indrani
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: কালবৈশাখী ঝড়, তীব্র গরম থেকে রেহাই দিলেও স্বস্তিতে নেই বাঁকুড়া জেলার মানুষ। পঞ্চায়েত ভোটের তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপ যতটা না চিন্তায় ফেলেছে তার থেকেও বেশি ভাবাচ্ছে ঘনঘন লোডশেডিং।  জেলার শহরগুলির থেকেও খারাপ অবস্থা এখন গ্রামগুলোর। সকাল হলেই তীব্র গরম, পাল্লা দিয়ে বাড়তে বাড়তে পারদ পৌঁছে যাচ্ছে চল্লিশের ঘরে। এই অবস্থায় লোডশেডিং খাড়ার মতো ঝুলছে সাধারণ মানুষের উপর। লোডশেডিং-এর মাত্রা কখনও দশ ঘণ্টা আবার কখনও ২২ থেকে ৪৩ ঘণ্টাও ছাপিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ জেলাবাসীর।

কেন এমন হচ্ছে? এত সময় পার হয়ে গেলেও কেন লোডশেডিং জেলার বিভিন্ন প্রান্তে? এই প্রশ্নটাই এখন ভাবাচ্ছে জেলার মানুষকে। ইন্দাস ব্লকের স্থায়ী বাসিন্দা প্রশান্ত দে, হরিদাস পাত্ররা বলেন, “যখন কারেন্ট  ছিল না মানুষ শান্তিতে থাকত, কিন্ত এখন সব কিছুই কারেন্ট নির্ভর।” পেশায় শিক্ষক ইন্দপুর ব্লকের শুভেন্দু তন্তুবায় বলেন, “এক দিকে তীব্র গরম অন্য দিকে লোডশেডিং, পড়ানোর খুব ক্ষতি হচ্ছে। সন্ধ্যায় কালবৈশাখীর দাপটে তো ঘর থেকে বেরোনোই দায়।” লোডশেডিং-এ জেরবার বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুরের মতো শহরাঞ্চলের মানুষও।

লোডশেডিং-এর বিষয়ে বিদ্যুৎ দফতরের এক প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ করা হবে না এই শর্তে এই প্রতিবেদককে তিনি বলেন, “গ্রামাঞ্চলে গাছের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেশি। তাই অল্প ঝড়েই বিদ্যুতের তারে গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে যায়। প্রয়োজনের তুলনায় বিদ্যুৎ অফিসগুলোতে কর্মী সংখ্যা অনেক কম। তাই অনেক সময়েই বিদ্যুৎ স্বাভাবিক করতে দেরি হয়।”

একই সঙ্গে গ্রাহকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী-আধিকারিকদের ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে কখনোই তাঁদের পাওয়া যায় না। বিদ্যুৎ দফতরের অন্য এক আধিকারিক বলেন, “অনেক সময় বিদ্যুতের তারের ওপর পড়া গাছ কাটা নিয়ে বিদ্যুৎকর্মীদের বাধার সম্মুখীন হতে হয়। সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া এই কাজ করা এক বারেই সম্ভব হয় না।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here