newly wed couple planting trees
mrinal mahat
মৃণাল মাহাত

অভিনব ভাবে বিয়ের উৎসব পালিত হল শালবনীর মধুপুর গ্রামে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে নতুন বধূকে বাড়িতে নিয়ে এলেন বছর পঁচিশের যুবক সমীর দেবসিংহ। জানা যায়, মধুপুর ও মেমুল গ্রামের মধ্যবর্তী অংশটুকুতে  রাস্তার দু’পাশে প্রায় দুশোর মতো গাছ লাগানো হয়।

বিয়ের অনুষ্টানে কেন এই বৃক্ষরোপণ উৎসব? সমীর বলেন, “আমি নিছক বিয়ের অনুষ্ঠানে আনন্দফুর্তি করতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম কিছু না কিছু সামাজিক কাজ করতে। রক্তদান শিবির করারও ইচ্ছে ছিল, বিভিন্ন কারণে যদিও সেটা সম্ভব হয়নি। আসলে আমি চাই, আমার বাবা-মা এই সামাজিক কাজকর্মের মধ্যেই বেঁচে থাক। সব কাজ আমার বাবা-মায়ের স্মৃতির উদ্দেশেই নিবেদন করেছি।”

planting treesগ্রামবাসীরা জানান, সমীরের বাবা স্বপন দেবসিংহ জঙ্গলমহলের অশান্ত পরিস্থিতিতে মাওবাদীদের হাতে খুন হন। সমীর তখন একাদশ শ্রেণির ছাত্র। পরের বছর তার মা অণিমাকেও অপহরণ করে মাওবাদীরা। অণিমাকে আর পাওয়াও যায়নি। পরবর্তীকালে সমীর দক্ষিণপূর্ব রেলে চাকরি পান। সমীর বলেন, এই গাছগুলোর মধ্যেই আমার বাবা-মা বেঁচে থাকুক। ঝাড়গ্রামের বাঁকশোল থেকে সদ্য বধূ হয়ে আসা বছর উনিশের দীপিকা বলেন, “আমাদের বিয়েটা সুন্দর একটা কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়ায় আমার বেশ ভালো লাগছে।” সমীরের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান গ্রামবাসী ও নিমন্ত্রিতেরা। গ্রামবাসীরা জানান, তাঁরাই এই গাছগুলোর দেখভাল করবেন।

মধুপুরের বাসিন্দা স্থানীয় একটি ছোটো পত্রিকার সম্পাদক ধনঞ্জয় দেবসিংহ বলেন, এমনিতে আমাদের কুড়মী সমাজে বিয়ের দিন আগে আমগাছ ও মহুল গাছের সঙ্গে বিয়ে দিতে হয় ছেলেমেয়েদের। তার পর তাদেরর আনুষ্ঠানিক বিয়ে হয়। সে ক্ষেত্রে সমীর নতুন একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। এ ভাবে সবাই এগিয়ে এলে পরিবেশও বাঁচবে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী রাকেশ সিংহদেব বলেন, মানুষ আজ সচেতন হয়েছে। উৎসব অনুষ্ঠানে থার্মোকল, প্লাস্টিক বর্জন করছে। এটা খুব আনন্দের। সমীরবাবুর এই মহৎ প্রচেষ্টা সবাই অনুসরণ করলে পরিবেশের পক্ষে তা অত্যন্ত হিতকর হবে। সম্পর্কের চারাগাছকে এ ভাবেও ভালোবাসার মহিরুহতে পরিণত করা যায়! আগামী প্রজন্মের জন্য এর চেয়ে বড়ো উপহার আর কী-ই বা হতে পারে!

1 মন্তব্য

  1. খুব সুন্দর সমীর দা!এগিয়ে চলো আমরা তোমার পাশে আছি

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here