নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : ডিম-আতঙ্ক এ বার দক্ষিণবঙ্গ ছাড়িয়ে উত্তরেও। জলপাইগুড়ি শহরের দুই প্রান্তে প্লাস্টিক-ডিমের ভুক্তভোগী এক চিকিৎসক ও এক সরকারি কর্মচারী।

রবিবার দুপুরে চিলি-চিকেনে দেওয়ার জন্য ডিম ফাটিয়েছিলেন গোমস্তাপাড়ার বাসিন্দা শম্পা মোহান্তি। ফাটানোর পর সন্দেহ হতেই স্বামী সন্দীপ মোহান্তিকে দেখান তিনি। পেশায় চক্ষু বিশেষজ্ঞ সন্দীপবাবু ডিমের খোসা আগুনে পোড়াতেই দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করে। ডিমের কুসুম-সহ বাকিটা দিয়ে ওমলেট বানানোর চেষ্টা করেন শম্পাদেবী। সেটা থেকেও দুর্গন্ধ বের হয় এবং ওমলেটটি পুড়ে প্ল্যাস্টিকের মত হয়ে যায়।
একই অভিজ্ঞতা হয় অশোকনগরের সঞ্জীব মিত্রর। পেশায় সরকারি কর্মচারী সঞ্জীববাবু শুক্রবার পাড়ার দোকান থেকে তিনটি ডিম কিনেছিলেন। সে দিনই দুটি ডিম ফাটিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু খারাপ মনে করে ফেলে দেন। এর পর টিভিতে নকল ডিমের খবর দেখে রবিবার সকালে অন্য ডিমটি ফাটান। পোড়াতে গিয়ে দেখেন দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। এর পর তিনি পুরসভায় খবর দেন। পুরকর্মীরা এসে ডিমটি নিয়ে যান। যে দোকান বা পাইকারি বিক্রেতার কাছ থেকে ডিমগুলি আনা হয়েছিল তাদের সঙ্গেও কথা বলেন পুরকর্মীরা। সেখান থেকেও ডিমের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান তাঁরা। জেলা স্বাস্থ্য দফতরকেও  এই বিষয়ে জানানো হয়। তারা ডিমের নমুনাগুলি ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার থেকে শহরের সমস্ত বাজারে এই নিয়ে অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন জলপাইগুড়ি পৌরসভার চেয়ারম্যান-ইন-কাউন্সিল সন্দীপ মাহাতো। তবে ডিম বিক্রেতাদের দাবি, এর আগে তাদের কাছে নকল ডিমের অভিযোগ আসেনি। যদিও ইতিমধ্যেই ডিম খাওয়া নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে শহর জুড়ে।
 
শুধু জলপাইগুড়ি নয়, উত্তরবঙ্গের প্রায় সমস্ত জেলা থেকেই নকল, প্ল্যাস্টিক ডিমের খবর এসেছে। সকালে ডিম-টোস্ট করতে গিয়ে একই অভিজ্ঞতা হয়েছে মালদার বিপ্লব সাহার। রায়গঞ্জে রসময় সরকার নামে এক এগরোল ব্যাবসায়ীও একই অভিযোগ করেছেন। আলিপুদুয়ারের গৃহবধূ শ্যামলী রায়ের অভিজ্ঞাতও ভয়াবহ। তবে সব জায়গাতেই স্থানীয় প্রশাসন এই বিষয়ে তৎপর হয়েছে। বিভিন্ন বাজারে চলছে নকল ডিমের তল্লাশিতে অভিযান।
 
সকালে হাফ-বয়েল হোক বা দুপুরে পেয়াজ জড়ানো কারি, আতঙ্কের  জেরে উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত, প্রত্যেকের পাতের অপরিহার্য এই ডিম কি এবার অদৃশ্য হবে মেনু থেকে?  উত্তর থেকে দক্ষিন, সাধারণের প্রশ্ন এখন এটাই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here