার প্রতিটি মানুষের কাছে বেশ সুখশ্রাব্য।

মুখোপাধ্যায় পরিবারের পুজোয় পাঁঠাবলি দেওয়া হত মাইথনের কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে। বলি দেওয়া হত নবমীর দিন। উখড়া থেকে মাইথন, বেশ খানিকটা দূরের পথ। একবার কোনো এক অতীতে এত দূর রাস্তা পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ে বলির পাঁঠা নিয়ে পৌঁছোনো সম্ভব হয়নি। বলিদানের সময় পেরিয়ে যায়। কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে আর বলিদান করা যায়নি। তখন পরিবারের এক সদস্য মায়ের কাছে বলি গ্রহণ করার প্রার্থনা নিয়ে ধরনায় বসে পড়েন। তিন দিন পর দেবীর স্বপ্নাদেশে বলি দেওয়া হয় স্থানীয় চক্রবর্তী পরিবারের দুর্গামন্দিরে এবং তখন থেকেই এই প্রথা চলে আসছে যা আজও বিদ্যমান।

এই ভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে বনেদিয়ানাকে ধরে রেখে দুর্গাপূজায় মেতে ওঠেন উখড়ার মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

চুঁচুড়ার বড়ো শীলবাড়ির দুর্গা দ্বিভূজা, শিবের ক্রোড়ে আসীন

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশিবাড়ি বৈষ্ণবধারার হলেও পুজোয় বলিদান হয় দেবীরই আদেশে

Published

on

বকশিবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দুর্গাপুজোয় নানা রীতি, নানা আচার পালন করা হয় বিভিন্ন বনেদিবাড়িতে। কোথাও দেবীর ভোগে অন্ন থাকে, আবার কোথাও দেবীকে লুচিভোগ দেওয়া হয়। মৃন্ময়ী মূর্তির ক্ষেত্রেও বিশেষত্ব দেখা যায়। যেমন, কোথাও তিনি ব্যাঘ্রবাহিনী আবার কোথাও তিনি সিংহবাহিনী।

বঙ্গের পুজোয় কুলাচারের নিয়ম প্রতিটি বাড়িতেই বহু বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে এবং এটাই বঙ্গের সংস্কৃতি যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অগণিত ভক্ত। তেমনই পশ্চিম বর্ধমানের বকশিবাড়িতে দেবীর পদতলে বিরাজ করেন সিংহের পরিবর্তে বাঘরাজ। এই বাড়ির পুজো প্রায় ২৬২ বছরের পুরোনো।

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশি বংশের আদিপুরুষ কিশোরীমোহন দাস ছিলেন বৈষ্ণবভক্ত। বর্ধমানের মহারাজাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। নানা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন কিশোরীবাবু। তাঁর সেই ক্ষমতা দেখে তাঁর সাধ্যমতো উপকার করার প্রতিশ্রুতিও দেন বর্ধমানের মহারাজা। এর পর কিশোরীমোহন দাস সস্ত্রীক বৃন্দাবনে যান এবং সেখানেই তাঁর স্ত্রী এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পুত্রের নাম রাখা হয় গোবর্ধন। এই গোবর্ধন দাস ছিলেন বীর যোদ্ধা এবং প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। বর্ধমানের মহারাজা তাঁর অসীম ক্ষমতা দেখে তাঁকে প্রধান সেনাপতির পদে নিযুক্ত করেন এবং তাঁকে বকশি উপাধি প্রদান করেন। গোবর্ধন দাসের সূত্রেই সূচনা হল বকশি বংশের।

১৭৫৭ সালের পরবর্তী সময়ে দেশীর রাজাদের সঙ্গে ইংরেজদের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। সেই সময় গোবর্ধন বকশি ছিলেন বর্ধমান মহারাজার প্রধান সেনাপতি। যুদ্ধ চলাকালীন গোবর্ধনবাবু একদিন মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। মা তাঁর মূর্তিপূজা শুরু করতে বলেন। মা বলেন, তাঁর মূর্তিপূজা করলে তিনি তাঁকে এবং তাঁর বংশকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। মা স্বপ্নাদেশেই জানিয়ে দেন, তাঁর যে মৃন্ময়ীরূপের পুজো হবে, সেই রূপ তিনি দাঁইহাটের এক শিল্পীকে স্বপ্নাদেশে বর্ণনা করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিজয়নগরের গাছতলায় তাঁর যে শিলামূর্তি রয়েছে, তা এনে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করারও আদেশ দেন মা।   

মায়ের মুখ।

এর পর দেবীর আদেশানুসারে গোবর্ধন বকশি শিলামূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দাঁইহাটের শিল্পীর সাহায্যে মূর্তি তৈরি করে শুরু করেন বংশের দুর্গাপুজো, যা আজও বংশপরম্পরায় চলে আসছে।

এই বাড়ির পুজো শুরু হয় রথের দিন মায়ের কাঠামোয় মাটি দিয়ে। এই বাড়ির মূর্তির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল দেবীর ডান পাশে থাকেন শ্রীলক্ষ্মী ও কার্তিক এবং বাঁ পাশে থাকেন দেবী সরস্বতী ও গণেশ। দেবীর দুর্গার আটটি হাত ছোটো, কাঁধে বসানো এবং বাকি দুটি হাত স্বাভাবিক। ছোটো আটটি হাতের অস্ত্র মাটির এবং ত্রিশূলটি রুপোর তৈরি। এই বকশিবাড়িতে মায়ের বাহন হলেন বাঘ।

বকশি পরিবার বৈষ্ণব হলেও দেবীর আদেশে বলিদান প্রথা পালন করা হয় বলে জানালেন পরিবারের সদস্য শুভদীপ বকশি। দুর্গাপুজোর সপ্তমী ও মহাষ্টমীতে একটি করে ছাগ এবং মহানবমীতে তিনটি ছাগ, একটি মহিষ, চালকুমড়ো এবং আখ বলিদান হয়। এই বাড়ির দেবীকে কোনো শাড়ি পরানো হয় না। পুরো সাজটাই হয় রাজস্থানী ঘাঘরা দিয়ে। মায়ের মন্দিরের ভেতরে কোনো বেদি নেই। দেবীর আদেশে মন্দিরের ভেতরের মেঝেটি পুরোটাই মাটির।

বকশিবাড়ির পুজোয় ১২০ জনেরও বেশি ঢাকি আসেন। ঢাকের লড়াই চলে গ্রামের সরকারবাড়ির সঙ্গে বকশিবাড়ির। এ এক চিরন্তন প্রথা। বকশিবাড়িতে পুজোর সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় – নাচ, নাটক, গান ইত্যাদি। বকশিবাড়ির খ্যাপা মাকে দর্শন করতে মানুষ ছুটে আসেন দূরদূরান্ত থেকে, জড়ো হন এ বাড়ির ঠাকুরদালানে। পুজোর চার দিন ঠাকুরদালানে ভক্তদের ভিড় দেখার মতন।

বকশিবাড়ির কুলদেবতা হলেন গোপাল। পুজোর সময় মায়ের সামনে গোপালকে রেখে তাঁর পুজো করা হয়। এই ভাবে পুজোর নানা প্রথা আঁকড়ে রেখে এবং সাবেক ঐতিহ্য মেনে আজও পুজো হয় বকশিবাড়ির খ্যাপা মায়ের।

খবর অনলাইনে আরও পড়তে পারেন

উধাও হয়ে যাওয়া শ্রীরাধারমণ বিগ্রহ ফিরে পেতেই শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয় কাত্যায়নীর আরাধনা

Continue Reading

Amazon

Advertisement
কেনাকাটা19 mins ago

দীপাবলিতে ঘর সাজাতে লাইট কিনবেন? রইল ১০টি নতুন কালেকশন

দেশ23 mins ago

দুই দেশ একে অপরের পরিপূরক শক্তি: বাংলাদেশের শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনারের বৈঠক

দেশ37 mins ago

গাড়ি ব্যবহার বন্ধ রেখে সময় এসেছে সাইকেল চালানোর, বলল সুপ্রিম কোর্ট

রাজ্য1 hour ago

আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও রাজ্যে টেস্টও বাড়ল, কমল দৈনিক সংক্রমণের হার, ৮৮ শতাংশ পেরোল সুস্থতার হার

বিদেশ3 hours ago

‘ঘুস কে মারা’,পুলওয়ামা হামলায় বিস্ফোরক দাবি পাক মন্ত্রীর

দেশ3 hours ago

শেষ ৯ দিনে ভারতে এক কোটি নমুনা পরীক্ষা, করোনা সংক্রমণের হারে ধারাবাহিক পতন

বিদেশ4 hours ago

ফ্রান্সের গির্জা চত্বরে এক মহিলাকে গলা কেটে খুন, নিহত আরও ২

বিনোদন5 hours ago

পিছিয়ে গেল কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, নতুন তারিখ ঘোষণা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দেশ12 hours ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৪৯,৮৮১, সুস্থ ৫৬,৪৮০

rohit sharma
ক্রিকেট3 days ago

রোহিতে রহস্য! চোটের জন্য অস্ট্রেলিয়াগামী দল থেকে বাদ পড়লেও, মুম্বইয়ের অনুশীলনে ‘হিটম্যান’

ক্রিকেট3 days ago

চতুর্থ স্থান থেকে কলকাতাকে ছিটকে দিয়ে টানা পঞ্চম ম্যাচ জয় পঞ্জাবের

containment kolkata
কলকাতা1 day ago

লকডাউন নিয়ে গুজবের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ

বিনোদন2 days ago

সিবিআই গ্রেফতার করতে পারে, আশঙ্কায় তড়িঘড়ি আদালতের দ্বারস্থ সুশান্ত সিং রাজপুতের দুই দিদি

বিনোদন2 days ago

দেশের সব থেকে বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড কে?

কলকাতা3 days ago

পিতৃমাতৃহীন শিশুদের নিয়ে পুজোর দিনে ‘দুর্গা অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’-এর অভিনব উদ্যোগ

বিদেশ3 days ago

২ নভেম্বর থেকে সাধারণের ওপরে অক্সফোর্ডের কোভিড-টিকার প্রয়োগ শুরু, ব্রিটেনের হাসপাতালকে তৈরি থাকার নির্দেশ

কেনাকাটা

কেনাকাটা19 mins ago

দীপাবলিতে ঘর সাজাতে লাইট কিনবেন? রইল ১০টি নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আসছে আলোর উৎসব। কালীপুজো। প্রত্যেকেই নিজের বাড়িকে সুন্দর করে সাজায় নানান রকমের আলো দিয়ে। চাহিদার কথা মাথায় রেখে...

কেনাকাটা3 weeks ago

মেয়েদের কুর্তার নতুন কালেকশন, দাম ২৯৯ থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজো উপলক্ষ্যে নতুন নতুন কুর্তির কালেকশন রয়েছে অ্যামাজনে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে। তেমনই কয়েকটি রইল এখানে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা4 weeks ago

‘এরশা’-র আরও ১০টি শাড়ি, পুজো কালেকশন

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই পুজো আর পুজোর জন্য নতুন নতুন শাড়ির সম্ভার নিয়ে হাজর রয়েছে এরশা। এরসার শাড়ি পাওয়া...

কেনাকাটা4 weeks ago

‘এরশা’-র পুজো কালেকশনের ১০টি সেরা শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো কালেকশনে হ্যান্ডলুম শাড়ির সম্ভার রয়েছে ‘এরশা’-র। রইল তাদের বেশ কয়েকটি শাড়ির কালেকশন অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা4 weeks ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

কেনাকাটা1 month ago

পছন্দসই নতুন ধরনের গয়নার কালেকশন, দাম ১৪৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজোর সময় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে কার না মন চায়। তার জন্য নতুন গয়না কেনার...

কেনাকাটা1 month ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

কেনাকাটা1 month ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজোর কালেকশনের নতুন ধরনের কিছু শাড়ি যদি নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় তা হলে মন্দ হয় না। তাও...

কেনাকাটা1 month ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা1 month ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

নজরে