চিকিৎসা না করে এমারজেন্সি থেকে রোগীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল এসএসকেএম-এর বিরুদ্ধে। সাম্প্রতিক কালে এমন ঘটনা নজিরবিহীন। এসএসকেএম হাসপাতালে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন কোনও রোগী হাসপাতালে এলে তার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। কিন্তু সেই নির্দেশের বিপরীত ছবি দেখল শনিবারের এসএসকেএম।

হুগলির তারকেশ্বর থেকে নূরজাহান বেগম পেটের যন্ত্রণা নিয়ে গিয়েছিলেন চুঁচূড়া জেলা হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে রেফার করা হয়েছিল এসএসকেএম-এ। কিন্তু এমারজেন্সিতে আসার পরই হাসপাতালের ডাক্তার জানান তার মাথার স্ক্যান করাতে হবে। না হলে চিকিৎসা শুরু করা যাবে না। তখন পেটের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন নূরজাহান বেগম। এমারজেন্সি থেকে মাথার স্ক্যান করাতে কী ভাবে নিয়ে যাবেন জানতে চাইলে, ডাক্তারবাবুরা জানান তারা কোনও সাহায্য করতে পারবেন না। তার স্বামী শেখ আবু তাহের ডাক্তারদের ট্রলির কথা বলেন। কিন্তু মেলেনি তা-ও। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকের কাছে বার বার সাহায্যের জন্য আবেদন করেও কোনও সাড়া না পেয়ে হাসপাতালের বাইরে থেকে হাতে টানা একটা রিক্সা ভাড়া করে সেই রিক্সাতে বসিয়েই তাকে স্ক্যান করাতে নিয়ে যান তার স্বামী। হাতে সেলাইনের বোতল ধরে রিক্সা করেই তাকে স্ক্যান করাতে নিয়ে যান বাড়ির লোকজন।

নূরজাহান বেগমের স্বামী শেখ আবু তাহের অভিযোগ, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেন ট্রলি নেই। আপনাদের রোগী আপনারা কী ভাবে নিয়ে যাবেন সেটা আপনাদের ব্যাপার। এর পর আমার স্ত্রীকে এমারজেন্সি থেকে বাইরে বার করে দেওয়া হয়। তার পর আমি একটা রিক্সা ভাড়া করে স্ক্যান করতে নিয়ে আসি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একেবারে আমানবিকতার পরিচয় দিল’।

এসএসকেএম হাসপাতালের ডিরেক্টর মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই ঘটনার তদন্ত করবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই সময় এমারজেন্সিতে থাকা ডাক্তার ও স্টাফদের থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে’।  

হাসপাতালের রোগীকল্যান সমিতির সভাপতি অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এটা ঠিক হয়নি যারা এই কাজ করেছে তাদের চিহ্নিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here