কলকাতা: ডিমনিটাইজেশনের প্রভাব থেকে আগামী কলকাতা বইমেলাকে বাঁচানো যেতে পারে, সেই ব্যাপারে কোনও দিশা দেখাতে পারল না পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড। মঙ্গলবার ৪১ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হল গিল্ডের পক্ষ থেকে। বৈঠকে গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় স্পষ্টই জানালেন, পুরো পরিস্থিতি বুঝতে আরও একমাস সময় লাগবে তাঁদের। সরকারের বিমুদ্রাকরণের ঘোষণার পর থেকে গোটা দেশ জুড়ে ক্রমেই বেড়ে চলেছে নগদের সঙ্কট। এরকম অবস্থায় কতটা প্রভাব পড়তে পারে বইমেলার বাজারে? জানতে চাওয়া হলে ত্রিদিববাবু বলেন, “ইতিমধ্যেই বইয়ের বাজারে ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়েছে। শুধু ক্রেতা এবং বিক্রেতার দিকটা দেখলে পুরো ব্যবস্থাটা বোঝা সম্ভব না। এরা হয়তো নগদের বদলে ডিজিটাল লেনদেন করতে পারবেন। কিন্তু বই ছাপা কিংবা বাঁধানোর সঙ্গে যুক্ত থাকা শ্রমিকদের অধিকাংশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টই নেই”।

ত্রিদিববাবু আরও জানান, নগদের সঙ্কটের ফলে অন্যান্য বছরের তুলনায় পঞ্চাশ শতাংশ কম বই ছাপানো হতে পারে ২০১৭-র বইমেলায়। যদিও এবারের বইমেলায় স্টলের সংখ্যা কমার ইঙ্গিত এখনো নেই। পাঠকদের কথা মাথায় রেখে এবারের বইমেলায় গিল্ড কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেবে কি না, তা জানাতে চলতি মাসের শেষের দিকে আরো একটি সাংবাদিক বৈঠক করা হবে বলে এদিন জানানো হয়েছে গিল্ডের পক্ষ থেকে।

প্রতিটি বইয়ের স্টলে সোয়াইপ মেশিন রাখার অনুরোধ করা হবে গিল্ডের পক্ষ থেকে। এছাড়া রাখা হবে ই ওয়ালেট, মোবাইল এটিএমের ব্যবস্থা। কিন্তু এতকিছুর পরেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে কিনা, যথেষ্ট সংশয়েই রয়েছেন গিল্ড কর্তৃপক্ষ। বর্ধমান বইমেলার অভিজ্ঞতায় কপালে ভাঁজ পড়েছে ত্রিদিববাবুদের। শেষ দিন একটিও সোয়াইপ মেশিন কাজ না করায় প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। 

আগামী বছর ২৫ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিলন মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তক মেলা। ২ থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি হবে চতুর্থ কলকাতা সাহিত্য উৎসব। ২০১৭ সালের বইমেলায় ‘থিম কান্ট্রি’ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ কোস্তারিকাকে। পাশাপাশি বিশেষ সম্মানিত অতিথি দেশ হিসেবে থাকছে রাশিয়া। এই দুই দেশ ছাড়াও বইমেলায় অংশ নিচ্ছে ২৭ টি দেশ।

ছবি- রাজীব বসু

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here