কলকাতা : এই প্রথম বার নয়। এর আগেও একাধিক বার ম্যাকডোনাল্ডের খাবার নিয়ে অভিযোগ উঠেছে বিশ্বের অন্য বেশ কয়েকটি দেশেই। এ বারের ঘটনা ভারতে, খোদ কলকাতায়। এ বার সংস্থার আলু ভাজায় মরা টিকিটিকি পাওয়া গেল। ঘটনা মঙ্গলবার ২৮ ফেব্রুয়ারির। জায়গা কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারে ম্যাকডোনাল্ডের একটি দোকান। এ দিন প্রিয়াঙ্কা মৈত্র নামে এক গর্ভবতী মহিলা তাঁর ছোটো মেয়েকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন মুখচাট কিছু খাবার খেতে। ঢুকেছিলেন ম্যাকডোনাল্ডের ওই শাখায়। অর্ডার করেছিলেন মুখোরচক ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের। খাবার টেবিলে দিতেই আনন্দ বদলে গেল ভয়ে। তিনি সংস্থার ওই শাখার নামে এফআইআর করেন ফুলবাগান থানায়। 

 

প্রিয়াঙ্কা বলেন, খুব বড় বিপদ হতে পারত। তিনি ছয় মাসের গর্ভবতী। তাঁর সঙ্গে রয়েছে তাঁর ছোট মেয়েও। মেয়ে বা তিনি যদি ওই খাবার খেয়ে ফেলতেন তা হলে তার ফল হত সাংঘাতিক। তিনি জানান, ঘটনাটি দোকানের ম্যানেজারের সামনে আনলে তিনি দায়সারা গোছের শুধু দুঃখিত বলে এড়িয়ে যান। প্রিয়াঙ্কা মরা টিকিটিকি সমেত খাবারের ছবি তুলে নেন আর কাছের থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর স্বামী সঞ্জয় মৈত্র জানান, সংস্থার দিল্লি আর কলকাতার অফিসে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাদের এই বিষয়ে কোনো মাথাব্যথাই নেই। তারা ক্ষমা তো চায়নি, উলটে এর সত্যিমিথ্যে যাচাই করার জন্য তাদের কাছে পাঠিয়ে দিতে বলে। 

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত করা হবে বলে ম্যাকডোনাল্ডের ভারতের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের মুখপাত্র জানান। 

 

গত বছরের শুরুতেই ম্যাকডোনাল্ডের বার্গারে কৃমির মতো পোকা দেখতে পেয়েছিলেন সিঙ্গাপুরের অ্যাঞ্জেলা কিকি। প্রিয়াঙ্কা তবু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাবার আগেই মরা টিকটিকি দেখতে পেয়েছিলেন। কিন্তু অ্যাঞ্জেলা বার্গারটা প্রায় পুরো খেয়ে ফেলার পর দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি তুলে দিয়েছিলেন। তিনিও জানিয়েছিলেন, সংস্থার কর্মচারীরা মোটেই সহযোগিতা করেননি। প্রিয়াঙ্কাও ও-ই একই অভিযোগ আনেন সংস্থার বিরুদ্ধে। রিপোর্ট থেকে জানা গেছে, অ্যাঞ্জেলাকে সংস্থা পুরো টাকা ফেরত দেয় ঠিকই কিন্তু এই ঘটনার জন্য কোনো রকম দুঃখ প্রকাশ করেনি বা ক্ষমাও চায়নি।

আর একটি ঘটনা ঘটে ২০১৫ সালে। নিউজিল্যান্ডের আনা সোফিয়া স্টিভেনসন ম্যাকডোনাল্ডের বিগ ম্যাক খেতে গিয়ে আরশোলা চিবিয়ে ফেলেন। ওই খাবার অকল্যান্ডে পাঠানো হয় পরীক্ষার জন্য। ঘটনার প্রেক্ষিতে আনাকে ম্যাকডোনাল্ড আরও একটি বার্গার বিনামূল্যে দেয়। 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here