chudamoni
Samir mahat
সমীর মাহাত

মন্ত্রিত্ব খোয়ানোর সঙ্গে কি নিজের “জাত-কুল”ও হারিয়েছেন চুড়ামণি? গোপীবল্লভপুর বিধায়ক চুড়ামণি মাহাতর মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়ার খবর সর্বত্রই ফলাও করে প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কের ঝড়- তিনি কী “জাত-কুল” হারিয়েছেন?

ঘটনাটি হল, গত ৭ জুন মন্ত্রীর এই অপসারণ সংক্রান্ত একটি সর্বভারতীয় বাংলা দৈনিকের খবরে চূড়ামণি মাহাতকে দু’টি জায়গায় “চূড়ামণি হাঁসদা” উল্লেখ করা হয়েছে। “মাহাত” ও “হাঁসদা” একেবারে পৃথক দুই পদবি ও পৃথক দুই জাতি সত্ত্বা। একটি কুড়মি, অন্যটি সাঁওতাল।

সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ বিষয়টি নেহাত সংবাদপত্রের “মুদ্রণভ্রম” হিসেবে গায়ে মেখে নেয়। তথাপি একই ঘটনার ফের পুনরাবৃত্তি ঘটে। ৮ জুন অন্য একটি বাংলা দৈনিকের প্রথম পাতায় ‘রদবদল’ সংক্রান্ত সংবাদে ফের চূড়ামণি মাহাতকে “হাঁসদা” পদবিতে লেখা হয়। এমনিতেই তাঁর মন্ত্রিত্ব বাদ যাওয়ায় গোটা জঙ্গল মহল এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তার উপর এই ঘটনা গোদের উপর বিষফোঁড়া হিসেবে ঘুরপাক খাচ্ছে এলাকায়।

এ ব্যপারে চূড়ামণি মাহাতর ঘনিষ্ট অমিয় মাহাত বলেন, ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়াতেও চাউর হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি মতামতে জানিয়েছেন, মন্ত্রিত্ব থেকে গেলেন, সঙ্গে পদবিটাও বদলে গেল! এ ব্যপারে কোনও মন্তব্য প্রকাশ করেননি চূড়ামণিবাবু।

কুড়মি সমাজের প্রবীণ বিশিষ্ট ব্যক্তি অশোক মুতরুয়ার বলেন, “মন্ত্রী হওয়ার আগে চূড়ামণি মাহাত পাঁচ বছর বিধায়ক ছিলেন, তাঁর নাম তো অতিপরিচিত, এই ঘটনা কাঙ্ক্ষিত নয়”। কুড়মি সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তি বিমল মাহাত বলেন, “মন্ত্রী-বিধায়করা তো সম্মানীয় ব্যক্তি, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ঘটনা তাঁর দল বা মন্ত্রীদের চোখে পড়ছে না! ভুল বর্ননা বা ব্যাখ্যা সামাজিক অপরাধের মধ্যেই পড়ে”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here