শিক্ষক-শিক্ষিকা নির্বিশেষে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পেটাল পুলিশ!

0

ওয়েবডেস্ক: স্থায়ী চাকরি এবং সমকাজে সম বেতনের দাবিতে শনিবার নদিয়ার কল্যাণী স্টেশনে অবস্থান বিক্ষোভ করতে এসে পুলিশের লাঠিতে জখম হলেন বেশ কয়েক জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পার্শ্ব শিক্ষক।

অভিযোগ, মহিলাদের উপরেও বেধড়ক লাঠি চালানো হয়। আগাম অনুমতি না-নিয়ে বিক্ষোভ করার অভিযোগে প্রথমে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা পুলিশের কথা অমান্য করায় লাঠি চালানো হয় বলে অভিযোগ। তবে তখনকার মতো হটে যেতে বাধ্য হলেও অন্তত শ’পাঁচেক পার্শ্বশিক্ষক নদিয়ার কল্যাণী স্টেশনে প্ল্যাটফর্মে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।

এই ঘটনায় শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা জখম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের নেতা তরুণ মেটে। তাঁরা জানান, গত শুক্রবার সল্টলেকে প্রতিবাদ জানানোর জন্য তাঁরা জমায়েত হন। কিন্তু সেখানে পুলিশ তাঁদের হঠিয়ে দেন। এর পর শনিবার তাঁরা ফের কল্যাণীতে মেন স্টেশন সংলগ্ন বাস টার্মিনাসে প্রতিবাদে শামিল হন। সেখানেও পুলিশ তাঁদের উপর চড়াও হয়।

শনিবার সকাল থেকেই কল্যাণীর নতুন বাস টার্মিনালের সামনে বিক্ষোভে শামিল হন আন্দোলনকারীরা। সন্ধে নামতেই আলো নিভিয়ে বেধড়ক লাঠি চালানোর অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। যদিও রানাঘাটের জেলা পুলিশ সুপার ভি এস আর অনন্তনাগ অবশ্য লাঠিচার্জ নিয়ে বিশেষ কোনো মন্তব্য করেননি। তিনি শুধু বলেন, ‘‘আমি গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখব।’’

বিক্ষোভকারীরা জানান, ২০০৪ এবং ২০০৭ সালে নিয়োগ হওয়া পার্শ্বশিক্ষকরাও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। কিন্তু তাঁদের বেতন সেই তুলনায় বাড়ানো হয়নি। প্রাথমিক এবং উচ্চপ্রাথমিকে তাঁদের বেতন যথাক্রমে ১০ এবং ১৩ হাজার টাকা। এই বেতন বৈষম্য এবং স্থায়ী চাকরির দাবিতেই তাঁরা প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন।

পুলিশের লাঠিচার্জ প্রসঙ্গে পার্শ্বশিক্ষক ঐক্য মঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক ভগীরথ ঘোষ অভিযোগ করেন, ‘‘শতাধিক শিক্ষককে মারধর করা হয়েছে। এটা কোনও গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। কলকাতা থেকে মার খেয়ে কল্যাণীতে এসেছিলাম। এখানেও মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হল।’’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here