জঙ্গলমহলে সত্যিই কি বাড়ছে মাওবাদী কার্যকলাপ, নিছক রাজনৈতিক আকচাআকচি নয় তো?

0
ফের দেখা যাচ্ছে মাওবাদী পোস্টার। প্রতীকী ছবি

কলকাতা: জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের পুনরুত্থানের ইঙ্গিত! জারি হাই-অ্যালার্ট। সত্যিই কি জঙ্গলমহলে বাড়ছে মাওবাদী কার্যকলাপ, না কি নিছক রাজনৈতিক আকচাআকচির জেরেই নতুন করে ছড়াচ্ছে আতংক?

এখানে-ওখানে মাওবাদী পোস্টার!

কয়েক দিন ধরেই শোনা যাচ্ছে জঙ্গলমহলের এখানে-ওখানে দেখা যাচ্ছে মাওবাদী পোস্টার। সে সব খবর ফলাও করে প্রচার হচ্ছে সংবাদ মাধ্যমে। তবে বিষয়টি বাড়তি গুরুত্ব পায় যখন কেন্দ্রের তরফে সতর্ক করে দেওয়া হয় রাজ্যকে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলা সমন্বিত জঙ্গলমহলে নাশকতার আশংকা প্রকাশ করে কেন্দ্র। সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা পৌঁছোয় নবান্নে। তার পরই জারি হয় হাই-অ্যালার্ট।

তবে ক’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এর নেপথ্যে বিরোধী দলের হাত থাকতে পারে। নিছক আতংকের আবহ তৈরি করতেই এমন কাণ্ড। তাঁর কথায়, “একটা-দু’টো-তিনটে পোস্টার বিজেপি লাগিয়ে দিয়েছে। তোমরাই (জেলাশাসকরা) বা লোকালি কেন বলে দিচ্ছো না যে ঘটনাটা সত্য নয়”? তবে একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি ঝাড়খণ্ড থেকে কোনো মাওবাদী আসে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নাও”।

কী বলছে শাসক দল

মুখ্যমন্ত্রীর কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেল পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল জেলা সভাপতি এবং বিধায়ক অজিত মাইতির কথায়। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর কাছে তিনি বলেন, “জঙ্গলমহলের পরিস্থিতি আর মাওবাদী কার্যকলাপের জন্য উপযোগী নয়। কারণ উদ্বেগের আসল কারণ ছিল অনুন্নয়ন, তা এখন আর নেই”।

একটা সময় মাওবাদী কার্যকলাপে তটস্থ হয়ে থাকত জঙ্গলমহল। নিত্য দিন মৃতদেহ আর রক্ত। তবে ২০০৯ সালে ‘অপারেশন গ্রিন হান্ট’ শুরু হওয়ার পর তা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য পুলিশের যৌথ বাহিনী মাওবাদী দমনে নেমেছিল। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর যৌথ বাহিনীর সঙ্গে গুলি লড়াইয়ে মৃত্যু হয় শীর্ষ মাওবাদী নেতা কিসেনজির। পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল সরকারের উদ্যোগে মূল স্রোতে ফিরে আসেন মাও সদস্যরা।

ভিন্ন মত বিরোধীদের

এখন ফের মাওবাদী পোস্টার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ। শাসক দল এই ঘটনায় কাঠগড়ায় তুলছে বিরোধীদের। এ ধরনের অভিযোগ খণ্ডন করে পশ্চিম মেদিনীপুরের বিজেপি জেলা সভাপতি তাপস মিশ্র বলেছেন, “তৃণমূলের উদ্দেশ্য হল এ সবের মাধ্যমে বিরোধীদের আন্দোলন বিরত রাখা। আবার এটা স্থানীয় তৃণমূল শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পরিণতিও হতে পারে”।

সিপিএমের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক সুশান্ত ঘোষ বলেন, “মাওবাদীরা বন্‌ধ ডেকেছিল। আমরা দেখেছি, সে সময় কী ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসেছিল রাজ্য প্রশাসন। সাধারণত বিরোধী দল বন্‌ধ ডাকলে প্রশাসন তা ব্যর্থ করতে ঘাম ঝরায়। তবে আমার কাছে মাওবাদী কার্যকলাপের কোনো তথ্য নেই। তখন যে সব মাওবাদী অথবা জনসাধারণের কমিটির সদস্যরা ছিলেন, তাঁরা সকলেই শাসকদলে যোগ দিয়েছেন”।

নেতৃত্ব দেওয়ার মতো আছে কেউ

কয়েক দিন আগেই পুলিশ সূত্রে দাবি করা, গত কয়েক মাস ধরেই জঙ্গলমহলে ফের মাওবাদী কার্যকলাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু এলাকায় মাওবাদী পোস্টার নিয়ে দেখা দিয়েছে সাময়িক চাঞ্চল্যও। শুধু তাই নয়, মাওবাদীরা ব্যবহার করে এমন ল্যান্ডমাইন উদ্ধারও হয়েছে। গত ৮ এপ্রিল জঙ্গলমহলে বন্‌ধের ডাক দিয়েছিল মাওবাদীরা। যে বন্‌ধে সাড়াও পড়েছিল। সবমিলিয়ে মাওবাদীদের তৎপরতা নতুন করে বাড়ছে বলে অনুমান করা হয়। এরই মধ্যে দু’দিন আগে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, এমন ঘটে থাকলে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “ঝাড়গ্রাম যাব। কবে যাব, পরে বলে দেব”।

তবে একাংশের মতে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্যে কোনো মাওবাদী নেতা আছেন বলে মনে হয় না। সবাই তো এখন নাম লিখিয়েছেন মূলধারার রাজনৈতিক দলে!

আরও পড়তে পারেন: 

সুদ থেকে ব্যাপক আয়, আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাঙ্কের নিট প্রফিট বাড়ল ১৬৫ শতাংশ

হলমার্ক ছাড়া গয়না কিনে ফেললে ঘাবড়াবেন না, জানুন কী ভাবে মিলবে ক্ষতিপূরণ

মর্মান্তিক দুর্ঘটনা মায়াপুরে, মাঝ নদীতে নৌকা উলটে নিখোঁজ মা ও শিশুকন্যা

কংগ্রেস যোগ দেওয়া নিয়ে জলঘোলা! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, ‘প্রশান্ত কিশোর এখনও আমাদের সঙ্গেই আছেন’

মোদীর উপস্থিতিতেই বিচারব্যবস্থায় সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে সরব প্রধান বিচারপতি, ‘লক্ষ্মণরেখা’ মেনে চলার পরামর্শ

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন