এ বার শিকার উৎসব বাঁকুড়ায়, বাঘ মারাকে সমর্থন ‘শিকারি’ আদিবাসীদের

0
27
indrani
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: কয়েকশো বছরের প্রাচীন প্রথা মেনে মঙ্গলবার শিকার উৎসবে অংশ নিলেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের কয়েকশো মানুষ। হাতে কেঁচা, বল্লম, তীরধনুক নিয়ে সারা দিন দাপিয়ে বেড়ালেন বাঁকুড়া-পশ্চিম মেদিনীপুর সীমানায় সিমলাপালের পিঠাবাকড়া-জামবনী  জঙ্গলে।

বাঁকুড়ার জয়পুর, কোতুলপুর, কুচিয়াকোল, জামবনী ছাড়াও পাশের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড়, ঝাড়গ্রাম, আমলাশুলী, ভালুকবাসা থেকেও এ দিন আদিবাসীরা বাঁকুড়ার এই জঙ্গলে বাৎসরিক শিকার উৎসবে যোগ দিলেন। মাস খানেক আগে সিমলাপালের এই পিঠাবাকড়া জঙ্গলে বাঘের পায়ের ছাপ মিলেছিল। গ্রামবাসীদের সেই দাবিকে কেন্দ্র করে বাঘাতঙ্কে ভুগেছিল জঙ্গলমহলের এই এলাকা। তার পর যে মুহূর্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে তখন খবর আসে ‘শিকার উৎসবে অংশ নেওয়া আদিবাসীদের হাতে’ পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড় সংলগ্ন বাঘঘোরার জঙ্গলে মারা গিয়েছে দক্ষিণরায়।

সমাজের বিভিন্ন অংশে আদিবাসীদের এই শিকার উৎসব বন্ধের দাবি উঠছে। আর সম্প্রতি ওই শিকারীদের হাতে ‘পরিযায়ী’ বাঘের মৃত্যুর পর সেই দাবি যখন জোরালো হচ্ছে ঠিক সেই মুহূর্তে সিমলাপালের এই জঙ্গলে শিকার উৎসব নিয়ে প্রশাসন ও বন দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেন স্থানীয় প্রশাসন ও বন দফতরের আধিকারিকরা শিকার উৎসব বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলেন না? প্রশ্ন তুলছেন জঙ্গলমহলের সিংহভাগ মানুষ।

এই বিতর্কের মাঝেই এ দিন শিকার উৎসবে অংশ নেওয়া আদিবাসীরা লালগড়ের বাঘঘোরা জঙ্গলে ‘শিকার উৎসবে’র নামে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হত্যাকারীদের পাশেই দাঁড়ালেন। তাঁরা বলেন, “আমাদের সমাজের চিরকালীন প্রথা আমরা মেনে চলেছি, ভবিষ্যতেও চলব। ওই বাঘ আমাদের সমাজের প্রতিনিধিদের আক্রমণ করেছিল। আমরা পালটা আক্রমণ করেছি।”

ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়িয়ে  ‘শিকারি’ নরেন সরেন বলেন, “এ বিষয়ে ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল লড়াই করছে।” গ্রেফতার হওয়া মানুষদের দ্রুত মুক্তি না দিলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন। সুমাই মুর্মু নামে অন্য এক শিকারি বলেন, “আমরা আমাদের ধর্ম পালন করেছি। বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে এই প্রথা চলে আসছে। আগামী প্রজন্মও একই ভাবে শিকার উৎসবে যোগ দেবে।” আইন করে শিকার উৎসব বন্ধ করা যাবে না বলে তিনিও বাঘ খুনে অভিযুক্তদের দ্রুত মুক্তির দাবি করেন। না হলে আদিবাসী সমাজ একত্রিত হয়ে এই বিষয়ে লড়বে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

এ বিষয়ে সিমলাপাল এলাকার বন দফতরের এক আধিকারিক বাসুদেব রাজোয়াড় বলেন, শিকার উৎসব নিয়ে আমার কাছে কোনো খবর নেই। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দেখব।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here