ফের অমানবিকতার ছবি এসএসকেএম হাসপাতালে। রোনান্ড রস বিল্ডিং-এর নীচে লিফটের পাশে মাটিতে শুয়ে কাতরাচ্ছেন আলি হোসেন। মাথায় গুরুতর আঘাত সত্ত্বেও কোনো চিকিৎসা হয়নি। হাসপাতাল ভর্তিও নেয়নি। ১০ দিন ধরে স্ত্রীর কোলেই শুয়ে কোনো মতে দিন কাটছে আলি হোসেনের।    

মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে মুর্শিদাবাদের রানিনগর থেকে এসএসকেএম হাসপাতালে আসেন আলি হোসেন। বহরমপুর হাসপাতাল থেকে রেফার করে তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। প্রথমে হাসপাতালের এমারজেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে বলা হয়েছিল মাথার কয়েকটা পরীক্ষা করিয়ে আনতে। পরিবারের পক্ষ থেকে সেই পরীক্ষাগুলো করে আনা হলেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়নি। হাসপাতালের এমারজেন্সি ও বহির্বিভাগের ডাক্তাররা আলি হোসেনকে দেখে তাঁর অবস্থা গুরুতর বলা সত্ত্বেও তাঁকে ভর্তি করা হয়নি। হাসপাতাল কেন তাঁকে ভর্তি নিল না সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।  

আলি হোসেনের মামা কবিরুল আলি অভিযোগ করেন, “আমরা এমারজেন্সি, মেডিসিন-সহ হাসপাতালের একাধিক বিভাগে ভর্তির জন্য ঘুরেছি, কিন্তু কারও কাছ থেকে কোনও সহযোগিতা মেলেনি। এমনকি হাসপাতাল সুপারের কাছে গিয়েও আমরা কোনো সাহায্য পাইনি। আমাদের পক্ষে এখন রানিনগর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। রোগীকে নিয়ে ১০ দিন ধরে হাসপাতালের রোনাল্ড রস বিল্ডিং-এর তলায় ঠাঁই নিয়েছি।”

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার বলেছেন, হাসপাতালে কোনও গুরুতর রোগী এলে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে। তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া চলবে না। এসএসকেএম-সহ সব হাসপাতালকেই কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই বার্তায় যে কাজের কাজ কিছুই হয়নি, তার প্রমাণ টানা ১০ দিন ধরে বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালের একটি ভবনের মাটিতে পড়ে থাকা আলি হোসেন।

এ বিষয়ে হাসপাতালের এমএসভিপি করবী বড়াল বলেন, “আমার কাছে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে এ বিষয়ে অবশ্যই খোঁজখবর নেব। আর কী কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়নি সে বিষয়ে তদন্ত করা হবে।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here