সংগৃহীত ছবি

ওয়েবডেস্ক: পঢ়ুঁয়া অষ্টমী বা পৌড়া অষ্টমীতে মেতে উঠল জঙ্গল মহলের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিশেষ করে গোপীবল্লভপুর, বেলপাহাড়ি, সাঁকরাইল, নয়াগ্রাম-সহ বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার পালিত হল এই উৎসব। কী এই পৌড়া অষ্টমী?

প্রতিবছর রাসযাত্রার ঠিক পরের কৃষ্ণা অষ্টমীতে পালিত হয় এই পৌড়া অষ্টমী। সুবর্ণরেখা অববাহিকার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমানা বরাবর এলাকায় বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে এই উৎসব। স্থানীয় লোকশ্রুতি অনুযায়ী, পিতামাতার প্রথম সন্তানের মঙ্গলকামনায় পালিত হয় এই উৎসব। পৌড়া বা পড়ুয়ান কথাটির অর্থ হল, বাড়ির বড়ো সন্তান। অতীতে প্রথম সন্তানের পাশাপাশি অষ্টম সন্তানের মঙ্গলকামনায় এই উৎসব পালিত হলেও এখন সে সবের বালাই নেই। কিন্তু এখন শুধু প্রথম সন্তান বা বাড়ির বড়ো সন্তানকে কেন্দ্র করেই এই উৎসব সীমাবদ্ধ নেই। বাড়ির ছোটোরাও নতুন জামাকাপড় পরে শামিল হয়ে যায় এই উৎসবে।

আগের মতোই এখনও মামারবাড়ি থেকে আসে সমস্ত উপকরণ। যেগুলির মধ্যে থাকে নতুন জামাকাপড়, পছন্দের মিষ্টি থেকে শুরু করে ফুল-ফল, ধান-দুর্বা, চন্দন-সহ যাবতীয় উপকরণ। আবার অনেকে মামারবাড়ি গিয়েও অষ্টমী পালন করে থাকে। তবে যাঁরা বিবাহিত তাঁদের ক্ষেত্রে শ্বশুরবাড়ি (ছেলেদের) এবং বাপেরবাড়ি (মেয়েদের) থেকেও আসে নতুন জামাকাপড়। প্রথা মেনে পৌড়ারা কাঁচা হলুদ এবং গঁধাউল বাটা মিশ্রণ মেখে স্নান করার পর নতুন জামাকাপড় পরে। কোমরে নতুন ঘুনসি পরিয়ে কপালে লাগানো হয় চন্দনের ফোঁটা। মাথায় পরানো হয় গাঁদা ফুল।

আরও পড়ুন: ভারতে এই প্রথম, কচিকাঁচাদের স্কুলমুখী করতে অভিনব উদ্যোগ যাদবপুর বিদ্যাপীঠের

এ বারের পৌড়া অষ্টমী তিথি অনুযায়ী ছিল শুক্রবার বিকেল ৪.৫৫টা পর্যন্ত। ফলে তিথি ধরে আচর পালন হয়ে গেলেও উৎসবের আমেজ জুড়ে রয়েছে সর্বত্র।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here