পাণ্ডবেশ্বরের নবগ্রামে তিন শরিকের পুজোয় মা দুর্গা আসেন ব্যাঘ্রবাহিনী রূপে

0

বাংলার প্রকৃতিতে শরৎ এসেছে। শিউলি আর কাশফুল ঘোষণা করছে মা দুর্গার আগমনীবার্তা। মা আসছেন নানা রূপে।

পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর থানার অন্তর্গত গ্রাম নবগ্রাম। এখানে তিন শরিকের পুজোয় মা আসেন ব্যাঘ্রবাহিনী রূপে। পুজোর তিন শরিক হল তিনটি পরিবার – চট্টোপাধ্যায়, মুখোপাধ্যায় ও চক্রবর্তী। তিন শরিকের এই পুজো আনুমানিক আড়াইশো বছরের পুরোনো।

দেবীর গায়ের রঙ তপ্ত কাঞ্চনবর্ণের। এই পুজোয় বর্তমানে যিনি দেবীপ্রতিমা তৈরি করেন, তাঁর পরিবারই বংশপরম্পরায় এই কাজ করে আসছেন। এমনকি, যাঁরা ঢাক বাজান, তাঁরাও বংশপরম্পরায় ঢাক বাজিয়ে আসছেন।     

তিন শরিকের দুর্গাপূজার বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। সব চেয়ে বড়ো বৈশিষ্ট্যটি হল, এখানে দেবী ব্যাঘ্রবাহিনীকে ভোগ নিবেদন করার আগে পরিবারের কুলদেবতা শ্রীশ্রীরঘুনাথচন্দ্র জিউকে ভোগ নিবেদন করা হয়।

Shyamsundar

ভোগের ক্ষেত্রেও রয়েছে বেশ কিছু বিশেষত্ব। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে দেবীকে পঞ্চব্যাঞ্জন সহকারে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়। তার সঙ্গে থাকে পায়েস ও মিষ্টি। তবে কচু-কুমড়োর তরকারি ভোগে থাকতেই হবে। দশমীতে দেবীকে দই-চিঁড়ে ভোগ হিসাবে দেওয়া হয়।

এই  পুজোয় বলিদান প্রথা আছে। মহাসপ্তমীতে চালকুমড়ো বলি হয় এবং মহাষ্টমীতে শ্বেতছাগ ও মহানবমীতে কালো ছাগ বলি দেওয়া হয়।

তিন শরিকের দুর্গাপুজোর একটি অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল অপরাজিতা পূজা, বেলপাতায় দুর্গানাম লিখে দেবীর চরণে অর্পণ ও যাত্রা বাঁধা। এ ছাড়াও দশমীর দিন সিঁদুরখেলা ও দেবীবরণ তো আছেই।   

দশমীর রাত্রে শোভাযাত্রা সহকারে স্থানীয় এক পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। ঐতিহ্য ও পরম্পরায় নবগ্রামের এই প্রাচীন দুর্গোৎসব আজও অমলিন।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন