jalpaiguri dist. hospital, thalassemia unit

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও পরিষেবা না পেয়ে ফিরে গেলেন রোগীরা। এই ঘটনা জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের থ্যালাসেমিয়া ইউনিটের। পরিষেবা না পাওয়ার জন্য জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকেই রোগীরা ভিড় করেন থ্যালাসেমিয়া ইউনিটের সামনে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের পাশাপাশি ছিলেন গর্ভবতী মহিলা বা বিবাহিত দম্পতিরাও। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে কাউন্সেলিং, তার পর রক্তের নমুনা নেওয়া হয় পরীক্ষার জন্য। অভিযোগ, কাউন্সেলিং রুমে কোনো কর্মী ছিলেন না। কাউন্সেলিং না হওয়ায় রক্তের নমুনাও সংগ্রহ করতে চাননি ল্যাবরেটরির কর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর অনেকেই ফিরে যান। দূর থেকে আসা কয়েক জন তখনও অপেক্ষা করছিলেন।

দেড়টা নাগাদ কাউন্সেলিং ইউনিটের এক কর্মী এসে জানান, এ দিন আর কাউন্সেলিং হবে না। ফের আগামী মাসের তিন তারিখ আসতে হবে। কাউন্সেলিং না হলে রক্ত পরীক্ষাও হবে না। রক্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত আদৌ থ্যালাসেমিয়া আছে কি না তা জানা সম্ভব নয়। আবার থাকলেও চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু করতেও দেরি হয়ে যাবে।

এই সব কারণেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীরা ও তাঁদের আত্মীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, কেন এতক্ষণ তাঁদের বসিয়ে রাখা হল? আগেই কেন জানানো হল না যে আজ কোনো কাজ হবে না? কাউন্সেলিং বিভাগে কেন কর্মীরা ছিলেন না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রোগীরা। সূত্রের খবর, কাউন্সেলিং বিভাগের কর্মীরা নিজেদের ব্যক্তিগত কাজের জন্য বাইরে গিয়েছিলেন।

যদিও অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন কর্মীরা। এক মহিলা কর্মীর সাফাই, তিনি টয়লেটে গিয়েছিলেন। তার পরেও প্রশ্ন থেকে যায়, ওই বিভাগে একাধিক কর্মী রয়েছেন, তাঁরা কোথায় ছিলেন? উত্তর মেলেনি। বরং এ সব প্রশ্ন করায় অভিযোগকারীদের সঙ্গে বচসায় জড়িতে পড়েন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীরা।

পাঙ্গা থেকে এসেছিলেন মজিদ আলম, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বিকি প্রধানকে নিয়ে। তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন, অনেক দূর থেকে চিকিৎসা করাতে এসে কেন এই ভাবে হেনস্থার শিকার হতে হবে? কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। অন্যরা ফিরে গেলেও এই ঘটনার বিহিত চেয়ে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তাঁরা।

ঘটনার কথা শুনে বিস্মিত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ জগন্নাথ সরকারও। তাঁর বক্তব্য, এ রকমটা হওয়ার কথা নয়। তাঁর দাবি, থ্যালাসেমিয়া বিভাগ ভালো কাজ করে। তা-ও কেন এই ঘটনা হল তা খোঁজ নিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here