সামনেই দেবী দুর্গার বোধন। তার ঠিক আগে মর্ত্যে আগমন দুধ-গঙ্গার। কলিকালে দুধ-গঙ্গার আগমনে হুড়োহুড়ি ভক্তপ্রাণ মানুষের মধ্যে।

কোনো পৌরাণিক কাহিনি নয়। প্রযুক্তির হাত ধরে দ্রুত এগিয়ে চলা একবিংশ শতাব্দীর কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষের সত্যি গল্প এটি। ঘটনাস্থল জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের বইশখাওয়া গ্রাম। বৈকুন্ঠপুর জঙ্গল সংলগ্ন এই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে বুড়ি করলা নদী। এই নদীকে ঘিরেই শুরু হয়েছে যাবতীয় কাণ্ড।

মঙ্গলবার গ্রামের স্থানীয় মহিলারা নদীতে স্নান করেতে এসে দেখতে পান নদীর একাংশে দুধের রঙের জল বেরিয়ে আসছে। ভয়ে তাঁরা স্নান না করেই ফিরে যান বাড়িতে। এই কথা ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। দুধের স্রোত দেখতে ক্রমশ ভিড় বাড়তে থাকে নদীর তীরে। প্রথমে ভয়, তার থেকে ভক্তি। সারা গ্রামে রটে যায় দেবতার আশীর্বাদে বুড়ি করলায় দুধের স্রোত বইছে। মুখে মুখে নদীর নাম পালটে হয়ে যায় দুধ-গঙ্গা। নদীতীরে ভিড় বাড়তে শুরু করে। কেউ আসেন নিছক উৎসাহে, তো কেউ আসেন পুণ্যার্জনের জন্য। শুরু হয়ে যায় দুধ-জলে স্নান। অনেকে পবিত্র জল মনে করে পান করতেও শুরু করেন।karala-in

এতেই শেষ নয়। অতি উৎসাহী কিছু গ্রামবাসী নদীর তীরে দেবী গঙ্গার মন্দির বানিয়ে ফেলারও তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন। তৈরি হয়ে গিয়েছে মন্দির কমিটি। শুরু হয়েছে চাঁদা তোলাও।

তবে পুরো বিষয়টিকে আজগুবি গল্প বলে উড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক মানুষেরা। তাঁদের বক্তব্য নদীর ওই জায়গায় প্রচুর পরিমাণে চুন, ডলোমাইট রয়েছে। তার থেকে ক্যালসিয়াম বেরিয়ে জলের সঙ্গে মিশে গিয়ে জলের রঙ সাদা হয়ে গিয়েছে। এছাড়া ওই জায়াগায় এক সময় পশুর হাড়গোড় ফেলা হত। তার ক্যালসিয়ামও জলে মিশছে। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত জানিয়েছেন, এই জল দীর্ঘদিন পান করলে শারীরিক ক্ষতি হতে পারে।

এই ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। গত বছরও একই ঘটনা ঘটেছিল, তবে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তখন অবস্থা স্বাভাবিক হয়েছিল। তবে এ বার যে হারে ভক্তবৃন্দের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে যুক্তি-বুদ্ধিতে কাজের কাজ কতটা হবে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here