dilip ghosh 2

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ-সহ আট জন বিজেপি নেতার নামে ‘সুয়োমোটো’ মামলা করল জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানা। পুলিশকে মারা, বেঁধে রাখার হুমকি, উসকানিমূলক বক্তব্য, বেআইনি জামায়েত, সরকারি কাজে বাধাদান, ১৪৪ ধারা ভাঙা-সহ একধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দিলীপ ঘোষ ছাড়াও বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু, উত্তরবঙ্গের সহ-আহ্বায়ক দীপেন প্রামাণিক, জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি দেবাশিস চক্রবর্তী-সহ মোট আট জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দফতর ঘেরাও কর্মসূচি নিয়েছিল বিজেপি। সেখানে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী অল্পবিস্তর চোট পান। এ দিকে কর্মসূচি চলাকালীন বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘উস্কানিমূলক’ কথাবার্তা বলেন দিলীপ ঘোষ, অভিযোগ এমনই। তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় তাড়িয়ে তাড়িয়ে গুন্ডাদের মেরেছি। সারা পশ্চিমবঙ্গে এ রকম করতে পারি। তৃণমূল নেতারা বাড়ি ফিরতে পারবে না।” রাজ্যের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকেও পরোক্ষে কোমর ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি। কর্মীদের ‘পরামর্শ’ দেন, “মিথ্যা মামলায় বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতার করতে গ্রামে পুলিশ এলে, তাদের গাড়ি আটকে রাখুন, পুলিশকে  বেঁধে রাখুন”। তাঁর বক্তব্যে বেজায় উৎসাহিত হন বিজেপি কর্মীরা।

এ দিকে এই বক্তব্যের পরই আসরে নেমে পড়ে শাসকদল। জলপাইগুড়ি তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর অভিযোগ, ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য রেখে উত্তরবঙ্গের শান্ত পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছেন দিলীপ ঘোষ।

পুলিশও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথে হাঁটে। বিজেপির রাজ্য সভাপতির বক্তব্যের ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে রাতেই আইসি কোতোয়ালিকে ‘সুয়োমুটো’ মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেন জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি। এর পর আদালতের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কাছে সমন পাঠানো হবে।

যদিও বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, তাঁদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে মানুষের জনজোয়ার দেখে ভয় পেয়ে শাসকদলের নির্দেশে পুলিশ এই আইনি পদক্ষেপ করছে। তাঁরাও আইনি পথেই এর জবাব দেবেন বলে জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here